ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

জনজীবনে নাভিশ্বাস, বিপর্যস্ত মধ্যবিত্ত নিম্মআয়ের মানুষ

তাপদাহে পুড়ছে দেশ

হালিম মোহাম্মদ
  • আপডেট সময় : ৩৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

# হাম ডায়রিয়াসহ বাড়ছে পানিবাহিত রোগ
# হাসপাতালে সিট সংকটে মেঝেতেই চিকিৎসা

হালিম মোহাম্মদ
ঢাকায় গরমের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় নাভিশ্বাস নগরজীবনে। ফলে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে, সার্বিক পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। ঢাবির সহযোগী অধ্যাপক জানান, এল নিনোর প্রভাবে ধীরে ধীরে নানা জেলায় ব্যাপক মাত্রায় তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর আবহাওয়াবিদরা জানান, দক্ষিণা বাতাস জলীয়বাষ্প নিয়ে আসছে। মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ না করায় রাতেও তাপমাত্রা বিরাজ করছে।
এদিকে অসহনীয় তাপদাহে বাড়ছে রোগ বালাই। হাম, ডায়রিয়াসহ পানি বাগি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে হামে এবং ডায়রিয়া ও অ্যাজমায় শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। স্বাস্থ্য সেবা এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারী হাসপাতালগুলোতে বিছানা সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি মুর্মুষ্ রোগির বাচাতে পাওয়া যাচ্ছে না আইসিইউ বা সিসিইউর বেড। অবশেষ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফিরিয়ে না দিয়ে হাসপাতালের করিডোর এবং মেঝেতে রেখেই রোগির চিকিৎসা দিচ্ছেন।
এদিকে গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাম ও হামের উপসর্গে সারা দেশে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাত শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে, আর এক শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৩৬ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৯২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৮০ হাজার ১০৪ জনের মধ্যে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৫ হাজার ২৩৭ জন। মোট হাম শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭৭৯ জনের। এ ছাড়া হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন ৬১ হাজার ২৭৮ জন।
অন্যদিকে মহাখালী আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের জরুরী বিভাগের তথ্যানুযায়ী স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে অত্র হাসপাতালে। চিকিৎসাও নিচ্ছে। চিকিৎসকের মতে, তাপদাহে বা প্রচন্ড গরমে ডায়রিয়া ডিসেনট্রি ও পানি শুন্যতায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। এ কারনে আইসিডিডিআরবিতে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রচন্ড গরমের কারণে শুধু রাজধানীই নয়, সারাদেশের মেডিকেল কলেজ ও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পানিবাহিত রোগির সংখ্যা বেড়ে চলেছে।
