ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

দাগনভূঞা তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে বদলে যাচ্ছে কৃষিচিত্র

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ২২ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৃষকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও কৃষি সেবা সহজলভ্য করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি বিভাগ। আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্য প্রযুক্তি পদ্ধতির ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ কৃষকদের মাঝে দ্রুত ও কার্যকর সেবা পৌঁছে দিয়ে ইতোমধ্যে আস্থা অর্জন করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে গিয়ে মোবাইল ও ট্যাবের মাধ্যমে কৃষি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করছেন। পাশাপাশি কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে, ফলে সেবার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষকদের জন্য ‘খামারি অ্যাপ’, ‘বালাইনাশক সহায়িকা’, ‘কৃষকের অ্যাপ’ (ধান বিক্রয়ের জন্য) ও ‘আমার পুষ্টি’সহ বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করে মাঠ পর্যায়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে। এসব আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সরেজমিনে পৌর শহরের চাঁনপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা লুৎফুল হায়দার ভূঁইয়া ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম কৃষকদের নিয়ে মাঠে বসে মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন কৃষি পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা ধানের জমিতে ব্লাস্ট রোগের লক্ষন, প্রতিরোধ ও করণীয় বিষয়ে আগাম সতর্কতা প্রদান করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে ফসল ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনের কৌশলও তুলে ধরছেন। স্থানীয় কৃষক ধীরেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, “মোবাইলের মাধ্যমে ধানের চাষাবাদ, রোগ ও পোকামাকড় সম্পর্কে সরাসরি দেখলাম। কখন কী সার দিতে হবে, কীভাবে রোগ প্রতিরোধ করতে হবে-এসব বিষয় সহজভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
কৃষি কর্মকর্তাকে আরেক কৃষক জানান, “কৃষি অফিসের লোকজন মাঠে এসে পরামর্শ দেন। কোনো সমস্যা হলে ফোন দিলেই সমাধান পাওয়া যায়। আগে আমার জমিতে পোকার আক্রমণ হয়েছিল, তাদের পরামর্শে ভালো ফল পেয়েছি।” উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “খামারি অ্যাপসহ বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে মাটির গুণগত মান, উপযুক্ত ফসল নির্বাচন, সার প্রয়োগের মাত্রা ও আবহাওয়া সম্পর্কে কৃষকরা সহজেই জানতে পারেন। এসব অ্যাপ ব্যবহারে খরচ কমে এবং উৎপাদন বাড়ে।” উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা লুৎফুল হায়দার ভূঁইয়া বলেন, “প্রযুক্তির উন্নয়নে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরাও এখন উপকৃত হচ্ছেন। অনলাইন কৃষি সেবার মাধ্যমে মাঠে বসেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাচ্ছেন তারা। কৃষকদের যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সমাধান দিতে আমরা সবসময় কাজ করছি।” দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান জানান, “উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় কর্মরত সব উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিয়মিত কৃষি সেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র থেকেও সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে অনেক কৃষক স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন, তাই তাদের কাছে বিভিন্ন কৃষি অ্যাপ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ফেসবুক পেজের মাধ্যমেও কৃষি বিষয়ক তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “মাঠ পর্যায়ে সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং হাতে-কলমে আধুনিক চাষাবাদ শেখানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।” সার্বিকভাবে, ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দাগনভূঞার কৃষিতে এসেছে নতুন গতি, আর কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে সহজ ও কার্যকর কৃষি সেবা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দাগনভূঞা তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে বদলে যাচ্ছে কৃষিচিত্র

আপডেট সময় :

কৃষকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও কৃষি সেবা সহজলভ্য করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি বিভাগ। আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্য প্রযুক্তি পদ্ধতির ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ কৃষকদের মাঝে দ্রুত ও কার্যকর সেবা পৌঁছে দিয়ে ইতোমধ্যে আস্থা অর্জন করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে গিয়ে মোবাইল ও ট্যাবের মাধ্যমে কৃষি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করছেন। পাশাপাশি কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে, ফলে সেবার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষকদের জন্য ‘খামারি অ্যাপ’, ‘বালাইনাশক সহায়িকা’, ‘কৃষকের অ্যাপ’ (ধান বিক্রয়ের জন্য) ও ‘আমার পুষ্টি’সহ বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করে মাঠ পর্যায়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে। এসব আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সরেজমিনে পৌর শহরের চাঁনপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা লুৎফুল হায়দার ভূঁইয়া ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম কৃষকদের নিয়ে মাঠে বসে মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন কৃষি পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা ধানের জমিতে ব্লাস্ট রোগের লক্ষন, প্রতিরোধ ও করণীয় বিষয়ে আগাম সতর্কতা প্রদান করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে ফসল ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনের কৌশলও তুলে ধরছেন। স্থানীয় কৃষক ধীরেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, “মোবাইলের মাধ্যমে ধানের চাষাবাদ, রোগ ও পোকামাকড় সম্পর্কে সরাসরি দেখলাম। কখন কী সার দিতে হবে, কীভাবে রোগ প্রতিরোধ করতে হবে-এসব বিষয় সহজভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
কৃষি কর্মকর্তাকে আরেক কৃষক জানান, “কৃষি অফিসের লোকজন মাঠে এসে পরামর্শ দেন। কোনো সমস্যা হলে ফোন দিলেই সমাধান পাওয়া যায়। আগে আমার জমিতে পোকার আক্রমণ হয়েছিল, তাদের পরামর্শে ভালো ফল পেয়েছি।” উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “খামারি অ্যাপসহ বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে মাটির গুণগত মান, উপযুক্ত ফসল নির্বাচন, সার প্রয়োগের মাত্রা ও আবহাওয়া সম্পর্কে কৃষকরা সহজেই জানতে পারেন। এসব অ্যাপ ব্যবহারে খরচ কমে এবং উৎপাদন বাড়ে।” উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা লুৎফুল হায়দার ভূঁইয়া বলেন, “প্রযুক্তির উন্নয়নে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরাও এখন উপকৃত হচ্ছেন। অনলাইন কৃষি সেবার মাধ্যমে মাঠে বসেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাচ্ছেন তারা। কৃষকদের যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সমাধান দিতে আমরা সবসময় কাজ করছি।” দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান জানান, “উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় কর্মরত সব উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিয়মিত কৃষি সেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র থেকেও সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে অনেক কৃষক স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন, তাই তাদের কাছে বিভিন্ন কৃষি অ্যাপ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ফেসবুক পেজের মাধ্যমেও কৃষি বিষয়ক তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “মাঠ পর্যায়ে সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং হাতে-কলমে আধুনিক চাষাবাদ শেখানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।” সার্বিকভাবে, ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দাগনভূঞার কৃষিতে এসেছে নতুন গতি, আর কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে সহজ ও কার্যকর কৃষি সেবা।