নিয়ামতপুরে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মানের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ২২ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁর নিয়ামতপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তির উপর দিয়ে কিছু ব্যক্তির সুবিধার জন্য জোরপূর্বক রাস্তা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিয়ামতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা আছে।
এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের আমইল কারালীপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মৃত মোকসেদ আলীর ছেলে আব্দুল কাদের, মৃত আজিমুদ্দিরে ছেলে আবুল কাশেম, মৃত- দসির উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম ও তুহিনের পৈত্রিক সম্পত্তির উপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মানের চেষ্টা করছে একই গ্রামের মৃত আজিমুদ্দিনের ছেলে আফাজ উদ্দিন, সায়েদ আলীর ছেলে আল মামুন, সফার ছেলে মান্টুর সহযোগিতায় ঐ পাড়ার আরো ১০/১২জন।
ভুক্তভোগী আব্দুল কাদের এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার ও আমার ভাই ভাতিজার এখানে ৩০ শতাংশ ভিটামাটি রয়েছে। এতদিন আফাজউদ্দিন, আল-মামনু, মান্টু গংরা আমাদের জায়গার উপর দিয়ে চলাচল করতো। এখনও করছে। আমরা কোন বাধা দেইনি। কিন্তু আফাজউদ্দিন, আল মামুন, মান্টু গংরা এখন আমাদের সম্পত্তির মাঝখান দিয়ে ট্রাক যাওয়ার মত রাস্তা নিবে। রাস্তা করার জন্য আমাদের সম্পত্তির উপর থাকা প্রায় ৩ লক্ষাধীক গাছ কেটে ফেলে। এখন আমার বেড়া জোর পূর্বক তুলে দিয়ে রাস্তা নির্মানের পাইতারা করছে।
আব্দুল কাদের আরো বলেন, আমরা তো রাস্তা দিবে সাজি পুকুরের পশ্চিমপাড় দিয়ে এবং আমাদের সম্পত্তির পশ্চিম দিক দিয়ে রাস্তা দিবো। কিন্তু তারা জোর করে আমাদের সম্পত্তির মাঝখান দিয়েই রাস্তা নিবে।
আরেক ভুক্তভোগী আবুল কাশেম বলেন, আমরা রাস্তা দিবো আমাদের সম্পত্তির পশ্চিম দিকে দিয়ে। কিন্তু আফজ, আল মামুন, মান্টুরা জোর করে আমাদের সম্পত্তির মাঝখান দিয়ে নিবে। আমার এই সম্পত্তির উপর বাড়ী, খোলিয়ান রয়েছে। মাঝখান দিয়ে রাস্তা দিলে আমরা চলাফেরা করবো কি করে। তাছাড়া আমাদেও বংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেউ কেউ নতুন কওে ঐ সম্পত্তির উপর বাড়ী করবে। রাস্তা দিলে তো আর বাড়ী হবে না। এ নিয়ে থানায় আফজ, আল মামুনরাই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। আগামী ২৪ জুন থানায় বসার কথা থাকলেও তারা তার আগেই গত ১৮ জুন আমাদেও কাঁটা তারের বেড়া জোরপূর্বক ভেঙ্গে ফেলে। আমরা বিভিন্ন নেতা, আইনের আশ্রয় নিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না। তার সন্ত্রাসী কায়দায় জোর করে রাস্তা নির্মান করবইে বলে আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।
তুহিনের স্ত্রী সাজেদা বলেন, আমরা কোন রকমে একটি ঘরে বসবাস করছি। এখন আমাদের বাড়ী করা দরকার। কিন্তু তারা যদি আমাদের জায়গার মাঝখান দিয়ে জোর করে রাস্তা করে তাহলে আমার বাড়ী করবো কোথায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আফাজ উদ্দিনের ছেলে মাসুদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা জোর করে কোন রাস্তা নির্মান করি নাই। যাদের জায়গা তাদের সাথেই বুঝাপড়া করেই রাস্তা করতে হবে। তাছাড়া ঐখানে আমাদের কিছু জায়গা রয়েছে।
অভিযুক্ত মৃত- খাইবর হাজারীর ছেলে অপিল মুঠোফোনে বলেন, আমাদেও চলাফেরা করতে হবে না। তাই আমরা রাস্তা করার চেষ্টা করছি। জোর করে না। আগে থেকেই আমরা ঐ জায়গা দিয়ে চলাফেরা করছি। এখন কেন যাওয়া যাবে না।
নিয়ামতপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক রজব আলী বলেন, আগামী ২৪ জুন দুই পক্ষকে নিয়ে থানায় বসার কথা রয়েছে। মিমাংসার জন্য বসলে বুঝা যাবে। আমি উভয় পক্ষের কথা শুনেছি। এখন বসলে সমাধান হবে।















