ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নকলা হাসপাতালে গৃহবধূর লাশ রেখে পালিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন Logo ক্রীড়াঙ্গনে ইউএনও’র অবদান, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬ এ চ্যাম্পিয়ন নগরকান্দা উপজেলা Logo কৃষকদের সাথে জেলা প্রশাসক, কালেক্টর,বিজ্ঞজেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মতবিনিময় Logo মোংলায় উপজেলা বহুপক্ষীয় মৎস্যজীবী নেটওয়ার্কের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo নবীনগরে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান Logo সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য বদলে যান : কারা বন্দিদের ডিসি জাহিদ Logo মাগুরায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ Logo পাইকগাছা কপিলমুনিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আশ্বাস দিলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ Logo ‘নিজেদের সম্পদ থাকতে আমদানি নয় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে’ Logo অস্ত্রের মুখে ব্যাংক কর্মকর্তার কাছ থেকে টাকা লুট

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১০০৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কঠিন শর্তসাপেক্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন যুগোপযোগী সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিগত ১৯৯২ সালে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। ওই সময় দেশে মাত্র দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিল। পরবর্তীতে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়তে থাকলে বিগত ২০১০ সালে নতুন করে আইন জারি করা হয়। বর্তমানে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৬টি। আর এতো সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৫ বছর আগের আইনে নিয়মের মধ্যে পরিচালনায় সরকার হিমশিম খাচ্ছে। আর সেজন্যই সংশোধন করা হচ্ছে আইন। সংশোধিত আইনের খসড়ায় আইন লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে ওই জরিমানার পরিমাণ মাত্র ১০ লাখ টাকা। তাছাড়া সংশোধিত আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মেয়াদের মধ্যেই স্থায়ী সনদ নিতে হবে, না নিলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়া হবে। তবে এখনো ওসব প্রস্তাবনা চূড়ান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম আরো সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই ২০১০ সালের আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। আইনের অধীনে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে সাময়িক অনুমতির (সাত বছর) মেয়াদের মধ্যেই গ্রহণ করতে হবে স্থায়ী সনদ। মেয়াদের মধ্যে স্থায়ী সনদের জন্য আবেদন করতে ব্যর্থ হলে সংশোধিত আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসহ সব কার্যক্রম বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। প্রথম সাত বছর এবং নবায়নের পাঁচ বছর মোট ১২ বছরের মধ্যে স্থায়ী সনদ নিতে হবে।
সূত্র জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বিদ্যমান আইনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা, অন্য মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য ৩ কোটিসহ অন্য এলাকার জন্য দেড় কোটি টাকা তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখার শর্ত রয়েছে। কিন্তু সংশোধিত আইনে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য ৮ কোটি, অন্য মেট্রোপলিটনের জন্য ৫ কোটি ও অন্য এলাকার জন্য ৩ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা রাখার কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া বিদ্যমান আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য ১ একর ও অন্য এলাকার ক্ষেত্রে ২ একর জমি থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল। আর সংশোধিত আইনে যেকোনও এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্থাপনের ক্ষেত্রে ৫ একর নিষ্কণ্টক জমি থাকার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রির পাশাপাশি ১০ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং গবেষণা বা প্রশাসনিক কাজে ২০ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত রয়েছে। সংশোধিত আইনে ভিসি নিয়োগের জন্য ২০ বছর স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাজীবনের কোনও স্তরে তৃতীয় শ্রেণিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভিসি পদের যোগ্য হবে না। তাছাড়া সংশোধন খসড়ায় একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি উপাচার্য থাকতে পারবেন না। পরিবর্তন আনা হয়েছে প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদে নিয়োগের জন্যও শিক্ষাগত যোগ্যতায়। সংশোধিত আইনে ভিসি পদ শূন্য হওয়ার চার মাস আগে যোগ্য তিন জন শিক্ষাবিদের প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
সূত্র আরো জানান, খসড়া আইনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন না মানার ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে শাস্তির মাত্রা। কোনও ব্যক্তি আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বিদ্যমান আইনে তা ১০ লাখ টাকা রয়েছে। পাশাপাশি সংশোধিত প্রস্তাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে অন্য কমিটির পাশাপাশি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নির্ধারিত কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, আইনের খসড়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে ইউজিসির আইনের সংশোধন প্রক্রিয়া চলমান। আরো কিছু কাজ বাকি আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন হচ্ছে

