ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

তীব্র ভাঙনে দিশেহারা পদ্মা নদীবর্তী রাজবাড়ীর বাসিন্দা

আতিয়ার রহমান, রাজবাড়ী
  • আপডেট সময় : ১৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

* হুমকিতে হাজারো বিঘা ফসলি জমি, শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

রাজবাড়ীর পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলার দুটি ইউনিয়নের চারটি, রাজবাড়ী সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন কালোখালী উপজেলার দুইটি পাংশা উপজেলার দুইটি, বালিয়াকান্দি উপজেলার দুইটিসহ মোট এগারোটা ইউনিয়ন গত একমাস ধরে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় এ অঞ্চলের হাজারো বিঘা ফসলী জমি, কয়েকশো জনবসতি, শিক্ষা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট ভাঙ্গন হুমকীতে পরেছে।
গত কয়েক দশক ধরে রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে দিশেহারা পাঁচ উপজেলার নদী কেন্দ্রিক হাজার হাজার মানুষ।প্রতিবছরই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে ভাঙ্গনের কবলে পরে পদ্মা তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা।
গত একমাস ধরে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের উত্তর চর দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাাম ইউনিয়নের, মুন্সি বাজার,কাওয়ালজানি ও দেব্রগ্রাম সহ চারটি গ্রামে তীব্র নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় এ অঞ্চল গুলোর শত শত বিঘা ফসলী জমি, কয়েকশো জনবসতি, ধর্মীয়, শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গন হুমকীতে পরেছে। ভাঙ্গনের ফলে এখানকার একমাত্র চলাচলের কাচা রাস্তাটিও নদী গর্ভে বিলী হয়েছে।বার বার ভাঙ্গনে এখন দিশেহারা নদী ভাঙ্গন কবলিত সাধারন মানুষ। ভাঙ্গনের ফলে হারানোর আর কোন সম্পদ তাদের অবশিষ্ট নেই এখানকার মানুষের। শেষ সম্বল হারানোর ভয়ে দিন রাত পার করছেন তারা।অনেকেই এখন অন্যের জমিতে বসবাস করছেন।তবে ভোটের আগে জনপ্রতিনিধিরা নদী ভাঙ্গন সহ যেসব প্রতিশ্রুতি দেন ভোট শেষ হলে নদী ভাঙ্গনে তারা আর কোন কাজ করেন না বলে আক্ষেপ জানান ভুক্তভোগীরা। ভাঙ্গন স্থানে জরুরী ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগের বস্তা ফেলার অনুরোধ জানান এলাকাবাসির।
নদী পারে বসবাসরত ভুক্তভোগী সাধারন মানুষ বলেন, বার বার ভাঙ্গনে এখন আমাদের অবশিষ্ট কিছু নেই।ফসলী জমি, নদীতে বিলীন হচ্ছে।বার বার বাড়ি ঘর নদীতে বিলীন হওয়ায় এখন আর কোথাও বসতি করার জায়গা নেই।ভাঙ্গন ঠেকাতে জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবী জানান তারা।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের মোঃ দুলাল মন্ডল বলেন,আমরা নদী পাড়ের বাসিন্দা। প্রতি বছরই বর্ষার সাথে প্রচন্ড ভাঙ্গনের শিকার হতে হয়। বর্ষা এলেই আমরা দিশেহারা হয়ে পরি।প্রায় প্রতি বছরই বাড়ি ভেঙে সরে যেতে হয়।এতে আমরা নদী পারের জনগন শেষ হতে চলেছি।নদী ভাঙন রোধে স্হায়ী সমাধানের প্রয়োজন।
সোহরাব ব্যাপারি বলেন,আপনারা সাংবাদিক প্রতি বছরই আমাদের কাছ থেকে বক্তব্য নেন নিউজও করেন,কিন্তু কোন কাজ হয় না।আমাদের কারও নিকট আর কোন চাওয়া নেই।কেও আমাদের রক্ষা করবেনা। শুধু নির্বাচন আসলেই আশার বানী দিয়ে যায়।নির্বাচন শেষ আর কোন খবর থাকে না।আমাদের রক্ষা করবে কে?
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার বলেন,ভাঙ্গন স্থানে জেলা প্রশাসন সহ কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন।উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট ভাঙ্গন স্থানের তথ্য পাঠানো হয়েছে। কতৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান।তবে ভাঙন কবলিত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে। ভাঙন অঞ্চলের জন্য যাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় তার জন্য আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট চাহিদা চাওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তীব্র ভাঙনে দিশেহারা পদ্মা নদীবর্তী রাজবাড়ীর বাসিন্দা

