ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ব্যাংকের চাকরি থেকে অবসরে এসে দেশি মুরগি পালনে ভাগ্যবদল শাহে আলমের

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চাকরি জীবন শেষ করে অনেকেই যখন অবসরের অলস সময় কাটানোর প্রহর গুনছেন, তখন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শরীয়তপুরের অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শাহে আলম। মাত্র ১০টি দেশি মুরগি দিয়ে শুরু করা তাঁর খামারে বছর ঘুরতেই এখন শোভা পাচ্ছে প্রায় এক হাজার মুরগি। কুপ পদ্ধতিতে দেশি মুরগি পালন করে তিনি এখন একজন সফল স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষ এখন দেশি মুরগি পালনের স্বপ্ন দেখছেন।

শাহে আলম দীর্ঘ কর্মজীবন পার করেছেন জনতা ব্যাংকে। ২০২৫ সালে তিনি ব্যাংকটির সিনিয়র অফিসার পদ থেকে অবসরে যান। অবসরের পর শেষ বয়সে ঘরে বসে না থেকে কিছু একটা করার পরিকল্পনা করেন তিনি। সেই চিন্তা থেকেই প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র ১০টি দেশি মুরগি নিয়ে বাড়ির আঙিনায় যাত্রা শুরু করেন।

পরবর্তীতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নুসা’-র সহযোগিতায় এবং পিকেএসএফ-এর অর্থায়নে ২০০টি দেশি মুরগি নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে খামার সম্প্রসারণ করেন তিনি। বর্তমানে তাঁর খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে মুরগির সংখ্যা প্রায় এক হাজার।

খামারের ডিম ফোটানোর জন্য শাহে আলম নিজস্ব ইনকিউবেটর (ডিম ফোটানো যন্ত্র) ব্যবহার করছেন। ফলে বাইরে থেকে বাচ্চা কিনতে হয় না, বরং খামারের উৎপাদিত বাচ্চা দিয়েই তিনি খামারের পরিধি বাড়াচ্ছেন। বর্তমানে তাঁর খামারে প্রতিদিন প্রায় ২০০টি মুরগি ডিম দিচ্ছে।

সবচেয়ে অভাক করার বিষয় হলো, এই দেশি মুরগিগুলো বাড়ির আশেপাশে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক শাকসবজি ও পোকামাকড় খেয়ে থাকে। এতে কৃত্রিম ফিডের ওপর নির্ভরতা কমায় মুরগি পালনের খরচ একেবারেই সীমিত। বর্তমানে খামারের যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে তাঁর নিট লাভ থাকছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

শাহে আলম মনে করেন, “নিরক্ষর মানুষের চেয়ে শিক্ষিত লোক যদি উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসেন, তবে তাঁরা আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক ভালো কিছু করতে পারেন। তার স্বপ্ন আছে ভবিষ্যতে এই খামারটিকে ৫ হাজার মুরগির বিশাল প্রজেক্টে রূপান্তর করার।”

শাহে আলমের এই দৃশ্যমান সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন স্থানীয় মানুষজন। এলাকার অনেকেই এখন তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে দেশি মুরগির খামার করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শুকুর আলী জানান, তার এই সাফল্য দেখে আগামীতে তিনি দেশি মুরগীর খামার করতে চান। তিনি মনে করেন সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে এই অঞ্চলে দেশি মুরগি পালনের অনেকের আগ্রহ বাড়বে।

বাণিজ্যিক এই উদ্যোগ নিয়ে নুসা-র প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. রাসেদ বলেন, “আমাদের দেশি মুরগি প্রায় বিলুপ্তির পথে। সেই ঐতিহ্যবাহী দেশি মুরগিকে বাণিজ্যিকভাবে টিকিয়ে রাখতে এবং লালন-পালন করার জন্য অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শাহে আলমকে উদ্যোক্তা হিসেবে সব ধরনের কারিগরি ও চিকিৎসাগত সহযোগিতা করা হয়েছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, শাহে আলমের মতো দেশি মুরগি পালনের এই বাণিজ্যিক মডেল গ্রামীণ পুষ্টি ও আমিষের অভাব পূরণের পাশাপাশি দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ব্যাংকের চাকরি থেকে অবসরে এসে দেশি মুরগি পালনে ভাগ্যবদল শাহে আলমের

