ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জলাবদ্ধতার শঙ্কায় রাজধানী Logo মিরপুরে ভুমিদস্যূর ট্রাষ্টির জমি দখল মার্কেট নির্মান দুই নারী কর্মকর্তা হাতিয়ে নিয়েছে ২ কোটি টাকা Logo ঈশ্বরগঞ্জে দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সীলগালা Logo নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার, ১২ জেলেকে কারাদণ্ড Logo জলঢাকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুল রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ Logo পুলিশ সদস্যসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কের পাশে ভাঙ্গা বটতলায় ময়লার ভাগাড় Logo বহ্মপুত্র নদে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার Logo নাটোরে পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন Logo বহ্মপুত্র নদে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

নিয়ম-নীতির বালাই নেই

মিরপুরে ভুমিদস্যূর ট্রাষ্টির জমি দখল মার্কেট নির্মান দুই নারী কর্মকর্তা হাতিয়ে নিয়েছে ২ কোটি টাকা

হালিম মোহাম্মদ
  • আপডেট সময় : ৪৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাতের আধারে মিরপুরে আল-নাহিয়ান ট্রাষ্টের জমি অবৈধ ভাবে দখল করে বিশাল মার্কেট নির্মান করছে স্থানীয় কতিপয় ভুমি দস্যুরা। কোনো প্রকারের নোটিশ বা তথ্য ছাড়াই হঠাৎ করে রাতের গভীরে আল নহিয়ান পরিবার ও স্কুলের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে মার্কেট বানানো শুরু করা হয়। মার্কেটটির নীচ তলা এবং দোতালাসহ প্রায় শতাধিক দোকান নির্মান করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আল নাহিয়ান পরিবারের স্কুলের পাশে রয়েছে সনি সিনে কমপ্লেক্স এর টাওয়ার। সেই টাওয়ারের মালিক ভুমিদস্যু হোসেন আহমেদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সমাজ সেবা সূত্রে জানা গেছে, আল নাহিয়ান পরিবার ও স্কুলের কর্মকর্তা সামশুন নাহার সুমি ও উম্মে হাবিবার ছত্রছায়ায় স্থানীয় ভুমিদস্যুদের নিয়ে অবৈধ দখলবাজি করে মার্কেট নির্মান করছে। শুধু তাই নয়, সামশুন নাহার সুমি ও উম্মে হাবিবা এই মার্কেট নির্মান ও দোকান বরাদ্ধ বাবত প্রায় ২কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।এঘটনার সঙ্গে মিরপুর এক নম্বর সেকশনের ও শাহআলীবাগ এলাকার চাদাবাজ মাদকসেবী ও সাবেক জনপ্রতিনিধি এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সমর্থকরাও জড়িত রয়েছে।
সমাজ সেবা সূত্র আরো জানায়, এসকল অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি আল নাহিয়ান পরিবার ও স্কুলের কর্মকর্তা উম্মে হাবিবাকে অনত্র বদলি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অপর কর্মকর্তা সামশুন নাহার সুমিকে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। সূত্র মতে, ট্রাষ্টি বোর্ডের কোনো সম্পদ
অনত্র বরাদ্ধ বা হস্তান্তর করতে হলে আগে বোর্ডের অনুমোদন নিতে হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জমি বা সম্পদের সম্মুখে দৃষ্টিনন্দন স্থানে নোটিশ টানিয়ে অবহিত করতে হয়। সংশ্লিষ্ট এই নারী দুই কর্মকর্তা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দুর্নীতির মাধামে প্রতি দোকান ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্ধ দিয়ে প্রায় দুই কোটিরও অধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
এবিষয়ে সনি টাওয়ারের মালিক হোসেন আহমেদ বলেন, আল নাহিয়ান স্কুলের প্রাচীর ভেঙ্গে জমি দখল ও মার্কেট নির্মান এবং দোকানের পজিশন বিক্রি করা হচ্ছে। তার সব কিছুই করেছেন নাহিয়ানের কর্মকর্তা সামশুন নাহার ও উম্মে হাবিবা মেডাম। আমাকে বলেছেন, নির্মান কাজ ও দোকানগুলো বিক্রি করে সহযোগিতা করার জন্য। আমি সেই কাজ করেছি মাত্র। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতি দোকান পনের থেকে বিশ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। অথচ আল নাহিয়ানের ফান্ডে প্রতি দোকান দুই হাজার থেকে দশ হাজার চারশত টাকা প্রদান করা হয়েছে। আর সম্পুর্ণ টাকা নাহিয়ানের নারী দুই কর্মকর্তা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ অনৈতিক কাজের বিরোধিতা করায় আল নাহিয়ানের হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মজিবুর রহমানকে পদানবতি করা বদলির হুমকি প্রদান করেছে উম্মে হাবিবা। এবিষয়ে মুঠোফোনে উম্মে হাবিবা বলেন, আমি ভীষন অসুস্থ। এখন আমি কোনো কথা বলতে পারব না।
অপরদিকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী পরিচালক সামশুন নাহার সুমি মুঠোফোনে বলেন, নিয়ম মেনেই আল নাহিয়ান পরিবারের স্কুলের জমিতে মার্কেট নির্মান করা হচ্ছে। স্কুলের আয় বাড়ানোর লক্ষে মার্কেট নির্মানের কাজ করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো মার্কেটের নির্মান কাজ শেষ হয়নি। দোকান বরাদ্ধ তো দুরের কথা। অবশ্য হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মজিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী নামে মাত্র টাকা দেখিয়ে দোকানগুলো বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে বরাদ্ধের নামে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা প্রতি দোকান থেকে নেয়া হয়েছে। সেই মোটা অঙ্কের টাকা আল নাহিয়ানের কোষাগারে জমা দেয়া হয়নি। সব মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকান মতো হাতিয়ে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দুই নারী কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নিয়ম-নীতির বালাই নেই

