পল্লী বিদ্যুতের অবহেলায় গো খামারির স্বপ্ন পুড়ে ছাঁই
- আপডেট সময় : ৬২ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় বৈদ্যুতিক মিটারের ত্রুটি থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে এক দিনমজুর পরিবারের বসতঘর ও গো-খামার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় জীবন্ত দগ্ধ হয়ে ৪টি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর বৈশাখী গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব কবিরাজের বাড়িতে গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সুবর্ণচর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে এর আগেই আগুনে ৪টি দুগ্ধজাত গরু, একটি বসতঘর, একটি মোটরসাইকেল, একটি বাইসাইকেল এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে যায়।
ভুক্তভোগী সোহরাব কবিরাজ অভিযোগ করে বলেন, বৈদ্যুতিক মিটারের ত্রুটির কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পল্লী বিদ্যুতের অবহেলার কারণেই তাদের জীবনের সঞ্চয় ও স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি তোলেন।
এ সময় নোয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইসহাক খন্দকার বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার কারণে একটি পরিবার আজ সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দ্রুত সরকারি সহায়তা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মোহাম্মদ শাহজাহানের পুত্র আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সবুজ মুঠোফোনে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ঘটনার খবর পেয়ে চর জব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তার নির্দেশনায় থানার ডিউটি অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওসি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুবর্ণচর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের কর্মকর্তা আরব আলী শেখ জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। ইতোমধ্যে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করত। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের জীবন-জীবিকা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাই দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

