আপডেট সময় :

চাকরি জীবন শেষ করে অনেকেই যখন অবসরের অলস সময় কাটানোর প্রহর গুনছেন, তখন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শরীয়তপুরের অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শাহে আলম। মাত্র ১০টি দেশি মুরগি দিয়ে শুরু করা তাঁর খামারে বছর ঘুরতেই এখন শোভা পাচ্ছে প্রায় এক হাজার মুরগি। কুপ পদ্ধতিতে দেশি মুরগি পালন করে তিনি এখন একজন সফল স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষ এখন দেশি মুরগি পালনের স্বপ্ন দেখছেন।

শাহে আলম দীর্ঘ কর্মজীবন পার করেছেন জনতা ব্যাংকে। ২০২৫ সালে তিনি ব্যাংকটির সিনিয়র অফিসার পদ থেকে অবসরে যান। অবসরের পর শেষ বয়সে ঘরে বসে না থেকে কিছু একটা করার পরিকল্পনা করেন তিনি। সেই চিন্তা থেকেই প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র ১০টি দেশি মুরগি নিয়ে বাড়ির আঙিনায় যাত্রা শুরু করেন।

পরবর্তীতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নুসা’-র সহযোগিতায় এবং পিকেএসএফ-এর অর্থায়নে ২০০টি দেশি মুরগি নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে খামার সম্প্রসারণ করেন তিনি। বর্তমানে তাঁর খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে মুরগির সংখ্যা প্রায় এক হাজার।

খামারের ডিম ফোটানোর জন্য শাহে আলম নিজস্ব ইনকিউবেটর (ডিম ফোটানো যন্ত্র) ব্যবহার করছেন। ফলে বাইরে থেকে বাচ্চা কিনতে হয় না, বরং খামারের উৎপাদিত বাচ্চা দিয়েই তিনি খামারের পরিধি বাড়াচ্ছেন। বর্তমানে তাঁর খামারে প্রতিদিন প্রায় ২০০টি মুরগি ডিম দিচ্ছে।

সবচেয়ে অভাক করার বিষয় হলো, এই দেশি মুরগিগুলো বাড়ির আশেপাশে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক শাকসবজি ও পোকামাকড় খেয়ে থাকে। এতে কৃত্রিম ফিডের ওপর নির্ভরতা কমায় মুরগি পালনের খরচ একেবারেই সীমিত। বর্তমানে খামারের যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে তাঁর নিট লাভ থাকছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

শাহে আলম মনে করেন, “নিরক্ষর মানুষের চেয়ে শিক্ষিত লোক যদি উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসেন, তবে তাঁরা আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক ভালো কিছু করতে পারেন। তার স্বপ্ন আছে ভবিষ্যতে এই খামারটিকে ৫ হাজার মুরগির বিশাল প্রজেক্টে রূপান্তর করার।”

শাহে আলমের এই দৃশ্যমান সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন স্থানীয় মানুষজন। এলাকার অনেকেই এখন তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে দেশি মুরগির খামার করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শুকুর আলী জানান, তার এই সাফল্য দেখে আগামীতে তিনি দেশি মুরগীর খামার করতে চান। তিনি মনে করেন সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে এই অঞ্চলে দেশি মুরগি পালনের অনেকের আগ্রহ বাড়বে।

বাণিজ্যিক এই উদ্যোগ নিয়ে নুসা-র প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. রাসেদ বলেন, “আমাদের দেশি মুরগি প্রায় বিলুপ্তির পথে। সেই ঐতিহ্যবাহী দেশি মুরগিকে বাণিজ্যিকভাবে টিকিয়ে রাখতে এবং লালন-পালন করার জন্য অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শাহে আলমকে উদ্যোক্তা হিসেবে সব ধরনের কারিগরি ও চিকিৎসাগত সহযোগিতা করা হয়েছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, শাহে আলমের মতো দেশি মুরগি পালনের এই বাণিজ্যিক মডেল গ্রামীণ পুষ্টি ও আমিষের অভাব পূরণের পাশাপাশি দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।