ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

গর্জনিয়ায় পুলিশের এসআই জুয়েলের বদলি ঘিরে জনমনে উদ্বেগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মোঃ জুয়েল চৌধুরীর নেতৃত্বে একের পর এক দুঃসাহসিক অভিযানে গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের অপরাধ জগতে নেমে এসেছে অস্বস্তি ও আতঙ্ক। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবার, চোরাচালান, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি ও নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকা চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন আস্থার প্রতীক। অন্যদিকে অপরাধীদের কাছে তিনি যেন এক আতঙ্কের নাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসআই জুয়েল চৌধুরী মাদক, চোরাচালান ও অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ইতোমধ্যে ২৫টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া চোরাইপথে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ চিপস, ঔষধ ও ফ্লাক্স জব্দ করে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযানের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ লক্ষ পিস ইয়াবা উদ্ধার। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার নম্বর-৩০, তারিখ ১৩/০৫/২০২৬। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, এই অভিযানের পর থেকে এলাকার ইয়াবা সিন্ডিকেটের অনেক গডফাদার আত্মগোপনে চলে যায় এবং সীমান্তভিত্তিক চোরাকারবারি চক্রগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে।
এক সময়ের অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়ায় বর্তমানে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর ভাষ্য, “আগে সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ আতঙ্কে চলাফেরা করতো। এখন পুলিশি টহল ও অভিযানের কারণে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে।”
তবে এসআই জুয়েল চৌধুরীর এই কঠোর অবস্থানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র তাকে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির চালাচ্ছে। এমনকি কিছু অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এসআই জুয়েল চৌধুরী একজন সৎ, সাহসী ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা পালন করায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা অনুভব করছে। তার বদলি হলে অপরাধীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের অনেকেই মনে করেন, অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকার কারণেই একটি কুচক্রী মহল তাকে টার্গেট করেছে। তারা ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এদিকে বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জে কর্মরত এসআই (নিরস্ত্র) পদমর্যাদার ২০ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। ২০ মে ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত রেঞ্জ আদেশ নং- ফোর্স/০১.১০.২২-২০২৬/৩০২ এবং স্মারক নং- ফোর্স/০১.১০.২২-২০২৬/৫৪৫৭(০৭) অনুযায়ী এ বদলি কার্যকর করা হয়।
বদলিকৃত কর্মকর্তাদের তালিকায় এসআই মোঃ জুয়েল চৌধুরীর নামও রয়েছে। আদেশ অনুযায়ী তাকে রামুর গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লক্ষ্মীপুর জেলায় বদলি করা হয়েছে। আগামী ১ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে তার এই বদলিকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কারণেই একটি প্রভাবশালী চক্র তাকে সরিয়ে দিতে সক্রিয় ছিল।
সচেতন মহলের দাবি, গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে এসআই জুয়েল চৌধুরীর ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গর্জনিয়ায় পুলিশের এসআই জুয়েলের বদলি ঘিরে জনমনে উদ্বেগ

আপডেট সময় :

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মোঃ জুয়েল চৌধুরীর নেতৃত্বে একের পর এক দুঃসাহসিক অভিযানে গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের অপরাধ জগতে নেমে এসেছে অস্বস্তি ও আতঙ্ক। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবার, চোরাচালান, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি ও নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকা চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন আস্থার প্রতীক। অন্যদিকে অপরাধীদের কাছে তিনি যেন এক আতঙ্কের নাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসআই জুয়েল চৌধুরী মাদক, চোরাচালান ও অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ইতোমধ্যে ২৫টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া চোরাইপথে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ চিপস, ঔষধ ও ফ্লাক্স জব্দ করে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযানের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ লক্ষ পিস ইয়াবা উদ্ধার। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার নম্বর-৩০, তারিখ ১৩/০৫/২০২৬। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, এই অভিযানের পর থেকে এলাকার ইয়াবা সিন্ডিকেটের অনেক গডফাদার আত্মগোপনে চলে যায় এবং সীমান্তভিত্তিক চোরাকারবারি চক্রগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে।
এক সময়ের অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়ায় বর্তমানে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর ভাষ্য, “আগে সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ আতঙ্কে চলাফেরা করতো। এখন পুলিশি টহল ও অভিযানের কারণে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে।”
তবে এসআই জুয়েল চৌধুরীর এই কঠোর অবস্থানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র তাকে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির চালাচ্ছে। এমনকি কিছু অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এসআই জুয়েল চৌধুরী একজন সৎ, সাহসী ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা পালন করায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা অনুভব করছে। তার বদলি হলে অপরাধীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের অনেকেই মনে করেন, অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকার কারণেই একটি কুচক্রী মহল তাকে টার্গেট করেছে। তারা ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এদিকে বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জে কর্মরত এসআই (নিরস্ত্র) পদমর্যাদার ২০ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। ২০ মে ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত রেঞ্জ আদেশ নং- ফোর্স/০১.১০.২২-২০২৬/৩০২ এবং স্মারক নং- ফোর্স/০১.১০.২২-২০২৬/৫৪৫৭(০৭) অনুযায়ী এ বদলি কার্যকর করা হয়।
বদলিকৃত কর্মকর্তাদের তালিকায় এসআই মোঃ জুয়েল চৌধুরীর নামও রয়েছে। আদেশ অনুযায়ী তাকে রামুর গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লক্ষ্মীপুর জেলায় বদলি করা হয়েছে। আগামী ১ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে তার এই বদলিকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কারণেই একটি প্রভাবশালী চক্র তাকে সরিয়ে দিতে সক্রিয় ছিল।
সচেতন মহলের দাবি, গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে এসআই জুয়েল চৌধুরীর ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।