ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

রাজবাড়ী দৌলতদিয়া ঘাট অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত

বড় দূর্ঘটনার পরেও টনক নরছেনা কতৃপক্ষের

আতিয়ার রহমান, রাজবাড়ী
  • আপডেট সময় : ২৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া -পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া প্রান্তে এখনো ফেরি ঘাটগুলোর অব্যবস্থাপনা কাটেনি।বড় দুর্ঘটনার পরও টনক নড়েনি কতৃপক্ষের। ফেরি ঘাটের এ্যাপ্রোচ সড়কের কাজে কারনে দুর্গটনার আশঙ্কা করছেন চালক,যাত্রী ও এলাকাবাসি। শুধু একটি ঘাট ও দুটি ফেরি বাড়ানো আশ্বাস দিয়েছেন ঘাট সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।নিরাপত্তায় থাকবে চার স্তরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
২১ জেলার প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুট। প্রতিদিন এ নৌরুটে কয়েক হাজার যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে।কিন্তু ঈদ মৌসুম এলেই এ নৌরুটে যানবাহন ও যাত্রীদের চলাচল বেড়ে যায় কয়েকগুন। গত রমজান ঈদের পর ঘাটের অব্যবস্থাপনার কারনে বাস নদীতে ডুবে অনেক প্রানহানির ঘটনা ঘটে। কিন্তু যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে বড় দুর্ঘটনার পরও টনক নড়েনি ঘাট সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের।নদী ভাঙ্গনে পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর ৫ নং ফেরি ঘাটটি সচল করার উদ্যোগ নেয় বিআইডব্লিউটিএ।কিন্তু ঘাটটি সচল করতে কিছু জিও ব্যাগের বালু ভর্তি বস্তা, ইটের খোযা আর বালু ব্যবহার করে ঘাটের এ্যপ্রোচ সড়ক তৈরী করা হয় ৩২ লক্ষ টাকা খরচ করে।
৩ ও ৫ নং ফেরি ঘাটে কিছু সরু বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে যাত্রীদের আলাদা করে ফেরি ঘাটে ওঠা নামার ফুটপথ তৈরী করা হয়েছে।এটি এ্তই সাধারন ভাবে তৈরী করা হযেছে। যে কোন ধরনের ভারী যানবাহনের ওঠা নামায় ঘাটটিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন।সেই সাথে নদীর সাথে যাত্রীদের চলাচলের ফুটপথ করার কারনে তাদের দুর্ঘটনা বড় কারন হতে পারে। এ ঘাটের এ্যপ্রোচ সড়কটিতে যথাযথ ভাবে মজবুত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার না করার কথা জানান এলাকাবাসি ও চালকেরা।
এদিকে অন্য ঘাট গুলোর এ্যাপ্রোচ সড়কের অবস্থাও একই রকম।নেওয়া হয়নি কোন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।অথচ ঈদ এলেই ঘাট কতৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের ব্যবস্থার কথা বলা হলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা থামছেইনা।আবার ফেরির পন্টুনগুলোতে এখনো ইজিবাইক ও অটোরিক্সা ওঠানামা অব্যাহত থাকায় বড় যানবাহন চলাচলে ঝুকি বাড়ছে।ঈদের আগে ঘরমুখী মানুষ ও পশুবাহী যানবাহন নির্বিঘ্নে পারাপার ও ঈদের পরে ফেরি ঘাটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ব্যবস্থাপনায় প্রশাসেনর চার স্তরের বাহিনী কাজ করবে।জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ সদস্য,নৌ-পুলিশ,আনসার ও কোষ্টগার্ড মোতায়েন থাকবে।যাত্রীদের নিরাপত্তায় ছিনতাইকারী ও মলম পার্টিদের হাত থেকে রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন।
যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে ১৭ টি ফেরি ও চারটি ঘাট সচল থাকবে।
বাস চালক ও এলাকাবাসি জানান, বড় ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে সেদিকে নজর দিতে হবে প্রশাসন ও ঘাট কতৃপক্ষকে।নতুন ঘাট তৈরী ও যাত্রীদের ফেরিতে ওঠানামায় বাঁশের ব্যবহার ও এ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরীতে নামমাত্র দায়সাড়া কাজ করা হযেছে।শুধু টাকাই নষ্ট করা হয়েছে।এতে গুর্ঘটনার আশঙ্কা করেন তারা।
সুবর্ণা এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার রাশেদুল হক জানান, এটা আমার বোনের নামে উইল করে দেওয়া। আপনি প্রতিস্ঠানের অফিসে যোগাযোগ করে কাজ সম্পর্কে জেনে নিন।