গত রোববার প্রচন্ড গরমে বগুড়ায় হিটস্ট্রোকে আবু সামাদ (৫৫) নামে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। তাপপ্রবাহের পরিধি বেড়ে ২৮ জেলায় বিস্তৃতি লাভ করেছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে চলে গেলে আম উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাপ প্রবাহ আর বিচ্ছিন্ন ভাবে শিলা বৃষ্টির কারণে গাছে আমসহ শস্যেও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তা ছাড়া তাপদাহে জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়া জাতীয় রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ পড়ছে বিপাকে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। তীব্র রোদে শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশাচালক এবং কৃষকরা কাজ করতে গিয়ে কাহিল হয়ে পড়ছেন । জেলার কোথাও কোথাও সড়কের পিচ গলে গেছে।
আবহাওয়া অধিপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তাপপ্রবাহ কোথাও মৃদু ও কোথাও মাঝারি পর্যায়ের ছিল। এটি সোমবার পর্যন্ত থাকতে পারে। আবার এক সপ্তাহ পরে দীর্ঘ সময় ধরে তাপ প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ সময় অস্বস্তিটা বেশি হতে পারে। রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা ওঠেনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, আইসিইউতে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত বাচ্চারা আছে। এখন যদি সেই আইসিইউতেই হামের মতো অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগীকে আনলে সবাই কিন্তু সেখানে আক্রান্ত হয়ে যাবে। সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে আলাদা, আইসোলেটেড আইসিইউ করে এদের বাঁচাতে হবে। পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা গেলে আগামী এক মাসের মধ্যে মৃত্যুহার ও দুইমাসের মধ্যে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলেও আশা করছেন এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, চৈত্র মাস গরম শুরু হয়ে গেছে। গরমের সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা বাড়ছে। এতে কর্মজীবী মানুষের কষ্ট বাড়ছে। তাপপ্রবাহের কারণে কৃষক, কৃষি শ্রমিক, রাস্তাঘাটে কাজ করা শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে রোদে কাজ করার সময় দীর্ঘক্ষণ একই কাজ করা যাবে না। কিছুক্ষণ পর পর বিরতি দিয়ে কাজ করতে হবে। মাথায় কোনো কিছু দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, গরমের সময় রাস্তায় শরবতের নামে নানা পানীয় জাতীয় পণ্য বিক্রি হয়Ñ এসব খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা এসবের পানি ও উপকরণ অনেক সময় স্বাস্থ্যসম্মত থাকে না। তা ছাড়া রাস্তায় ফল-ফলাদি খাবার থেকেও বিরত থাকতে হবে। বাইরে গেলে ঘর থেকে ফোটানো পানি নিয়ে বের হবেন। এসব পানি অবশ্যই টগবগে ফোটানো হতে হবে।
রাস্তাঘাটে খাবার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে এই প্রবীণ চিকিৎসক বলেন, রাস্তাঘাটে খাওয়া-দাওয়া থেকে সাবধান থাকতে হবে। কেননা অনেক সময় খাবার নষ্ট থাকে। এতে করে রোগবালাই হতে পারে। বিশেষ করে ডায়রিয়ার মতো রোগ হতে পারে। বাচ্চাদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবেÑ যাতে ফাস্টফুড জাতীয় খাবার না খায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জনজীবনে নাভিশ্বাস, বিপর্যস্ত মধ্যবিত্ত নিম্মআয়ের মানুষ

