ঢাকা ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মুকসুদপুরের বিএনপি নেতা সেলিম মোল্লা বহিষ্কার

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৪১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কাশালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোঃ সেলিম মোল্লাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপি। উপজেলা বিএনপির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কাশালিয়া ইউনিয়নবাসী ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের অনুভূতি দেখা গেছে।
গত ৩১ মে ২০২৬ তারিখে মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম শরীফ স্বাক্ষরিত এক বহিষ্কার নোটিশে জানানো হয়, কাশালিয়া গ্রামের মৃত গঞ্জর মোল্লার পুত্র মোঃ সেলিম মোল্লাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কাশালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সেলিম মোল্লার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ ক্রমশ বাড়তে থাকে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি বিভিন্ন সময় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কাবির মিয়া এবং বিএনপির নাম ব্যবহার করে নিজস্ব বলয় গড়ে তোলেন এবং রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেলিম মোল্লা ও তার ভাগ্নে রাজিব শেখ (৩০) পিতা মুত কাইয়ুম আলী শেখ, ভাইসহ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি করেন। এ গোষ্ঠীর মাধ্যমে কাশালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনেক পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত অবস্থায় জীবনযাপন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, রাজনৈতিক পরিচয়কে পুঁজি করে কিছু ব্যক্তি নিজেদের ক্ষমতাবান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও ক্ষোভের পর অবশেষে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এলাকাবাসীর মতে, বিএনপির আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ডের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। তাই সময়োপযোগী এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
কাশালিয়া ইউনিয়ন ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অসংখ্য বাসিন্দা মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, জনগণের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও দলের নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনমুখী রাজনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাশালিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষও প্রত্যাশা করছেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যেন জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে এবং এলাকার উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হয়।তবে মনে রাখবেন, সংবাদে যেসব অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো অভিযোগ বা স্থানীয়দের দাবি হিসেবে উপস্থাপন করাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে নিরাপদ ও সঠিক পদ্ধতি। কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তা চূড়ান্ত সত্য হিসেবে লেখা উচিত নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মুকসুদপুরের বিএনপি নেতা সেলিম মোল্লা বহিষ্কার

আপডেট সময় :

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কাশালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোঃ সেলিম মোল্লাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপি। উপজেলা বিএনপির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কাশালিয়া ইউনিয়নবাসী ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের অনুভূতি দেখা গেছে।
গত ৩১ মে ২০২৬ তারিখে মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম শরীফ স্বাক্ষরিত এক বহিষ্কার নোটিশে জানানো হয়, কাশালিয়া গ্রামের মৃত গঞ্জর মোল্লার পুত্র মোঃ সেলিম মোল্লাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কাশালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সেলিম মোল্লার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ ক্রমশ বাড়তে থাকে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি বিভিন্ন সময় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কাবির মিয়া এবং বিএনপির নাম ব্যবহার করে নিজস্ব বলয় গড়ে তোলেন এবং রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেলিম মোল্লা ও তার ভাগ্নে রাজিব শেখ (৩০) পিতা মুত কাইয়ুম আলী শেখ, ভাইসহ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি করেন। এ গোষ্ঠীর মাধ্যমে কাশালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনেক পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত অবস্থায় জীবনযাপন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, রাজনৈতিক পরিচয়কে পুঁজি করে কিছু ব্যক্তি নিজেদের ক্ষমতাবান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও ক্ষোভের পর অবশেষে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এলাকাবাসীর মতে, বিএনপির আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ডের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। তাই সময়োপযোগী এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
কাশালিয়া ইউনিয়ন ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অসংখ্য বাসিন্দা মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, জনগণের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও দলের নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনমুখী রাজনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাশালিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষও প্রত্যাশা করছেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যেন জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে এবং এলাকার উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হয়।তবে মনে রাখবেন, সংবাদে যেসব অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো অভিযোগ বা স্থানীয়দের দাবি হিসেবে উপস্থাপন করাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে নিরাপদ ও সঠিক পদ্ধতি। কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তা চূড়ান্ত সত্য হিসেবে লেখা উচিত নয়।