আপডেট সময় :

কঠিন শর্তসাপেক্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন যুগোপযোগী সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিগত ১৯৯২ সালে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। ওই সময় দেশে মাত্র দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিল। পরবর্তীতে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়তে থাকলে বিগত ২০১০ সালে নতুন করে আইন জারি করা হয়। বর্তমানে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৬টি। আর এতো সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৫ বছর আগের আইনে নিয়মের মধ্যে পরিচালনায় সরকার হিমশিম খাচ্ছে। আর সেজন্যই সংশোধন করা হচ্ছে আইন। সংশোধিত আইনের খসড়ায় আইন লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে ওই জরিমানার পরিমাণ মাত্র ১০ লাখ টাকা। তাছাড়া সংশোধিত আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মেয়াদের মধ্যেই স্থায়ী সনদ নিতে হবে, না নিলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়া হবে। তবে এখনো ওসব প্রস্তাবনা চূড়ান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম আরো সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই ২০১০ সালের আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। আইনের অধীনে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে সাময়িক অনুমতির (সাত বছর) মেয়াদের মধ্যেই গ্রহণ করতে হবে স্থায়ী সনদ। মেয়াদের মধ্যে স্থায়ী সনদের জন্য আবেদন করতে ব্যর্থ হলে সংশোধিত আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসহ সব কার্যক্রম বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। প্রথম সাত বছর এবং নবায়নের পাঁচ বছর মোট ১২ বছরের মধ্যে স্থায়ী সনদ নিতে হবে।
সূত্র জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বিদ্যমান আইনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা, অন্য মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য ৩ কোটিসহ অন্য এলাকার জন্য দেড় কোটি টাকা তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখার শর্ত রয়েছে। কিন্তু সংশোধিত আইনে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য ৮ কোটি, অন্য মেট্রোপলিটনের জন্য ৫ কোটি ও অন্য এলাকার জন্য ৩ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা রাখার কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া বিদ্যমান আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য ১ একর ও অন্য এলাকার ক্ষেত্রে ২ একর জমি থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল। আর সংশোধিত আইনে যেকোনও এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্থাপনের ক্ষেত্রে ৫ একর নিষ্কণ্টক জমি থাকার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রির পাশাপাশি ১০ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং গবেষণা বা প্রশাসনিক কাজে ২০ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত রয়েছে। সংশোধিত আইনে ভিসি নিয়োগের জন্য ২০ বছর স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাজীবনের কোনও স্তরে তৃতীয় শ্রেণিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভিসি পদের যোগ্য হবে না। তাছাড়া সংশোধন খসড়ায় একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি উপাচার্য থাকতে পারবেন না। পরিবর্তন আনা হয়েছে প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদে নিয়োগের জন্যও শিক্ষাগত যোগ্যতায়। সংশোধিত আইনে ভিসি পদ শূন্য হওয়ার চার মাস আগে যোগ্য তিন জন শিক্ষাবিদের প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
সূত্র আরো জানান, খসড়া আইনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন না মানার ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে শাস্তির মাত্রা। কোনও ব্যক্তি আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বিদ্যমান আইনে তা ১০ লাখ টাকা রয়েছে। পাশাপাশি সংশোধিত প্রস্তাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে অন্য কমিটির পাশাপাশি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নির্ধারিত কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, আইনের খসড়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে ইউজিসির আইনের সংশোধন প্রক্রিয়া চলমান। আরো কিছু কাজ বাকি আছে।