ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকির মধ্যে কেশবপুর ডাকঘরের কার্যক্রম

চার দশকের পুরোনো ভবনে আতঙ্কে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোরের কেশবপুর উপজেলা ডাকঘরটি এখন যেন এক নীরব বিপদের নাম। প্রায় চার দশক আগে নির্মিত ভবনটি সময়ের ভারে আজ জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবুও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম।
কেশবপুর শহরের হাসপাতাল সড়কের পাশে অবস্থিত এই ডাকঘর ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ছাদের প্লাস্টার খসে রড বেরিয়ে গেছে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে নোনা ধরে প্লাস্টার উঠে ইট উন্মুক্ত হয়ে আছে। কোথাও কোথাও প্লাস্টার খসে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথিপত্র নষ্ট হচ্ছে। পুরো ভবনটি দেখে মনে হয় যেন বহুদিনের পরিত্যক্ত কোনো স্থাপনা।
ডাকঘর সূত্র জানায়, ভবনটি ১৯৮০ সালের দিকে নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন এটি নড়বড়ে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ২০১৩ সালে সাভারের ভয়াবহ রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি-এর পর স্থানীয় পৌরসভা ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার জন্য চিঠি দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ডাকঘরের সহকারী পরিদর্শক অশোক কুমার দাস জানান, একবার তাঁর কর্মস্থলের ওপরেই ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে। পরে তা মেরামত করা হলেও আতঙ্ক কাটেনি। “প্রতিদিনই ভয় নিয়ে কাজ করতে হয়—কখন কী ঘটে বলা যায় না,” বলেন তিনি।
অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরাও একই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, একবার ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে বৈদ্যুতিক পাখা ভেঙে পোস্টমাস্টারের টেবিলের ওপর পড়েছিল। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এরপর মেরামত করে আবার পাখা ঝোলানো হলেও ঝুঁকি রয়ে গেছে।
ডাকঘরের নিয়মিত সেবাগ্রহীতা আব্দুল জলিল বলেন, “বছরের পর বছর ধরে এই ভবনের এমন অবস্থা দেখছি। এখানে আসলেই ভয় লাগে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি।”
পোস্টমাস্টার লিনটন কুমার সরকার জানান, ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে, ডাকঘরটির সাবেক পোস্টমাস্টার রবিউল হকও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা হওয়ার পর তিনিও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন।
যশোর অঞ্চলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মাজাহার হোসেন বলেন, শুধু কেশবপুর নয়, দেশের অনেক ডাকঘর ভবনই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নতুন ভবন নির্মাণ বা নিরাপদ স্থানে ডাকঘরের কার্যক্রম স্থানান্তর করা হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকির মধ্যে কেশবপুর ডাকঘরের কার্যক্রম

চার দশকের পুরোনো ভবনে আতঙ্কে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা

আপডেট সময় :

যশোরের কেশবপুর উপজেলা ডাকঘরটি এখন যেন এক নীরব বিপদের নাম। প্রায় চার দশক আগে নির্মিত ভবনটি সময়ের ভারে আজ জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবুও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম।
কেশবপুর শহরের হাসপাতাল সড়কের পাশে অবস্থিত এই ডাকঘর ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ছাদের প্লাস্টার খসে রড বেরিয়ে গেছে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে নোনা ধরে প্লাস্টার উঠে ইট উন্মুক্ত হয়ে আছে। কোথাও কোথাও প্লাস্টার খসে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথিপত্র নষ্ট হচ্ছে। পুরো ভবনটি দেখে মনে হয় যেন বহুদিনের পরিত্যক্ত কোনো স্থাপনা।
ডাকঘর সূত্র জানায়, ভবনটি ১৯৮০ সালের দিকে নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন এটি নড়বড়ে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ২০১৩ সালে সাভারের ভয়াবহ রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি-এর পর স্থানীয় পৌরসভা ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার জন্য চিঠি দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ডাকঘরের সহকারী পরিদর্শক অশোক কুমার দাস জানান, একবার তাঁর কর্মস্থলের ওপরেই ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে। পরে তা মেরামত করা হলেও আতঙ্ক কাটেনি। “প্রতিদিনই ভয় নিয়ে কাজ করতে হয়—কখন কী ঘটে বলা যায় না,” বলেন তিনি।
অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরাও একই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, একবার ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে বৈদ্যুতিক পাখা ভেঙে পোস্টমাস্টারের টেবিলের ওপর পড়েছিল। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এরপর মেরামত করে আবার পাখা ঝোলানো হলেও ঝুঁকি রয়ে গেছে।
ডাকঘরের নিয়মিত সেবাগ্রহীতা আব্দুল জলিল বলেন, “বছরের পর বছর ধরে এই ভবনের এমন অবস্থা দেখছি। এখানে আসলেই ভয় লাগে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি।”
পোস্টমাস্টার লিনটন কুমার সরকার জানান, ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে, ডাকঘরটির সাবেক পোস্টমাস্টার রবিউল হকও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা হওয়ার পর তিনিও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন।
যশোর অঞ্চলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মাজাহার হোসেন বলেন, শুধু কেশবপুর নয়, দেশের অনেক ডাকঘর ভবনই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নতুন ভবন নির্মাণ বা নিরাপদ স্থানে ডাকঘরের কার্যক্রম স্থানান্তর করা হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।