ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

আটপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ভাঙচুরের চেষ্টা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেত্রকোনার আটপাড়ায় মিটারে সংয়োগ দেওয়ার বিষয় নিয়ে অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হামলা ভাঙচুর এবং মারধরের অভিযোগ ওঠেছে উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের মো. ইয়াসিন ইবনে জাবির ও তার কয়েক সহযোগির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের সাব জোনাল অফিসের এজিএম মো. ইকবাল হোসেন সরকার গত ১২ মে আটপাড়ায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। শনিবার এজিএম মো. ইকবাল হোসেন সরকার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
অভিযোগে জানা গেছে, নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের মো. ইয়াসিন ইবনে জাবির গত ১২ মে আটপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যান। তার আবেদনকৃত একটি মিটারে সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের সাব জোনাল অফিসের এজিএম মো. ইকবাল হোসেন সরকারের সাথে আলোচনা করেন। তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে আবেদনের বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে তাকে জামানতের টাকা দেওয়ার জন্য বলা হয়। ওইদিনই ইয়াসিন জামানতের টাকাও জমা দেন। টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি এজিএমকে জানালে সংযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে তিনি এজিএমের অফিস থেকে বের হয়ে যান। পরে ওই অফিসের সামনে থাকা মো. সুমন মিয়া ও হারুন অর রশিদের সাথে আলাপ করে ফের জিএমের আছে যান এবং বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এজিএম এ ব্যাপারে দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বললেও তিনি মানতে রাজি নন। এ সময় ইয়াসিন ইবনে জাবির অফিস কক্ষে হৈ চৈ নানা হুমকি প্রদান করেন। এমনকি অফিসের বাইরে গেলে এজিএমকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন ইয়াসিন। হৈ চৈ শুনে ওই অফিসের ওয়ারিং পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল হাদী এজিএমের কক্ষে যান এবং ইয়াসিনকে তার কক্ষে যাওয়ার জন্য বলেন। পরে ইয়াসিন ইবনে জাবির, সুমন মিয়া, হারুন অর রশিদসহ বহিরাগত কিছু লোক নিয়ে অফিসের আসবাপত্র ভাঙচুরের চেষ্টা ও অফিসের লোকজনকে নানা ধরণের হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনায় আটপাড়া পল্লী বিদ্যুতের সাব জোনাল অফিসের এজিএম মো. ইকবাল হোসেন সরকার ইয়াসিন ইবনে জাবির, সুমন মিয়া, হারুন অর রধিম ও অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে আটপাড়ায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ইয়াসিন ইবনে জাবির বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা আমাকে অফিসের বেশ কিছুদিন ঘুরিয়েছে। পরে ওই অফিসে গেলে লাইন সংযোগের জন্য টাকা জমা দেওয়া কথা বললে আমি টাকা জমা দেই। এ নিয়ে অফিসের লোকজনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। হামলা বা ভাঙচুরের চেষ্টার অভিযোগ মিথ্যে।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আটপাড়ায় বিদ্যুৎ মিটারে সংযোগ দেওয়া নিয়ে এজিএম ও অফিসের লোকজনের সাথে স্থানীয় কয়েকজনের ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি। এজিএম এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করেছেন।
আটপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সাব জোনের এজিএম মো. ইকবাল হোসেন সরকার বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার বিষয় নিয়ে ইয়াসিন ইবনে জাবির ও তার কয়েক সহযোগি আমার ও আমার অফিসের লোকজনের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। তারা অফিসের আসবাপত্র ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।
আটপাড়া থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার বিষয় নিয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আটপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ভাঙচুরের চেষ্টা

আপডেট সময় :

নেত্রকোনার আটপাড়ায় মিটারে সংয়োগ দেওয়ার বিষয় নিয়ে অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হামলা ভাঙচুর এবং মারধরের অভিযোগ ওঠেছে উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের মো. ইয়াসিন ইবনে জাবির ও তার কয়েক সহযোগির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের সাব জোনাল অফিসের এজিএম মো. ইকবাল হোসেন সরকার গত ১২ মে আটপাড়ায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। শনিবার এজিএম মো. ইকবাল হোসেন সরকার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
অভিযোগে জানা গেছে, নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের মো. ইয়াসিন ইবনে জাবির গত ১২ মে আটপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যান। তার আবেদনকৃত একটি মিটারে সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের সাব জোনাল অফিসের এজিএম মো. ইকবাল হোসেন সরকারের সাথে আলোচনা করেন। তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে আবেদনের বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে তাকে জামানতের টাকা দেওয়ার জন্য বলা হয়। ওইদিনই ইয়াসিন জামানতের টাকাও জমা দেন। টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি এজিএমকে জানালে সংযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে তিনি এজিএমের অফিস থেকে বের হয়ে যান। পরে ওই অফিসের সামনে থাকা মো. সুমন মিয়া ও হারুন অর রশিদের সাথে আলাপ করে ফের জিএমের আছে যান এবং বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এজিএম এ ব্যাপারে দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বললেও তিনি মানতে রাজি নন। এ সময় ইয়াসিন ইবনে জাবির অফিস কক্ষে হৈ চৈ নানা হুমকি প্রদান করেন। এমনকি অফিসের বাইরে গেলে এজিএমকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন ইয়াসিন। হৈ চৈ শুনে ওই অফিসের ওয়ারিং পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল হাদী এজিএমের কক্ষে যান এবং ইয়াসিনকে তার কক্ষে যাওয়ার জন্য বলেন। পরে ইয়াসিন ইবনে জাবির, সুমন মিয়া, হারুন অর রশিদসহ বহিরাগত কিছু লোক নিয়ে অফিসের আসবাপত্র ভাঙচুরের চেষ্টা ও অফিসের লোকজনকে নানা ধরণের হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনায় আটপাড়া পল্লী বিদ্যুতের সাব জোনাল অফিসের এজিএম মো. ইকবাল হোসেন সরকার ইয়াসিন ইবনে জাবির, সুমন মিয়া, হারুন অর রধিম ও অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে আটপাড়ায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ইয়াসিন ইবনে জাবির বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা আমাকে অফিসের বেশ কিছুদিন ঘুরিয়েছে। পরে ওই অফিসে গেলে লাইন সংযোগের জন্য টাকা জমা দেওয়া কথা বললে আমি টাকা জমা দেই। এ নিয়ে অফিসের লোকজনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। হামলা বা ভাঙচুরের চেষ্টার অভিযোগ মিথ্যে।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আটপাড়ায় বিদ্যুৎ মিটারে সংযোগ দেওয়া নিয়ে এজিএম ও অফিসের লোকজনের সাথে স্থানীয় কয়েকজনের ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি। এজিএম এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করেছেন।
আটপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সাব জোনের এজিএম মো. ইকবাল হোসেন সরকার বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার বিষয় নিয়ে ইয়াসিন ইবনে জাবির ও তার কয়েক সহযোগি আমার ও আমার অফিসের লোকজনের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। তারা অফিসের আসবাপত্র ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।
আটপাড়া থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার বিষয় নিয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।