বিআইডব্লিউটিসি সহকারী ব্যবস্থাপক জেসানুল ইসলাম তপু জানান,এ ঈদে ১৭ টি ফেরি ও নতুন একটি ঘাট সহ চারটি ঘাট সচল থাকবে। তবে ঘাটে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে বিআইডব্লিউএ’র সাথে কথা বলেছেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী বিআডব্লউটিএ আরিচা অঞ্চল রবিউল আলম ,তিনি বলেন,ঘাটের এ্যপ্রোচ সড়কের পাশ দিয়ে জিও ব্যাগ দিয়ে যাত্রীদের ওঠানামায় যেন বিচ্ছিন্নভাবে চলাচর না করতে পারে সেকারনে জিও ব্যাগ ও বাঁশ দিয়ে একটি রাস্তা করা হয়েছে।তবে এ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরীতে কোন গাফেলতি করা হয়নি।নিয়ম মেনে করা হয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন,ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রী ও গরু বোঝাই ট্রাক পারাপার হবে,সে নিশ্চয়তা ও নির্বিঘ্নে পারাপারের লক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ ঘাটে বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি সহ সকলের সহযোগীতায় কাজ করা হবে। তবে ঘাটে বাঁশের ব্যবহার ও ঘাট নির্মানের অবহেলার ব্যাপারে যাচাই করে কতটুকু যৌক্তিক তা বিআইডব্লিউটিএ’র টেকনিক্যাল টিম সহ দেখতে বলা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাজবাড়ী দৌলতদিয়া ঘাট অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত

বড় দূর্ঘটনার পরেও টনক নরছেনা কতৃপক্ষের

আপডেট সময় :

