ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মানিকগঞ্জে নায়েব নেপালের আলিশান ভবন

তদন্ত নিয়ে গড়িমসি, দুর্নীতির তথ্য ধামাচাপা পড়ার শঙ্কা

ছাবিনা দিলরুবা, মানিকগঞ্জ
  • আপডেট সময় : ৫৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা বড়বিলা সেনপাড়া গ্রামে ভূমি অফিসের সাবেক নায়েব নেপাল সাহার আকাশচুম্বী সম্পদ ও আলিশান ভবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর চাঞ্চল্য তৈরি হলেও থমকে আছে আইনি প্রক্রিয়া। সংবাদ প্রকাশের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে নেপাল সাহার দুর্নীতির পাহাড় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বড়বিলা সেনপাড়া গ্রামের শ্রীধর সাহার পুত্র নেপাল সাহা এক সময় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সাধারণ দুচালা টিনের ঘরে বসবাস করতেন। কিন্তু ভূমি অফিসের নায়েবের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর যেন তার হাতে আলাদিনের চেরাগ ধরা দেয়। সাধারণ মানুষের পকেট কেটে রাতারাতি তিনি গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল অট্টালিকা। তার এই বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুললে স্থানীয়রা জানান, ভূমি অফিসের ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমেই এই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার চক মিরপুর ও খলশী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন নেপাল সাহা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করতেন।
চক মিরপুর ইউনিয়নের বানিয়া ঘোনা গ্রামের নতু শেখের তিন পুত্র- একলাস মাতাব্বর, মানিক ও মোতালেব। ২৮ শতাংশ জমির খারিজের প্রস্তাব পাঠাতেই তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন নায়েব নেপাল। পরবর্তী ২০০ শতাংশ জমির খারিজের জন্য তিনি সরাসরি ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা জোগাড় করতে না পারায় ওই কৃষকরা এখনও তাদের জমি খারিজ করতে পারেননি।
চরমাস্তল গ্রামের ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মো. আনিসের করুণ দশা আরও ভয়াবহ। মাত্র ৫ শতাংশ জমির খারিজের জন্য নায়েব তাকে বছরের পর বছর ঘুরিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার পর প্রস্তাব পাঠানো হয়। বৃদ্ধ আনিস এখন তার বাড়তি টাকা ফেরত ও এই দুর্নীতিবাজ নায়েবের বিচার চান।
নেপাল সাহা সম্প্রতি এলপিআর (LPR)-এ গিয়েছেন। সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, বেতন ও সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে এই কোটি কোটি টাকার ভবন নির্মাণ করেছেন। তবে সাধারণ নায়েবের বেতনের টাকা দিয়ে কীভাবে অট্টালিকা ও নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ সম্ভব, তার কোনো সদুত্তর মেলেনি।
এদিকে, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইতিপূর্বে এসিল্যান্ডের মাধ্যমে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তদন্তের এই দীর্ঘসূত্রিতা ও কর্মকর্তাদের অনীহা দুর্নীতির হোতাকে আড়াল করার প্রচেষ্টা কি না, সেই প্রশ্ন এখন বড়বিলা গ্রামসহ পুরো উপজেলার সাধারণ মানুষের মুখে।
অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে নেপাল সাহার দেওয়া বিগত কয়েক বছরের ‘খারিজের প্রস্তাব’ ও তার অর্জিত সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের সরকারি ব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা উঠে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মানিকগঞ্জে নায়েব নেপালের আলিশান ভবন

তদন্ত নিয়ে গড়িমসি, দুর্নীতির তথ্য ধামাচাপা পড়ার শঙ্কা

আপডেট সময় :

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা বড়বিলা সেনপাড়া গ্রামে ভূমি অফিসের সাবেক নায়েব নেপাল সাহার আকাশচুম্বী সম্পদ ও আলিশান ভবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর চাঞ্চল্য তৈরি হলেও থমকে আছে আইনি প্রক্রিয়া। সংবাদ প্রকাশের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে নেপাল সাহার দুর্নীতির পাহাড় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বড়বিলা সেনপাড়া গ্রামের শ্রীধর সাহার পুত্র নেপাল সাহা এক সময় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সাধারণ দুচালা টিনের ঘরে বসবাস করতেন। কিন্তু ভূমি অফিসের নায়েবের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর যেন তার হাতে আলাদিনের চেরাগ ধরা দেয়। সাধারণ মানুষের পকেট কেটে রাতারাতি তিনি গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল অট্টালিকা। তার এই বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুললে স্থানীয়রা জানান, ভূমি অফিসের ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমেই এই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার চক মিরপুর ও খলশী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন নেপাল সাহা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করতেন।
চক মিরপুর ইউনিয়নের বানিয়া ঘোনা গ্রামের নতু শেখের তিন পুত্র- একলাস মাতাব্বর, মানিক ও মোতালেব। ২৮ শতাংশ জমির খারিজের প্রস্তাব পাঠাতেই তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন নায়েব নেপাল। পরবর্তী ২০০ শতাংশ জমির খারিজের জন্য তিনি সরাসরি ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা জোগাড় করতে না পারায় ওই কৃষকরা এখনও তাদের জমি খারিজ করতে পারেননি।
চরমাস্তল গ্রামের ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মো. আনিসের করুণ দশা আরও ভয়াবহ। মাত্র ৫ শতাংশ জমির খারিজের জন্য নায়েব তাকে বছরের পর বছর ঘুরিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার পর প্রস্তাব পাঠানো হয়। বৃদ্ধ আনিস এখন তার বাড়তি টাকা ফেরত ও এই দুর্নীতিবাজ নায়েবের বিচার চান।
নেপাল সাহা সম্প্রতি এলপিআর (LPR)-এ গিয়েছেন। সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, বেতন ও সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে এই কোটি কোটি টাকার ভবন নির্মাণ করেছেন। তবে সাধারণ নায়েবের বেতনের টাকা দিয়ে কীভাবে অট্টালিকা ও নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ সম্ভব, তার কোনো সদুত্তর মেলেনি।
এদিকে, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইতিপূর্বে এসিল্যান্ডের মাধ্যমে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তদন্তের এই দীর্ঘসূত্রিতা ও কর্মকর্তাদের অনীহা দুর্নীতির হোতাকে আড়াল করার প্রচেষ্টা কি না, সেই প্রশ্ন এখন বড়বিলা গ্রামসহ পুরো উপজেলার সাধারণ মানুষের মুখে।
অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে নেপাল সাহার দেওয়া বিগত কয়েক বছরের ‘খারিজের প্রস্তাব’ ও তার অর্জিত সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের সরকারি ব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা উঠে যাবে।