ঢাকা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শেখ হাসিনা ফিরলে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে: নাহিদ ইসলাম Logo আদমদীঘিতে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo গৌরীপুরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হাত ভাঙার অভিযোগ, স্বর্ণের চেইন ছিনতাই Logo সেন্টমার্টিনে ১০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে কোস্ট গার্ডের ত্রাণ সহায়তা Logo গোমস্তাপুরে পৃথক অভিযানে এস্কাফ সিরাপ ও গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo আগৈলঝাড়া থানায় হামলার মামলায় ১৮ জন গ্রেপ্তার Logo নান্দাইলে আধুনিক রেলস্টেশন ও এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজের দাবি Logo মাদক নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা নিয়ে নড়াইলে আলোচনা Logo ঘাটাইলে মিন্টু হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন Logo নান্দাইলে ব্রিজের পাশের মাটি সরে দুর্ভোগ, ঝুঁকিতে দুই উপজেলার মানুষ

প্রথম দিন নির্বাহী আদেশের ঝড় তুললেন ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ৪৩২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করেছেন। অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্ষমার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদেশগুলো জারি করা হয়। ট্রাম্পের বেশ কিছু আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে, সংবিধানের বিরুদ্ধে যাওয়া অভিবাসন সংক্রান্ত আদেশগুলো আইনগত জটিলতায় পড়তে পারে। মট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম দিনের আদেশগুলো তার দ্বিতীয় মেয়াদের কৌশলগুলো স্পষ্ট করেছে।

অভিবাসননীতিতে কড়াকড়ি : ওভাল অফিসে প্রথমেই ট্রাম্প দক্ষিণ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এটি একটি বড় পদক্ষেপ। একইসঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মগত নাগরিকত্ব বন্ধে একটি বিতর্কিত আদেশ জারি করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ। সীমান্ত সিল করার জন্য সামরিক বাহিনী মোতায়েন এবং মাদক পাচার, মানব পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। এ ছাড়া, মেক্সিকোতে থাকুন নামে পরিচিত অভিবাসন নীতি পুনর্বহাল করেন। যার মাধ্যমে ৭০ হাজারেরও বেশি আশ্রয়প্রার্থীকে সীমান্ত পার হয়ে শুনানির জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

জলবায়ু ও জ্বালানি : ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে পুনরায় বেরিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন। তিনি আলাস্কার প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করেন, যেখানে আরও তেল এবং গ্যাস অনুসন্ধান করার কথা বলা হয়। ‘গ্রিন নিউ ডিল’ নামে পরিচিত বাইডেন প্রশাসনের সবুজ প্রকল্পগুলো বাতিল করার আদেশ দেন তিনি। পাশাপাশি, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর দেওয়া ভর্তুকিও প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রত্যাহার : ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করার আদেশ দিয়েছেন। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও’র ভূমিকা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : ট্রাম্প সরকারি সংস্থাগুলোর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সমালোচনা করে ‘রাজনৈতিক অস্ত্রায়ন’ বন্ধে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এ আদেশের আওতায় বাইডেন প্রশাসনের সময়কার গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করার কথা বলা হয়।

পুঁজিবাজার ও প্রযুক্তি খাতে পরিবর্তন : ট্রাম্প টিকটক-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রক্রিয়া ৭৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখেন এবং চীনা মালিকানাধীন কোম্পানির সঙ্গে মার্কিন অংশীদার খোঁজার নির্দেশ দেন।
অভ্যন্তরীণ সংস্কার : গালফ অব মেক্সিকো-এর নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার জন্যও একটি আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। এ ছাড়া, আলাস্কার মাউন্ট ডেনালির নাম পুনরায় মাউন্ট ম্যাককিনলে রাখার নির্দেশ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রথম দিন নির্বাহী আদেশের ঝড় তুললেন ট্রাম্প

আপডেট সময় :

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করেছেন। অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্ষমার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদেশগুলো জারি করা হয়। ট্রাম্পের বেশ কিছু আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে, সংবিধানের বিরুদ্ধে যাওয়া অভিবাসন সংক্রান্ত আদেশগুলো আইনগত জটিলতায় পড়তে পারে। মট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম দিনের আদেশগুলো তার দ্বিতীয় মেয়াদের কৌশলগুলো স্পষ্ট করেছে।

অভিবাসননীতিতে কড়াকড়ি : ওভাল অফিসে প্রথমেই ট্রাম্প দক্ষিণ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এটি একটি বড় পদক্ষেপ। একইসঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মগত নাগরিকত্ব বন্ধে একটি বিতর্কিত আদেশ জারি করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ। সীমান্ত সিল করার জন্য সামরিক বাহিনী মোতায়েন এবং মাদক পাচার, মানব পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। এ ছাড়া, মেক্সিকোতে থাকুন নামে পরিচিত অভিবাসন নীতি পুনর্বহাল করেন। যার মাধ্যমে ৭০ হাজারেরও বেশি আশ্রয়প্রার্থীকে সীমান্ত পার হয়ে শুনানির জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

জলবায়ু ও জ্বালানি : ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে পুনরায় বেরিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন। তিনি আলাস্কার প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করেন, যেখানে আরও তেল এবং গ্যাস অনুসন্ধান করার কথা বলা হয়। ‘গ্রিন নিউ ডিল’ নামে পরিচিত বাইডেন প্রশাসনের সবুজ প্রকল্পগুলো বাতিল করার আদেশ দেন তিনি। পাশাপাশি, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর দেওয়া ভর্তুকিও প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রত্যাহার : ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করার আদেশ দিয়েছেন। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও’র ভূমিকা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : ট্রাম্প সরকারি সংস্থাগুলোর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সমালোচনা করে ‘রাজনৈতিক অস্ত্রায়ন’ বন্ধে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এ আদেশের আওতায় বাইডেন প্রশাসনের সময়কার গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করার কথা বলা হয়।

পুঁজিবাজার ও প্রযুক্তি খাতে পরিবর্তন : ট্রাম্প টিকটক-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রক্রিয়া ৭৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখেন এবং চীনা মালিকানাধীন কোম্পানির সঙ্গে মার্কিন অংশীদার খোঁজার নির্দেশ দেন।
অভ্যন্তরীণ সংস্কার : গালফ অব মেক্সিকো-এর নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার জন্যও একটি আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। এ ছাড়া, আলাস্কার মাউন্ট ডেনালির নাম পুনরায় মাউন্ট ম্যাককিনলে রাখার নির্দেশ দেন।