পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা
- আপডেট সময় : ২৩ বার পড়া হয়েছে
ভারত থেকে কথিত পুশইন বা অননুমোদিতভাবে লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সীমান্তজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বিজিবির পাশাপাশি এবার আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গতকাল সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্তবর্তী ১১টি জেলায় ইতোমধ্যে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আনসার-ভিডিপি এবং ট্রাইবাল ডিফেন্স পার্টি (টিডিপি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো— চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিলেট, জামালপুর ও খাগড়াছড়ি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত জনবল সরবরাহের জন্য আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে বাংলাদেশি পরিচয়ধারী কিংবা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর ঘটনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারের দাবি, বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পুশ ইন কার্যক্রম শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং দেশের আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তার ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে লোকজন প্রবেশ করলে তাদের পরিচয় যাচাই, নাগরিকত্ব নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন জটিল হয়ে পড়ে। এছাড়া মানবপাচার, মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সীমান্তে অননুমোদিত অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশি নাগরিক হন, তাহলে দুই দেশের মধ্যে প্রচলিত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার পরিচয় যাচাই এবং প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা হওয়া উচিত বলে মনে করছে সরকার।
এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ কারণে শুধু বিজিবির ওপর নির্ভর না করে আনসার-ভিডিপি সদস্যদেরও মাঠে নামানো হয়েছে, যাতে সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখা সম্ভব হয়।
গত বছর বিজিবি ও আনসার বাহিনীর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। ওই সমঝোতার আওতায় সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা কার্যক্রমে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আনসার কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবির কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা পালন করে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা কাজ করবেন। এর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ও টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে সীমান্ত এলাকায় আরও জনবল ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম মোতায়েন করা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভারতের পুশইনের চেষ্টা বিজিবি শক্তভাবে প্রতিহত করছে। পাশাপাশি পুশইন বন্ধে ভারত সরকারকে ১২ থেকে ১৩টি চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, অবৈধ যারা আছে, তাদের ফেরত দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া আছে। সেটা মেনেই ভারতকে কাজ করতে হবে। পুশইন দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে প্রভাব ফেলবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের ২৬ জেলার সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) শিশু, নারীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঠেলে পাঠানো ঠেকাতে বিপুল সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা তারা সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় লোকজনও তাদের সহযোগিতা করছেন।



















