ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাচ্ছে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক

পথচারীদের দুর্ভোগ, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশে সড়কের দুই পাশজুড়ে ঝোপঝাড়, আগাছা ও গাছের ডালপালা বিস্তার লাভ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশ পরিষ্কার না করায় অনেক স্থানে গাছের ডাল ও লতাপাতা মূল সড়কের ওপর ঝুঁকে পড়েছে। এতে সড়ক সরু হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যান চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন অংশে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়ন গোয়াসপুর এলাকার সড়কের অধিকাংশ স্থানে পথচারীদের জন্য নির্ধারিত পাশের অংশ ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে মূল সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। কোনো যানবাহন সামনে এলে সরে দাঁড়ানোর মতো নিরাপদ জায়গাও নেই। বিশেষ করে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এছাড়া সড়কের বিভিন্ন বাঁক, মোড় ও ঢালু অংশে ঝোপঝাড় এতটাই ঘন হয়ে গেছে যে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখা যায় না। অনেক স্থানে গাছের ডালপালা সড়কের ওপর ঝুঁকে পড়ায় বড় যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সড়কের দুই পাশের আগাছা ও ঝোপঝাড় শুধু পথচারীদের চলাচলই ব্যাহত করছে না, বরং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্দেশক চিহ্ন, কিলোমিটার ফলক, বাঁকের সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং দিকনির্দেশনামূলক চিহ্নও লতাপাতার আড়ালে ঢেকে গেছে। ফলে বিশেষ করে রাতে বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
পথচারী কামাল হোসেন, হুমায়ন কবিরসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, সড়কের পাশের অংশ পুরোপুরি জঙ্গলে পরিণত হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটছেন। কোনো যানবাহন সামনে এলে নিরাপদে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে না। এতে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তারা অবিলম্বে সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কারের দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে সংঘটিত এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোলাপগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি জাহিদ উদ্দিনের মামা নিহত হন। একই দুর্ঘটনায় পরিবারের আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
বাসচালক আব্দুর রহমান ও ট্রাকচালক আব্দুল হান্নান বলেন, সড়কের দুই পাশের ছোট ছোট গাছপালা ও ঝোপঝাড় এতটাই বড় হয়ে গেছে যে রাস্তার পাশ থেকে মানুষ, মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যানবাহন বের হয়ে আসছে কি না তা বোঝা যায় না। এমনকি গরু-ছাগল বা অন্যান্য প্রাণী হঠাৎ সড়কে উঠে এলে দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় প্রাণী গাড়ির নিচে চাপা পড়ে এবং চালকদেরও দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়।
অটোরিকশাচালক তাওহিদ আহমদ বলেন, সড়কের দু’পাশে ঝোপঝাড় থাকায় গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পথচারীদের হাঁটার জায়গা না থাকায় তারা মূল সড়ক ব্যবহার করেন। আবার দিনের বেলায়ও ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে হঠাৎ মানুষ বা গবাদিপশু সড়কে উঠে আসে। তখন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সচেতন মহলের মতে, সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম আঞ্চলিক মহাসড়ক। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। অথচ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কের দুই পাশ ঝোপঝাড়ে ভরে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে গেছে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ঝোপঝাড় পরিষ্কার, সড়ক নির্দেশক চিহ্ন দৃশ্যমান করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সিলেট সড়ক বিভাগ গোলাপগঞ্জের উপ সহকারী প্রকৌশলী অনুরূপ দেব চৌধুরী বলেন, “সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা আমাদের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের অংশ। কাজ চলমান রয়েছে, দ্রুত সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় কেটে পরিষ্কার করার কাজ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে অন্তত আংশিকভাবে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাচ্ছে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক

পথচারীদের দুর্ভোগ, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

আপডেট সময় :

সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশে সড়কের দুই পাশজুড়ে ঝোপঝাড়, আগাছা ও গাছের ডালপালা বিস্তার লাভ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশ পরিষ্কার না করায় অনেক স্থানে গাছের ডাল ও লতাপাতা মূল সড়কের ওপর ঝুঁকে পড়েছে। এতে সড়ক সরু হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যান চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন অংশে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়ন গোয়াসপুর এলাকার সড়কের অধিকাংশ স্থানে পথচারীদের জন্য নির্ধারিত পাশের অংশ ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে মূল সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। কোনো যানবাহন সামনে এলে সরে দাঁড়ানোর মতো নিরাপদ জায়গাও নেই। বিশেষ করে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এছাড়া সড়কের বিভিন্ন বাঁক, মোড় ও ঢালু অংশে ঝোপঝাড় এতটাই ঘন হয়ে গেছে যে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখা যায় না। অনেক স্থানে গাছের ডালপালা সড়কের ওপর ঝুঁকে পড়ায় বড় যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সড়কের দুই পাশের আগাছা ও ঝোপঝাড় শুধু পথচারীদের চলাচলই ব্যাহত করছে না, বরং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্দেশক চিহ্ন, কিলোমিটার ফলক, বাঁকের সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং দিকনির্দেশনামূলক চিহ্নও লতাপাতার আড়ালে ঢেকে গেছে। ফলে বিশেষ করে রাতে বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
পথচারী কামাল হোসেন, হুমায়ন কবিরসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, সড়কের পাশের অংশ পুরোপুরি জঙ্গলে পরিণত হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটছেন। কোনো যানবাহন সামনে এলে নিরাপদে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে না। এতে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তারা অবিলম্বে সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কারের দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে সংঘটিত এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোলাপগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি জাহিদ উদ্দিনের মামা নিহত হন। একই দুর্ঘটনায় পরিবারের আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
বাসচালক আব্দুর রহমান ও ট্রাকচালক আব্দুল হান্নান বলেন, সড়কের দুই পাশের ছোট ছোট গাছপালা ও ঝোপঝাড় এতটাই বড় হয়ে গেছে যে রাস্তার পাশ থেকে মানুষ, মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যানবাহন বের হয়ে আসছে কি না তা বোঝা যায় না। এমনকি গরু-ছাগল বা অন্যান্য প্রাণী হঠাৎ সড়কে উঠে এলে দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় প্রাণী গাড়ির নিচে চাপা পড়ে এবং চালকদেরও দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়।
অটোরিকশাচালক তাওহিদ আহমদ বলেন, সড়কের দু’পাশে ঝোপঝাড় থাকায় গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পথচারীদের হাঁটার জায়গা না থাকায় তারা মূল সড়ক ব্যবহার করেন। আবার দিনের বেলায়ও ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে হঠাৎ মানুষ বা গবাদিপশু সড়কে উঠে আসে। তখন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সচেতন মহলের মতে, সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম আঞ্চলিক মহাসড়ক। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। অথচ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কের দুই পাশ ঝোপঝাড়ে ভরে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে গেছে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ঝোপঝাড় পরিষ্কার, সড়ক নির্দেশক চিহ্ন দৃশ্যমান করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সিলেট সড়ক বিভাগ গোলাপগঞ্জের উপ সহকারী প্রকৌশলী অনুরূপ দেব চৌধুরী বলেন, “সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা আমাদের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের অংশ। কাজ চলমান রয়েছে, দ্রুত সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় কেটে পরিষ্কার করার কাজ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে অন্তত আংশিকভাবে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।