ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বড়লেখায় তীব্র পানির সংকট, ৩ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৬১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তীব্র পানির সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষি খাত। উপজেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি শুধুমাত্র পানির অভাবে অনাবাদি পড়ে আছে।
বর্তমানে আউশ ও বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। শুধু অনাবাদি জমিই নয়, যেসব জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে, সেখানেও আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন না কৃষকরা। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রায় শতাধিক স্থানে পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় প্রতি মৌসুমেই বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো সেচের পানি না পাওয়ায় তারা চাইলেও আউশ ও বোরো ধানের আবাদ করতে পারছেন না। অনেকেই বাধ্য হয়ে জমি ফেলে রাখছেন, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত খাল খনন, আধুনিক স্লুইস গেইট নির্মাণ এবং গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় সচেতন মহলও একই দাবি জানিয়েছেন। কলাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ছয়ফুল হক বলেন, কৃষকদের ক্ষতি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনোয়ার হোসেন জানান, ইতোমধ্যে খাল খনন এবং ৪৮টি স্লুইস গেইট নির্মাণের প্রস্তাব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে খাল খনন কাজ সম্পন্ন করা হবে এবং কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে।
কৃষকদের আশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে অনাবাদি জমিগুলো আবারও চাষের আওতায় আসবে এবং কৃষি উৎপাদনে আসবে নতুন গতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বড়লেখায় তীব্র পানির সংকট, ৩ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি

আপডেট সময় :

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তীব্র পানির সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষি খাত। উপজেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি শুধুমাত্র পানির অভাবে অনাবাদি পড়ে আছে।
বর্তমানে আউশ ও বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। শুধু অনাবাদি জমিই নয়, যেসব জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে, সেখানেও আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন না কৃষকরা। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রায় শতাধিক স্থানে পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় প্রতি মৌসুমেই বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো সেচের পানি না পাওয়ায় তারা চাইলেও আউশ ও বোরো ধানের আবাদ করতে পারছেন না। অনেকেই বাধ্য হয়ে জমি ফেলে রাখছেন, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত খাল খনন, আধুনিক স্লুইস গেইট নির্মাণ এবং গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় সচেতন মহলও একই দাবি জানিয়েছেন। কলাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ছয়ফুল হক বলেন, কৃষকদের ক্ষতি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনোয়ার হোসেন জানান, ইতোমধ্যে খাল খনন এবং ৪৮টি স্লুইস গেইট নির্মাণের প্রস্তাব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে খাল খনন কাজ সম্পন্ন করা হবে এবং কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে।
কৃষকদের আশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে অনাবাদি জমিগুলো আবারও চাষের আওতায় আসবে এবং কৃষি উৎপাদনে আসবে নতুন গতি।