মামলা তুলে নিতে বাদী ও স্বাক্ষীদের হুমকির অভিযোগ
আদমদীঘিতে বিধবা নারীকে কুপিয়ে হত্যা
- আপডেট সময় : ২১ বার পড়া হয়েছে
বগুড়ার আদমদীঘির উজ্জলতা গ্রামে পূর্বশক্রতার জেরে উম্মে হাবিবা উর্মি (৩৬) নামের এক নারীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা মামলার কতিপয় আসামী আদালত কর্তৃক জামিনে মুক্তি পেয়ে মামলার বাদিনী উম্মে হাফিজা তার পরিবার ও স্বাক্ষীদের মামলা তুলে নিতে চাপ ও নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাদি উম্মে হাফিজা জামিনপ্রাপ্ত আসামীদের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। যার নং ৩৫৯। নিহত বাদিনীর বোন উম্মে হাবিবা উর্মির বাড়ি রানীনগর উপজেলার ভেবরা গ্রামের মৃত শাহিনের স্ত্রী।
প্রকাশ, আদমদীঘি উপজেলার উজ্জলতা গ্রামে ২০২৫ সালের ২৬ আগষ্ট পুর্বশক্রার জেরে ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটনের ছেলে ফারসিদ তালুকদারকে একই গ্রামের এখলাস হোসেন, একরাম ফকির ও কহির ফকিরসহ কয়েকজন মিলে পথরোধ করে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ফারসিদ তালুকদারের মা উম্মে হাফিজা বাদি হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করলে আদালত আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন। এদিকে সেই মামলা তুলে নেয়ায় জন্য আসামী ও তার লোকজন বাদিনী উম্মে হাফিজা তার স্বামীসহ পরিবারের লোকজনকে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। এরজের ধরে গত ২০২৬ সালের ২০ মার্চ ওই মামলার বাদিনীর স্বামী ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটন ঈদ মার্কেট করে উজ্জলতা গ্রামের বাড়িতে ফেরার পথে একই গ্রামের দুলালী বেগমের বাড়ির সামনে পৌঁছামাত্র ওঁৎ পেতে থাকা একই গ্রামের প্রতিপক্ষরা সহ বেশ কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে মারপিট শুরু করে। এসময় লিটনের স্ত্রী. ছেলে মেয়ে ও বেড়াতে আসা শালিকা উম্মে হাবিবা উর্মি এগিয়ে এলে হামলাকারিরা তাদের উপড়ও চড়াও হয়ে মারপিট করতে থাকলে জীবন রক্ষায় তারা পালিয়ে জনৈক শফিকুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। প্রতিপক্ষরা সেখানে ধাওয়া করে তাদেরকে কুড়াল, হাসুয়া ও লাঠি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। হামলায় বাদিনী উম্মে হাফিজা তার স্বামী ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটন, তার ছেলে ফারসিদ তালুকদার, মেয়ে নুসরাত জাহান নিহা, ও বাদিনীর বাড়িতে বেড়াতে আসা বোন উম্মি হাবিবা উর্মি মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হয়। এসময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আদমদীঘি হাসপাতাল ও পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসা উম্মে হাবিবা উর্মি ওইদিন রাত ১১ টায় মারা যায়।
এ ঘটনায় গত ২১ মার্চ নিহতের বোন উম্মে হাফিজা বাদি হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হামলাকারিদের কেউ গ্রেপ্তার ও কেউ আদালতে আত্মসমপন আবার কেউ পলাতক রয়েছে। এদিকে এই মামলার কয়েকজন আসামী আদালত কর্তৃক জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে আসার পর তারা (আসামীরা) একটি প্রভাশালী মহলের ছত্র ছায়ায় বাদি ও মামলার স্বাক্ষীদের মামলা তুলে নিতে চাপ ও নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে এবং মামলা তুলে না নিলে মিথ্য্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করবে বলে বাদিনী উম্মে হাফিজা দাবী করেন। মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলা তদন্তকারি থানার উপ পরিদর্শক আব্দুর রহমান জিডি বিষয় নিশ্চিত করে জানান, বাদিনী ও স্বামক্ষীদের হুমকি ঘটনাটি সরজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।















