কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি সেতুর কাজ!
উদ্বোধনের আগেই ভাঙছে সংযোগ সড়ক
- আপডেট সময় : ২৭ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর–বলুহা সড়কে একটি সেতুর নির্মাণকাজ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। উল্টো উদ্বোধনের আগেই সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে ভাঙন ও ধস দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সড়কটি সেতু থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে বলুহা সড়কের খালের ওপর ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাক্কলন মূল্য ৯৭ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫৩০ টাকা ব্যায়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজটি পেয়েছে মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়ার পর ২০ জুন কাজ শুরু হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, ড্রাম শেডের গাইডওয়াল সরে যাওয়ার ফলে রাস্তার দুই পাশের মাটি ধসে পড়েছে। একই সাথে ভেঙে গেছে রাস্তার ইটের সলিংও। গাইডওয়ালটি ধসে পড়ার কারণে রাস্তার দুই পাশের নিরাপত্তা বেষ্টনী পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, যার ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অন্যদিকে, কার্যাদেশের শর্ত সরাসরি লঙ্ঘন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সাইট বুঝে নেওয়ার আগেই প্রকল্প এলাকায় কাজের বিবরণ সম্বলিত সাইন-বোর্ড স্থাপনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে প্রকল্পের ব্যয় ও সময়সীমা অজানা রয়ে গেছে। কাজ শুরু করার আগে সাইট অফিস, লেবার শেড এবং ইটের খোয়া ভেজানোর জন্য পানির চৌবাচ্চা ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। কোনো প্রকার সাইট অফিস বা চৌবাচ্চা ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে, যা কাজের গুণগত মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বলুহা গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল হক জানান, কাজের শুরু থেকেই আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিলাম। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।
শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জনা রানী জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষায় সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বর্ষার কারণে কাজের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সেতুর পাশের কিছু মাটি সরে গেছে, বিষয়টি তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। তবে প্রয়োজনীয় মাটি না পাওয়ায় কাজ সম্পন্নে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলাল উদ্দীন জানান, সেতুটি তিনি পরিদর্শন করেছেন। ঠিকাদার এখনো চূড়ান্ত বিল পাননি। কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করলে তাঁকে বিল দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কার্যাদেশ বাতিল করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা জানান, বিষয়টি আমি অবগত আছি। কাজটি পরিপূর্ণভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কোনো বিল পাবেন না।
উলেখ্য, এই সেতুটির একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ঈশ্বরগঞ্জে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে আক্রমণ করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এই স্থানের পুরোনো সেতুটি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর সেখানে নতুন সেতু নির্মিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা ছিল।


