তাপদাহে পুড়ছে দেশ

আপডেট সময় :

 

# হাম ডায়রিয়াসহ বাড়ছে পানিবাহিত রোগ
# হাসপাতালে সিট সংকটে মেঝেতেই চিকিৎসা

হালিম মোহাম্মদ
ঢাকায় গরমের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় নাভিশ্বাস নগরজীবনে। ফলে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে, সার্বিক পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। ঢাবির সহযোগী অধ্যাপক জানান, এল নিনোর প্রভাবে ধীরে ধীরে নানা জেলায় ব্যাপক মাত্রায় তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর আবহাওয়াবিদরা জানান, দক্ষিণা বাতাস জলীয়বাষ্প নিয়ে আসছে। মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ না করায় রাতেও তাপমাত্রা বিরাজ করছে।
এদিকে অসহনীয় তাপদাহে বাড়ছে রোগ বালাই। হাম, ডায়রিয়াসহ পানি বাগি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে হামে এবং ডায়রিয়া ও অ্যাজমায় শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। স্বাস্থ্য সেবা এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারী হাসপাতালগুলোতে বিছানা সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি মুর্মুষ্ রোগির বাচাতে পাওয়া যাচ্ছে না আইসিইউ বা সিসিইউর বেড। অবশেষ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফিরিয়ে না দিয়ে হাসপাতালের করিডোর এবং মেঝেতে রেখেই রোগির চিকিৎসা দিচ্ছেন।
এদিকে গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাম ও হামের উপসর্গে সারা দেশে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাত শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে, আর এক শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৩৬ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৯২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৮০ হাজার ১০৪ জনের মধ্যে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৫ হাজার ২৩৭ জন। মোট হাম শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭৭৯ জনের। এ ছাড়া হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন ৬১ হাজার ২৭৮ জন।
অন্যদিকে মহাখালী আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের জরুরী বিভাগের তথ্যানুযায়ী স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে অত্র হাসপাতালে। চিকিৎসাও নিচ্ছে। চিকিৎসকের মতে, তাপদাহে বা প্রচন্ড গরমে ডায়রিয়া ডিসেনট্রি ও পানি শুন্যতায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। এ কারনে আইসিডিডিআরবিতে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রচন্ড গরমের কারণে শুধু রাজধানীই নয়, সারাদেশের মেডিকেল কলেজ ও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পানিবাহিত রোগির সংখ্যা বেড়ে চলেছে।
গত রোববার প্রচন্ড গরমে বগুড়ায় হিটস্ট্রোকে আবু সামাদ (৫৫) নামে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। তাপপ্রবাহের পরিধি বেড়ে ২৮ জেলায় বিস্তৃতি লাভ করেছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে চলে গেলে আম উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাপ প্রবাহ আর বিচ্ছিন্ন ভাবে শিলা বৃষ্টির কারণে গাছে আমসহ শস্যেও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তা ছাড়া তাপদাহে জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়া জাতীয় রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ পড়ছে বিপাকে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। তীব্র রোদে শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশাচালক এবং কৃষকরা কাজ করতে গিয়ে কাহিল হয়ে পড়ছেন । জেলার কোথাও কোথাও সড়কের পিচ গলে গেছে।
আবহাওয়া অধিপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তাপপ্রবাহ কোথাও মৃদু ও কোথাও মাঝারি পর্যায়ের ছিল। এটি সোমবার পর্যন্ত থাকতে পারে। আবার এক সপ্তাহ পরে দীর্ঘ সময় ধরে তাপ প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ সময় অস্বস্তিটা বেশি হতে পারে। রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা ওঠেনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, আইসিইউতে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত বাচ্চারা আছে। এখন যদি সেই আইসিইউতেই হামের মতো অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগীকে আনলে সবাই কিন্তু সেখানে আক্রান্ত হয়ে যাবে। সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে আলাদা, আইসোলেটেড আইসিইউ করে এদের বাঁচাতে হবে। পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা গেলে আগামী এক মাসের মধ্যে মৃত্যুহার ও দুইমাসের মধ্যে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলেও আশা করছেন এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, চৈত্র মাস গরম শুরু হয়ে গেছে। গরমের সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা বাড়ছে। এতে কর্মজীবী মানুষের কষ্ট বাড়ছে। তাপপ্রবাহের কারণে কৃষক, কৃষি শ্রমিক, রাস্তাঘাটে কাজ করা শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে রোদে কাজ করার সময় দীর্ঘক্ষণ একই কাজ করা যাবে না। কিছুক্ষণ পর পর বিরতি দিয়ে কাজ করতে হবে। মাথায় কোনো কিছু দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, গরমের সময় রাস্তায় শরবতের নামে নানা পানীয় জাতীয় পণ্য বিক্রি হয়Ñ এসব খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা এসবের পানি ও উপকরণ অনেক সময় স্বাস্থ্যসম্মত থাকে না। তা ছাড়া রাস্তায় ফল-ফলাদি খাবার থেকেও বিরত থাকতে হবে। বাইরে গেলে ঘর থেকে ফোটানো পানি নিয়ে বের হবেন। এসব পানি অবশ্যই টগবগে ফোটানো হতে হবে।
রাস্তাঘাটে খাবার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে এই প্রবীণ চিকিৎসক বলেন, রাস্তাঘাটে খাওয়া-দাওয়া থেকে সাবধান থাকতে হবে। কেননা অনেক সময় খাবার নষ্ট থাকে। এতে করে রোগবালাই হতে পারে। বিশেষ করে ডায়রিয়ার মতো রোগ হতে পারে। বাচ্চাদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবেÑ যাতে ফাস্টফুড জাতীয় খাবার না খায়।