তথ্য অধিকার ব্যবহারে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান
- আপডেট সময় : ৪৮ বার পড়া হয়েছে
তথ্য অধিকার (আরটিআই) আইনকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, তথ্য অধিকার কেবল একটি আইন নয়, এটি নাগরিকের ক্ষমতায়নের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এই আইনের যথাযথ ব্যবহার দুর্নীতি প্রতিরোধ, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) গাজীপুরের সারাবো এলাকায় সুপ্রিয়া নিকেতনের সায়ন্তনে তথ্য অধিকার (RTI)-এর মাধ্যমে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা অগ্রসরকরণ শীর্ষক অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস, বাংলাদেশ (RIB) এবং সহযোগিতায় ছিল ন্যাশনাল এনডাওমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (NED)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস, বাংলাদেশের (RIB) চেয়ারম্যান ড. সামছুল বারী। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন জনগণকে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে। নাগরিকরা যখন তথ্যের জন্য আবেদন করেন, তখন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছভাবে কাজ করতে বাধ্য হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্য অধিকার আইনের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। এই অধিকার চর্চার মাধ্যমে জনগণ যেমন সচেতন হবে, তেমনি দুর্নীতি ও অনিয়মও কমে আসবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস, বাংলাদেশের (RIB) উপপরিচালক অ্যাডভোকেট রুহী নাজ বলেন, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অনেক মানুষ তথ্য চাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন না, আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে তথ্য প্রদানে অনীহাও দেখা যায়। এসব সমস্যা দূর করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, নারী, তরুণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তথ্য অধিকার ব্যবহারে আরও সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হলে নাগরিকরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে এবং সমাজে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।
অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সরকার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে তথ্য অধিকার আইনের ব্যবহার এবং এর ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জানান, তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা গেছে।
সভায় বক্তারা তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি, ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, তথ্য কমিশনের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা তথ্য অধিকার আইনকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
