আপডেট সময় :

* হুমকিতে হাজারো বিঘা ফসলি জমি, শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

রাজবাড়ীর পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলার দুটি ইউনিয়নের চারটি, রাজবাড়ী সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন কালোখালী উপজেলার দুইটি পাংশা উপজেলার দুইটি, বালিয়াকান্দি উপজেলার দুইটিসহ মোট এগারোটা ইউনিয়ন গত একমাস ধরে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় এ অঞ্চলের হাজারো বিঘা ফসলী জমি, কয়েকশো জনবসতি, শিক্ষা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট ভাঙ্গন হুমকীতে পরেছে।
গত কয়েক দশক ধরে রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে দিশেহারা পাঁচ উপজেলার নদী কেন্দ্রিক হাজার হাজার মানুষ।প্রতিবছরই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে ভাঙ্গনের কবলে পরে পদ্মা তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা।
গত একমাস ধরে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের উত্তর চর দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাাম ইউনিয়নের, মুন্সি বাজার,কাওয়ালজানি ও দেব্রগ্রাম সহ চারটি গ্রামে তীব্র নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় এ অঞ্চল গুলোর শত শত বিঘা ফসলী জমি, কয়েকশো জনবসতি, ধর্মীয়, শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গন হুমকীতে পরেছে। ভাঙ্গনের ফলে এখানকার একমাত্র চলাচলের কাচা রাস্তাটিও নদী গর্ভে বিলী হয়েছে।বার বার ভাঙ্গনে এখন দিশেহারা নদী ভাঙ্গন কবলিত সাধারন মানুষ। ভাঙ্গনের ফলে হারানোর আর কোন সম্পদ তাদের অবশিষ্ট নেই এখানকার মানুষের। শেষ সম্বল হারানোর ভয়ে দিন রাত পার করছেন তারা।অনেকেই এখন অন্যের জমিতে বসবাস করছেন।তবে ভোটের আগে জনপ্রতিনিধিরা নদী ভাঙ্গন সহ যেসব প্রতিশ্রুতি দেন ভোট শেষ হলে নদী ভাঙ্গনে তারা আর কোন কাজ করেন না বলে আক্ষেপ জানান ভুক্তভোগীরা। ভাঙ্গন স্থানে জরুরী ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগের বস্তা ফেলার অনুরোধ জানান এলাকাবাসির।
নদী পারে বসবাসরত ভুক্তভোগী সাধারন মানুষ বলেন, বার বার ভাঙ্গনে এখন আমাদের অবশিষ্ট কিছু নেই।ফসলী জমি, নদীতে বিলীন হচ্ছে।বার বার বাড়ি ঘর নদীতে বিলীন হওয়ায় এখন আর কোথাও বসতি করার জায়গা নেই।ভাঙ্গন ঠেকাতে জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবী জানান তারা।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের মোঃ দুলাল মন্ডল বলেন,আমরা নদী পাড়ের বাসিন্দা। প্রতি বছরই বর্ষার সাথে প্রচন্ড ভাঙ্গনের শিকার হতে হয়। বর্ষা এলেই আমরা দিশেহারা হয়ে পরি।প্রায় প্রতি বছরই বাড়ি ভেঙে সরে যেতে হয়।এতে আমরা নদী পারের জনগন শেষ হতে চলেছি।নদী ভাঙন রোধে স্হায়ী সমাধানের প্রয়োজন।
সোহরাব ব্যাপারি বলেন,আপনারা সাংবাদিক প্রতি বছরই আমাদের কাছ থেকে বক্তব্য নেন নিউজও করেন,কিন্তু কোন কাজ হয় না।আমাদের কারও নিকট আর কোন চাওয়া নেই।কেও আমাদের রক্ষা করবেনা। শুধু নির্বাচন আসলেই আশার বানী দিয়ে যায়।নির্বাচন শেষ আর কোন খবর থাকে না।আমাদের রক্ষা করবে কে?
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার বলেন,ভাঙ্গন স্থানে জেলা প্রশাসন সহ কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন।উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট ভাঙ্গন স্থানের তথ্য পাঠানো হয়েছে। কতৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান।তবে ভাঙন কবলিত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে। ভাঙন অঞ্চলের জন্য যাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় তার জন্য আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট চাহিদা চাওয়া হয়েছে।