ডিমলায় এক যুগ ধরে নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন গ্রাম্য পুলিশের
- আপডেট সময় : ২৯ বার পড়া হয়েছে
আইন প্রয়োগ ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা এক গ্রাম্য পুলিশের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বরত গ্রাম্য পুলিশ সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় এক যুগ ধরে নাউতারা নদীর বুক থেকে বোমা মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন সাদ্দাম হোসেন। গ্রাম্য পুলিশের দায়িত্বে থাকলেও তিনি বালু ব্যবসায়ী হিসেবেই এলাকায় বেশি পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় তিনি নির্ভয়ে এ অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। তিনি প্রতিদিন নাউতারা নদী থেকে ১৫ /২০ ট্রলি বালু উত্তোলন করে স্তুপ করে রাখেন, পরবর্তীতে নিজস্ব ট্রাকটার জোগে প্রতি ট্রাক্টর বালু ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে বিক্রি করেন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন চললেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ তার কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন (৩০) নাউতারা ইউনিয়নের নাউতারা গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বরত গ্রাম্য পুলিশ এবং মো, ইব্রাহিম আলীর ছেলে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাদ্দাম হোসেন বলেন, অনেকেই নাউতারা নদী থেকে বালু তুলে ব্যবসা করছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাহলে আমি করলে দোষ কোথায়?
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্য কেউ অপরাধ করলেও তা কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের জন্য বৈধতার অজুহাত হতে পারে না। বরং দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন কর্মকাণ্ড আইন ও নৈতিকতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমরানুজ্জামান বলেন, নদী বা মাটির তলদেশ থেকে বালু কিংবা পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। আইন সবার জন্য সমান। অপরাধী সাধারণ মানুষ হোক কিংবা গ্রাম্য পুলিশ, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল নাউতারা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা, পরিবেশ ধ্বংস রোধ এবং অভিযুক্ত গ্রাম্য পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, রক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা প্রশাসনের ভাবমূর্তির জন্যও বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দেবে।
















