ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

রামু সাব-রেজিস্ট্রারের উদ্যোগে বদলে গেছে কর্মপরিবেশ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের রামু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এখন যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। একসময় দীর্ঘসূত্রতা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির অভিযোগে আলোচিত এই অফিসটি বর্তমানে স্বচ্ছতা, দ্রুত সেবা ও জনবান্ধব কার্যক্রমের কারণে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন রামু সাব-রেজিস্ট্রার সাহেদ হোসেন চৌধুরী।
স্থানীয়দের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অফিসের সার্বিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তিনি। ফলে আগের তুলনায় জমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম এখন অনেক সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ জমি রেজিস্ট্রেশন ও সংশ্লিষ্ট সেবা নিতে অফিসে আসছেন। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ ও প্রয়োজন গুরুত্ব সহকারে শুনছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত দলিল সম্পাদনের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেছে বলেও জানান অনেকে।
রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, “আগে একটি দলিল রেজিস্ট্রি করতে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। এখন অনেক দ্রুত কাজ হয়। সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব নিজেও বিষয়গুলো তদারকি করেন।”
ঈদগড় এলাকার কৃষক নুরুল আবছার জানান, “সরকারি অফিসে গেলে সাধারণ মানুষ ভয় পায়। কিন্তু এখানে এসে ভালো ব্যবহার পেয়েছি। কোনো হয়রানি ছাড়াই কাজ শেষ করতে পেরেছি।”
স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির এক সদস্য বলেন, “বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছেন। নিয়মের বাইরে কিছু করার সুযোগ কমে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।”
নারী সেবাগ্রহীতাদের মধ্যেও রয়েছে সন্তোষ। ফাতেমা বেগম নামের এক সেবাগ্রহীতা বলেন, “আগে নারী হিসেবে অনেক সমস্যায় পড়তে হতো। এখন কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন। পরিবেশও আগের চেয়ে অনেক ভালো।”
স্থানীয় আইনজীবীদের একাংশ জানান, সাহেদ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর দলিল যাচাই-বাছাই ও নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বেড়েছে। একই সঙ্গে সেবার গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অফিসে দালাল নির্ভরতা কমাতে সচেতনতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত সরকারি ফি সম্পর্কে সেবাগ্রহীতাদের অবহিত করা হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও অনেকাংশে কমেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি অফিসে সেবার মান উন্নয়নে আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রামু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বর্তমান প্রশাসনিক পরিবেশ সেই ইতিবাচক পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।
তাদের ভাষ্য, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সদিচ্ছা থাকলে সরকারি অফিসেও যে জনবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, রামু সাব-রেজিস্ট্রি অফিস তার বাস্তব উদাহরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রামু সাব-রেজিস্ট্রারের উদ্যোগে বদলে গেছে কর্মপরিবেশ

আপডেট সময় :

কক্সবাজারের রামু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এখন যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। একসময় দীর্ঘসূত্রতা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির অভিযোগে আলোচিত এই অফিসটি বর্তমানে স্বচ্ছতা, দ্রুত সেবা ও জনবান্ধব কার্যক্রমের কারণে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন রামু সাব-রেজিস্ট্রার সাহেদ হোসেন চৌধুরী।
স্থানীয়দের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অফিসের সার্বিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তিনি। ফলে আগের তুলনায় জমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম এখন অনেক সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ জমি রেজিস্ট্রেশন ও সংশ্লিষ্ট সেবা নিতে অফিসে আসছেন। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ ও প্রয়োজন গুরুত্ব সহকারে শুনছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত দলিল সম্পাদনের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেছে বলেও জানান অনেকে।
রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, “আগে একটি দলিল রেজিস্ট্রি করতে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। এখন অনেক দ্রুত কাজ হয়। সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব নিজেও বিষয়গুলো তদারকি করেন।”
ঈদগড় এলাকার কৃষক নুরুল আবছার জানান, “সরকারি অফিসে গেলে সাধারণ মানুষ ভয় পায়। কিন্তু এখানে এসে ভালো ব্যবহার পেয়েছি। কোনো হয়রানি ছাড়াই কাজ শেষ করতে পেরেছি।”
স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির এক সদস্য বলেন, “বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছেন। নিয়মের বাইরে কিছু করার সুযোগ কমে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।”
নারী সেবাগ্রহীতাদের মধ্যেও রয়েছে সন্তোষ। ফাতেমা বেগম নামের এক সেবাগ্রহীতা বলেন, “আগে নারী হিসেবে অনেক সমস্যায় পড়তে হতো। এখন কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন। পরিবেশও আগের চেয়ে অনেক ভালো।”
স্থানীয় আইনজীবীদের একাংশ জানান, সাহেদ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর দলিল যাচাই-বাছাই ও নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বেড়েছে। একই সঙ্গে সেবার গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অফিসে দালাল নির্ভরতা কমাতে সচেতনতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত সরকারি ফি সম্পর্কে সেবাগ্রহীতাদের অবহিত করা হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও অনেকাংশে কমেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি অফিসে সেবার মান উন্নয়নে আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রামু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বর্তমান প্রশাসনিক পরিবেশ সেই ইতিবাচক পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।
তাদের ভাষ্য, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সদিচ্ছা থাকলে সরকারি অফিসেও যে জনবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, রামু সাব-রেজিস্ট্রি অফিস তার বাস্তব উদাহরণ।