ঢাকা ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘খেলাধুলাই পারে সীমান্তের দেয়াল ভাঙতে’: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক Logo ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন ঠেকাতে চিলমারী রক্ষার দাবি, চরবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আহ্বান Logo ‘সমাজের নিকৃষ্ট মানুষ আওয়ামী লীগ করে’—সিরাজগঞ্জে মন্ত্রী টুকু Logo সুবর্ণচরে মৎস্য প্রজেক্ট দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ, মানববন্ধনে বাধার দাবি Logo বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্রে না যাওয়ার আহ্বান কোস্টগার্ডের Logo বন্ধ পাটকল ও টেক্সটাইল মিল চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী Logo কাঁঠালিয়ায় মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি Logo নোয়াখালীতে ট্রাকের ধাক্কায় কৃষি কর্মকর্তা নিহত Logo ঘাটাইলে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক র‍্যালি Logo জনবল সংকট ও দালালচক্রে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভোগান্তি

তরুণ-তরুণীদের যৌথ উদ্যোগে টেকনাফে সবুজায়ন কর্মসূচি

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অর্থায়নে এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের (AAB) কারিগরি সহায়তায় স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা শেড (SHED) বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে ‘যুব-নেতৃত্বাধীন শান্তি বিনির্মাণ ও সামাজিক সম্প্রীতি উদ্যোগ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার (১০ জুন) টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪ এর লেদা এলাকায়। শেডের প্রতিনিধি আসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় এবং উদ্বোধন ঘোষণা করেন ক্যাম্প ইনচার্জ (CIC) কার্যালয়ের কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ সোহেল। এ সময় বক্তব্য রাখেন সিএমএ শাহাদুল ইসলাম, শেডের পিসবিল্ডিং প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর (PC) এরশাদুল ইসলাম, ইয়ুথ চ্যাম্পিয়ন তানজিনা মোহাম্মদ জয়া এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধি আব্দুর রহমান।বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব এবং স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।পরে হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়ায় দ্বিতীয় পর্বের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হ্নীলা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রাহেমা আক্তার। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী যুবকদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।এরপর যুব পিসবিল্ডাররা নিম, আম, জাম, বাদাম, পেয়ারা ও শিশু গাছসহ বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। তারা সড়কের বিভিন্ন পাশে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃক্ষরোপণ করেন এবং গাছগুলোর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। রাহেমা আক্তার যুবকদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।কর্মসূচিতে কাইকাই রাখাইন এডুকেশন গ্রুপের সদস্য হেমেওয়ান রাখাইন, সাগরিকা আক্তার, কাকন দাশ, পিসবিল্ডার রবিউল আলমসহ স্থানীয় ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন। তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করেন।আয়োজকরা জানান, যুব পিসবিল্ডারদের এই যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা চর্চা উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা।অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গান, সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। স্থানীয় ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকারীরা আনন্দঘন পরিবেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। আয়োজকরা দৈনিক জাতীয় গণমুক্তির সাংবাদিককে জানান, এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।অনুষ্ঠি শেষে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তরুণ-তরুণীদের যৌথ উদ্যোগে টেকনাফে সবুজায়ন কর্মসূচি

আপডেট সময় :

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অর্থায়নে এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের (AAB) কারিগরি সহায়তায় স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা শেড (SHED) বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে ‘যুব-নেতৃত্বাধীন শান্তি বিনির্মাণ ও সামাজিক সম্প্রীতি উদ্যোগ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার (১০ জুন) টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪ এর লেদা এলাকায়। শেডের প্রতিনিধি আসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় এবং উদ্বোধন ঘোষণা করেন ক্যাম্প ইনচার্জ (CIC) কার্যালয়ের কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ সোহেল। এ সময় বক্তব্য রাখেন সিএমএ শাহাদুল ইসলাম, শেডের পিসবিল্ডিং প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর (PC) এরশাদুল ইসলাম, ইয়ুথ চ্যাম্পিয়ন তানজিনা মোহাম্মদ জয়া এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধি আব্দুর রহমান।বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব এবং স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।পরে হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়ায় দ্বিতীয় পর্বের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হ্নীলা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রাহেমা আক্তার। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী যুবকদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।এরপর যুব পিসবিল্ডাররা নিম, আম, জাম, বাদাম, পেয়ারা ও শিশু গাছসহ বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। তারা সড়কের বিভিন্ন পাশে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃক্ষরোপণ করেন এবং গাছগুলোর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। রাহেমা আক্তার যুবকদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।কর্মসূচিতে কাইকাই রাখাইন এডুকেশন গ্রুপের সদস্য হেমেওয়ান রাখাইন, সাগরিকা আক্তার, কাকন দাশ, পিসবিল্ডার রবিউল আলমসহ স্থানীয় ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন। তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করেন।আয়োজকরা জানান, যুব পিসবিল্ডারদের এই যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা চর্চা উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা।অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গান, সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। স্থানীয় ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকারীরা আনন্দঘন পরিবেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। আয়োজকরা দৈনিক জাতীয় গণমুক্তির সাংবাদিককে জানান, এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।অনুষ্ঠি শেষে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।