ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে নতুন সংকটে সাধারণ মানুষ

চাপ বাড়ছে জীবনযাত্রায়

মহিউদ্দিন তুষার, সিনিয়র রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ২৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যেই আবারও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে সরকার। পাইকারি ও খুচরা দুই পর্যায়েই বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব শুধু পরিবহন বা বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; উৎপাদন, কৃষি, শিল্প, পরিবহনসহ প্রায় সব খাতেই এর প্রভাব পড়বে। ফলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ইউনিটপ্রতি ১ দশমিক ৩৯ টাকা, সঞ্চালন চার্জ ৮ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ১ দশমিক ৫২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের অংশ হিসেবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন সীমিত আয়ের মানুষ। এমনিতেই খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতিতে নাজেহাল পরিবারগুলো নতুন করে বাড়তি খরচের মুখোমুখি হবে। শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলের মানুষকেই বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয়ের সম্ভাব্য প্রভাব বহন করতে হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদন ব্যয়ের অন্যতম প্রধান উপাদান। ফলে শিল্পকারখানা ও উৎপাদন খাতে ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে গিয়ে পড়বে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেলে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে বারবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে মানুষের প্রকৃত আয় আরও কমে যাবে। বেতন ও মজুরি বৃদ্ধির হার জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে। এতে দারিদ্র্যের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানো ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি জোরদার করতে হবে। অন্যথায় নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য আরও বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি রাজস্ব ও ভর্তুকির চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ দেশের অধিকাংশ মানুষের আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে নতুন মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ, মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং আয়ের সুযোগ বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অন্যথায় আয়ের তুলনায় ব্যয়ের ব্যবধান আরও বাড়বে এবং জীবনযাত্রার সংকট গভীরতর হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে নতুন সংকটে সাধারণ মানুষ

চাপ বাড়ছে জীবনযাত্রায়

আপডেট সময় :

দেশে মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যেই আবারও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে সরকার। পাইকারি ও খুচরা দুই পর্যায়েই বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব শুধু পরিবহন বা বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; উৎপাদন, কৃষি, শিল্প, পরিবহনসহ প্রায় সব খাতেই এর প্রভাব পড়বে। ফলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ইউনিটপ্রতি ১ দশমিক ৩৯ টাকা, সঞ্চালন চার্জ ৮ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ১ দশমিক ৫২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের অংশ হিসেবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন সীমিত আয়ের মানুষ। এমনিতেই খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতিতে নাজেহাল পরিবারগুলো নতুন করে বাড়তি খরচের মুখোমুখি হবে। শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলের মানুষকেই বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয়ের সম্ভাব্য প্রভাব বহন করতে হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদন ব্যয়ের অন্যতম প্রধান উপাদান। ফলে শিল্পকারখানা ও উৎপাদন খাতে ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে গিয়ে পড়বে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেলে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে বারবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে মানুষের প্রকৃত আয় আরও কমে যাবে। বেতন ও মজুরি বৃদ্ধির হার জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে। এতে দারিদ্র্যের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানো ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি জোরদার করতে হবে। অন্যথায় নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য আরও বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি রাজস্ব ও ভর্তুকির চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ দেশের অধিকাংশ মানুষের আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে নতুন মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ, মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং আয়ের সুযোগ বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অন্যথায় আয়ের তুলনায় ব্যয়ের ব্যবধান আরও বাড়বে এবং জীবনযাত্রার সংকট গভীরতর হতে পারে।