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া -পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া প্রান্তে এখনো ফেরি ঘাটগুলোর অব্যবস্থাপনা কাটেনি।বড় দুর্ঘটনার পরও টনক নড়েনি কতৃপক্ষের। ফেরি ঘাটের এ্যাপ্রোচ সড়কের কাজে কারনে দুর্গটনার আশঙ্কা করছেন চালক,যাত্রী ও এলাকাবাসি। শুধু একটি ঘাট ও দুটি ফেরি বাড়ানো আশ্বাস দিয়েছেন ঘাট সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।নিরাপত্তায় থাকবে চার স্তরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
২১ জেলার প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুট। প্রতিদিন এ নৌরুটে কয়েক হাজার যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে।কিন্তু ঈদ মৌসুম এলেই এ নৌরুটে যানবাহন ও যাত্রীদের চলাচল বেড়ে যায় কয়েকগুন। গত রমজান ঈদের পর ঘাটের অব্যবস্থাপনার কারনে বাস নদীতে ডুবে অনেক প্রানহানির ঘটনা ঘটে। কিন্তু যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে বড় দুর্ঘটনার পরও টনক নড়েনি ঘাট সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের।নদী ভাঙ্গনে পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর ৫ নং ফেরি ঘাটটি সচল করার উদ্যোগ নেয় বিআইডব্লিউটিএ।কিন্তু ঘাটটি সচল করতে কিছু জিও ব্যাগের বালু ভর্তি বস্তা, ইটের খোযা আর বালু ব্যবহার করে ঘাটের এ্যপ্রোচ সড়ক তৈরী করা হয় ৩২ লক্ষ টাকা খরচ করে।
৩ ও ৫ নং ফেরি ঘাটে কিছু সরু বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে যাত্রীদের আলাদা করে ফেরি ঘাটে ওঠা নামার ফুটপথ তৈরী করা হয়েছে।এটি এ্তই সাধারন ভাবে তৈরী করা হযেছে। যে কোন ধরনের ভারী যানবাহনের ওঠা নামায় ঘাটটিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন।সেই সাথে নদীর সাথে যাত্রীদের চলাচলের ফুটপথ করার কারনে তাদের দুর্ঘটনা বড় কারন হতে পারে। এ ঘাটের এ্যপ্রোচ সড়কটিতে যথাযথ ভাবে মজবুত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার না করার কথা জানান এলাকাবাসি ও চালকেরা।
এদিকে অন্য ঘাট গুলোর এ্যাপ্রোচ সড়কের অবস্থাও একই রকম।নেওয়া হয়নি কোন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।অথচ ঈদ এলেই ঘাট কতৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের ব্যবস্থার কথা বলা হলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা থামছেইনা।আবার ফেরির পন্টুনগুলোতে এখনো ইজিবাইক ও অটোরিক্সা ওঠানামা অব্যাহত থাকায় বড় যানবাহন চলাচলে ঝুকি বাড়ছে।ঈদের আগে ঘরমুখী মানুষ ও পশুবাহী যানবাহন নির্বিঘ্নে পারাপার ও ঈদের পরে ফেরি ঘাটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ব্যবস্থাপনায় প্রশাসেনর চার স্তরের বাহিনী কাজ করবে।জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ সদস্য,নৌ-পুলিশ,আনসার ও কোষ্টগার্ড মোতায়েন থাকবে।যাত্রীদের নিরাপত্তায় ছিনতাইকারী ও মলম পার্টিদের হাত থেকে রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন।
যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে ১৭ টি ফেরি ও চারটি ঘাট সচল থাকবে।
বাস চালক ও এলাকাবাসি জানান, বড় ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে সেদিকে নজর দিতে হবে প্রশাসন ও ঘাট কতৃপক্ষকে।নতুন ঘাট তৈরী ও যাত্রীদের ফেরিতে ওঠানামায় বাঁশের ব্যবহার ও এ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরীতে নামমাত্র দায়সাড়া কাজ করা হযেছে।শুধু টাকাই নষ্ট করা হয়েছে।এতে গুর্ঘটনার আশঙ্কা করেন তারা।
সুবর্ণা এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার রাশেদুল হক জানান, এটা আমার বোনের নামে উইল করে দেওয়া। আপনি প্রতিস্ঠানের অফিসে যোগাযোগ করে কাজ সম্পর্কে জেনে নিন।

বিআইডব্লিউটিসি সহকারী ব্যবস্থাপক জেসানুল ইসলাম তপু জানান,এ ঈদে ১৭ টি ফেরি ও নতুন একটি ঘাট সহ চারটি ঘাট সচল থাকবে। তবে ঘাটে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে বিআইডব্লিউএ’র সাথে কথা বলেছেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী বিআডব্লউটিএ আরিচা অঞ্চল রবিউল আলম ,তিনি বলেন,ঘাটের এ্যপ্রোচ সড়কের পাশ দিয়ে জিও ব্যাগ দিয়ে যাত্রীদের ওঠানামায় যেন বিচ্ছিন্নভাবে চলাচর না করতে পারে সেকারনে জিও ব্যাগ ও বাঁশ দিয়ে একটি রাস্তা করা হয়েছে।তবে এ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরীতে কোন গাফেলতি করা হয়নি।নিয়ম মেনে করা হয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন,ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রী ও গরু বোঝাই ট্রাক পারাপার হবে,সে নিশ্চয়তা ও নির্বিঘ্নে পারাপারের লক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ ঘাটে বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি সহ সকলের সহযোগীতায় কাজ করা হবে। তবে ঘাটে বাঁশের ব্যবহার ও ঘাট নির্মানের অবহেলার ব্যাপারে যাচাই করে কতটুকু যৌক্তিক তা বিআইডব্লিউটিএ’র টেকনিক্যাল টিম সহ দেখতে বলা হয়েছে।