ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

কক্সবাজারের গর্জনিয়ায় ফায়ার স্টেশন না তাকায় পুড়ছে সম্পদ

এস এম হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার
  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

তীব্র দাবদাহে আগুনের আশঙ্কায় কাপালে চিন্তার ভাজ স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে কক্সবাজারের গর্জনিয়া এলাকার বাসিন্দাদের। রামু উপজেলার বৃহত্তর গর্জনিয়ায় ( কচ্ছপিয়া,ঈদগড়, গর্জনিয়া) কোন ফায়ার স্টেশন নেই। গর্জনিয়া থেকে ৪৫ কিলোমিটার দুরে রামু সদরে রয়েছে ফায়ার স্টেশন।

গর্জনিয়া বা আমপাশের এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হলে ৪৫ কিলোমিটার দুর থেকে আগুন নেভানোর গাড়ি ঘটনা স্থলে পৌছানোর আগেই সহায়-সম্বল ভস্মিভূত হয়ে যায়। অতীতে এমন প্রমাণ রয়েছে।

সর্বশেষ ২০ এপ্রিল উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের জুমছড়ির একটি বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। কিন্তু ৪৫ কিলোমিটার দুরে রামু থেকে আগুন নেভানোর গাড়ি ঘটনাস্থলে পেওছানোর অনেক আগেই বাড়িঘর ভস্মিভূত হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গেল সাপ্তাহে গর্জনিয়া বাজারে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে রামু ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু রামু থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসার আগেই সব পুড়ে যায়। গর্জনিয়ার আগুনে ব্যাপক ক্ষতির কথা স্বীকার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

প্রশাসন বলছে গত কয়েক বছরে গর্জনিয়া বাজারে অগ্নিকান্ডে অন্তত ৫০ কোটি টাকার ও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে গর্জনিয়া বাজার ও বেলতলি বাজার , ২০১৯ সালে গিরিঙ্গি বাজার, ২০২০ সালে জুমছড়ি বাজার, ২০২১ সালে থিমছড়ি বাজার, ২০২১ সালে বড়বিল বাজার ২০২২ সালে দোছড়ি বাজার, ২০২৩ সালে মৌলভী কাটা স্টেশন বাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লা ও বসতবাড়িতে আরও ৭০থেকে ৮০ টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে গর্জনিয়া বাজারে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।

গর্জনিয়া বাজারের মসজিদ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি নেতা ও মিষ্টি বন এর সত্ত্বাধিকারী সরওয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধনও করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং আগুনের চোখ রাঙানিতে দুশ্চিন্তার বসবাস করছে এলাকাবাসী।

যুবনেতা শাহজলাল বলেন, রামু থেকে গর্জনিয়া বাজারের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি। এ ছাড়া সরু ও আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তায় গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লেগে যায়।

গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বাবুল চৌধুরী বলেন, ফায়ার স্টেশন থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেক কমে আসত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রাশেদুল ইসলাম দৈনিক গণমুক্তিকে বলেন, বৃহত্তর গর্জনিয়ায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের জন্য দাবীর বিষয়টি অবগত আছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কক্সবাজারের গর্জনিয়ায় ফায়ার স্টেশন না তাকায় পুড়ছে সম্পদ

আপডেট সময় : ০৮:০৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

 

তীব্র দাবদাহে আগুনের আশঙ্কায় কাপালে চিন্তার ভাজ স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে কক্সবাজারের গর্জনিয়া এলাকার বাসিন্দাদের। রামু উপজেলার বৃহত্তর গর্জনিয়ায় ( কচ্ছপিয়া,ঈদগড়, গর্জনিয়া) কোন ফায়ার স্টেশন নেই। গর্জনিয়া থেকে ৪৫ কিলোমিটার দুরে রামু সদরে রয়েছে ফায়ার স্টেশন।

গর্জনিয়া বা আমপাশের এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হলে ৪৫ কিলোমিটার দুর থেকে আগুন নেভানোর গাড়ি ঘটনা স্থলে পৌছানোর আগেই সহায়-সম্বল ভস্মিভূত হয়ে যায়। অতীতে এমন প্রমাণ রয়েছে।

সর্বশেষ ২০ এপ্রিল উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের জুমছড়ির একটি বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। কিন্তু ৪৫ কিলোমিটার দুরে রামু থেকে আগুন নেভানোর গাড়ি ঘটনাস্থলে পেওছানোর অনেক আগেই বাড়িঘর ভস্মিভূত হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গেল সাপ্তাহে গর্জনিয়া বাজারে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে রামু ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু রামু থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসার আগেই সব পুড়ে যায়। গর্জনিয়ার আগুনে ব্যাপক ক্ষতির কথা স্বীকার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

প্রশাসন বলছে গত কয়েক বছরে গর্জনিয়া বাজারে অগ্নিকান্ডে অন্তত ৫০ কোটি টাকার ও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে গর্জনিয়া বাজার ও বেলতলি বাজার , ২০১৯ সালে গিরিঙ্গি বাজার, ২০২০ সালে জুমছড়ি বাজার, ২০২১ সালে থিমছড়ি বাজার, ২০২১ সালে বড়বিল বাজার ২০২২ সালে দোছড়ি বাজার, ২০২৩ সালে মৌলভী কাটা স্টেশন বাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লা ও বসতবাড়িতে আরও ৭০থেকে ৮০ টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে গর্জনিয়া বাজারে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।

গর্জনিয়া বাজারের মসজিদ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি নেতা ও মিষ্টি বন এর সত্ত্বাধিকারী সরওয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধনও করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং আগুনের চোখ রাঙানিতে দুশ্চিন্তার বসবাস করছে এলাকাবাসী।

যুবনেতা শাহজলাল বলেন, রামু থেকে গর্জনিয়া বাজারের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি। এ ছাড়া সরু ও আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তায় গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লেগে যায়।

গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বাবুল চৌধুরী বলেন, ফায়ার স্টেশন থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেক কমে আসত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রাশেদুল ইসলাম দৈনিক গণমুক্তিকে বলেন, বৃহত্তর গর্জনিয়ায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের জন্য দাবীর বিষয়টি অবগত আছেন।