নাচোলে ইউএনও অফিসের কর্মকর্তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা
মাদরাসা সংস্কারে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তাধীন
- আপডেট সময় : ১৯ বার পড়া হয়েছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট আলীশাপুর দাখিল মাদরাসার সংস্কারের টাকা আত্মসাতের মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের আলীশাপুর দাখিল মাদরাসার ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত টিনের চালা মেরামতের জন্য ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। পিআইসি কমিটির মাধ্যমে বরাদ্দের এই প্রকল্পটি নাচোল এলজিইডি অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী ফাহাদ আলী বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন। পিআইসি কমিটির সভাপতি ফতেপুর ইউপির ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য ইসমোতারার তত্ত্বাবধানে বরাদ্দের ২ লাখ টাকা থেকে ১৫% ভ্যাট ও আইটি কর্তনের পর ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে টিনের চালা পুনঃনির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে মর্মে ওই মাদরাসার সুপার মাওলানা রবিউল ইসলাম যথারীতি প্রত্যয়ন প্রদান করেন।
তবে হঠাৎ করেই প্রকল্পের সভাপতি ইসমোতারা, মাদরাসার সুপার মাওলানা রবিউল ইসলাম ও উপসহকারী প্রকৌশলীর মধ্যে একে অপরকে দোষারোপ শুরু হয়। ইউপি সদস্য (প্রকল্প সভাপতি) ইসমোতারা প্রচার মাধ্যমে সাক্ষাৎকারে জানান যে, প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে হয়নি এবং তাকে না জানিয়ে সভাপতি করা হয়েছে। তবে ওই সাক্ষাৎকারে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসের কোনো কর্মকর্তাকে দোষারোপ করেননি। কিন্তু জনৈক সাংবাদিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে ইউএনও অফিসের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে দোষারোপ করে তার নাম প্রচার করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সাদেকুল ইসলাম জানান, বরাদ্দের ২ লাখ টাকা থেকে ১৫% ভ্যাট ও আইটি বাদে বাকি ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্প সভাপতির অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই, কারণ তিনি প্রকল্পের বিল-ভাউচার, এগ্রিমেন্টসহ সমস্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এমনকি মাদরাসার সুপার রবিউল ইসলামও টিনের চালার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে মর্মে লিখিত প্রত্যয়ন দিয়েছেন। এলজিইডি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলীও কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্প সভাপতি মোসাঃ ইসমোতারা প্রকল্পের ফাইলে স্বাক্ষর ও মাদরাসার সুপার মাওলানা রবিউল ইসলাম প্রত্যয়ন প্রদান করেছেন বলে নিশ্চিত করেন।
এদিকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কোনো অভিযোগ না থাকলেও পিআইসি কমিটির সভাপতির প্রাথমিক অভিযোগকে পুঁজি করে একটি মহল উপজেলা নির্বাহী অফিসের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তাকে দোষারোপ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইউএনও অফিসের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, তিনি শুধু প্রকল্পের চেকটি রেজিস্টারে এন্ট্রি করে ফাইলনোট লিখে ইউএনও’র নিকট উপস্থাপন করেছিলেন। টাকা-পয়সা লেনদেনের অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা জাহিদ হাসান গত ২৭ এপ্রিল অভিযোগটি তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে নাচোল উপজেলায় সাংবাদিকতার আড়ালে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মনগড়া ও মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করার ঘটনায় নাচোল উপজেলা প্রশাসনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।


