মিরপুরে ভুমিদস্যূর ট্রাষ্টির জমি দখল মার্কেট নির্মান দুই নারী কর্মকর্তা হাতিয়ে নিয়েছে ২ কোটি টাকা

আপডেট সময় :

রাতের আধারে মিরপুরে আল-নাহিয়ান ট্রাষ্টের জমি অবৈধ ভাবে দখল করে বিশাল মার্কেট নির্মান করছে স্থানীয় কতিপয় ভুমি দস্যুরা। কোনো প্রকারের নোটিশ বা তথ্য ছাড়াই হঠাৎ করে রাতের গভীরে আল নহিয়ান পরিবার ও স্কুলের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে মার্কেট বানানো শুরু করা হয়। মার্কেটটির নীচ তলা এবং দোতালাসহ প্রায় শতাধিক দোকান নির্মান করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আল নাহিয়ান পরিবারের স্কুলের পাশে রয়েছে সনি সিনে কমপ্লেক্স এর টাওয়ার। সেই টাওয়ারের মালিক ভুমিদস্যু হোসেন আহমেদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সমাজ সেবা সূত্রে জানা গেছে, আল নাহিয়ান পরিবার ও স্কুলের কর্মকর্তা সামশুন নাহার সুমি ও উম্মে হাবিবার ছত্রছায়ায় স্থানীয় ভুমিদস্যুদের নিয়ে অবৈধ দখলবাজি করে মার্কেট নির্মান করছে। শুধু তাই নয়, সামশুন নাহার সুমি ও উম্মে হাবিবা এই মার্কেট নির্মান ও দোকান বরাদ্ধ বাবত প্রায় ২কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।এঘটনার সঙ্গে মিরপুর এক নম্বর সেকশনের ও শাহআলীবাগ এলাকার চাদাবাজ মাদকসেবী ও সাবেক জনপ্রতিনিধি এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সমর্থকরাও জড়িত রয়েছে।
সমাজ সেবা সূত্র আরো জানায়, এসকল অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি আল নাহিয়ান পরিবার ও স্কুলের কর্মকর্তা উম্মে হাবিবাকে অনত্র বদলি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অপর কর্মকর্তা সামশুন নাহার সুমিকে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। সূত্র মতে, ট্রাষ্টি বোর্ডের কোনো সম্পদ
অনত্র বরাদ্ধ বা হস্তান্তর করতে হলে আগে বোর্ডের অনুমোদন নিতে হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জমি বা সম্পদের সম্মুখে দৃষ্টিনন্দন স্থানে নোটিশ টানিয়ে অবহিত করতে হয়। সংশ্লিষ্ট এই নারী দুই কর্মকর্তা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দুর্নীতির মাধামে প্রতি দোকান ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্ধ দিয়ে প্রায় দুই কোটিরও অধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
এবিষয়ে সনি টাওয়ারের মালিক হোসেন আহমেদ বলেন, আল নাহিয়ান স্কুলের প্রাচীর ভেঙ্গে জমি দখল ও মার্কেট নির্মান এবং দোকানের পজিশন বিক্রি করা হচ্ছে। তার সব কিছুই করেছেন নাহিয়ানের কর্মকর্তা সামশুন নাহার ও উম্মে হাবিবা মেডাম। আমাকে বলেছেন, নির্মান কাজ ও দোকানগুলো বিক্রি করে সহযোগিতা করার জন্য। আমি সেই কাজ করেছি মাত্র। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতি দোকান পনের থেকে বিশ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। অথচ আল নাহিয়ানের ফান্ডে প্রতি দোকান দুই হাজার থেকে দশ হাজার চারশত টাকা প্রদান করা হয়েছে। আর সম্পুর্ণ টাকা নাহিয়ানের নারী দুই কর্মকর্তা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ অনৈতিক কাজের বিরোধিতা করায় আল নাহিয়ানের হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মজিবুর রহমানকে পদানবতি করা বদলির হুমকি প্রদান করেছে উম্মে হাবিবা। এবিষয়ে মুঠোফোনে উম্মে হাবিবা বলেন, আমি ভীষন অসুস্থ। এখন আমি কোনো কথা বলতে পারব না।
অপরদিকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী পরিচালক সামশুন নাহার সুমি মুঠোফোনে বলেন, নিয়ম মেনেই আল নাহিয়ান পরিবারের স্কুলের জমিতে মার্কেট নির্মান করা হচ্ছে। স্কুলের আয় বাড়ানোর লক্ষে মার্কেট নির্মানের কাজ করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো মার্কেটের নির্মান কাজ শেষ হয়নি। দোকান বরাদ্ধ তো দুরের কথা। অবশ্য হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মজিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী নামে মাত্র টাকা দেখিয়ে দোকানগুলো বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে বরাদ্ধের নামে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা প্রতি দোকান থেকে নেয়া হয়েছে। সেই মোটা অঙ্কের টাকা আল নাহিয়ানের কোষাগারে জমা দেয়া হয়নি। সব মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকান মতো হাতিয়ে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দুই নারী কর্মকর্তা।