মঠবাড়িয়ায় আদালতের জমি দখলের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
- আপডেট সময় : ২৬ বার পড়া হয়েছে
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা (১৪৪/১৪৫ ধারা) অমান্য করে এক কৃষকের নানার বাড়ির সম্পত্তি জবরদখল ও চাষাবাদের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। উপজেলার দক্ষিণ হালতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আদালতের আদেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে বীজ ধান রোপণ করায় এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া থানার জেএল নং ৬২, দক্ষিণ হালতা মৌজার এসএ খতিয়ান নং ৩২৪, দাগ নং ৮৪২ ও ৮৪৪-এর মোট ৩.৪২ শতাংশ জমির মধ্যে ১.৭১ শতাংশ জমির দেখাশোনা ও ভোগদখল করে আসছেন মৃত আঃ রশিদ ফরাজির ছেলে শহিদুল ইসলাম ফরাজি। উক্ত সম্পত্তিটি তাঁর মা ও নানীর নামে রেকর্ডীয় সম্পত্তি। কিন্তু তার মামা ও মামাতো ভাইরা মোঃ আবু বকর সিদ্দিক মোল্লা (৭৫), মোহাম্মদ মাসুম মোল্লা (৪০), মোহাম্মদ নাসির মোল্লা (৩৪) ও মোঃ খলিল হাওলাদার (৫০) দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তি জবরদখলের পাঁয়তারা ও ক্ষতিসাধন করে আসছিলেন। এতে বাধা দিলে তাঁরা শহিদুল ইসলামকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদর্শন করেন।
নিরাপত্তা ও সম্পত্তির সুরক্ষায় ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম ফরাজি গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে মঠবাড়িয়া বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশকে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে ১৪৪/১৪৫ ধারা (স্থিতাবস্থা) জারির আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মঠবাড়িয়া থানার এএসআই মোহাম্মদ হেলালউর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে নোটিশ জারি করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও তা সম্পূর্ণ তোয়াক্কা না করে গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিবাদী পক্ষ জোরপূর্বক ওই জমিতে বীজ ধান রোপণ করে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম ফরাজি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আদালত যেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি করেছেন, সেখানে আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে আসামিপক্ষ কীভাবে জোরপূর্বক চাষাবাদ করে? বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই হেলালউর রহমানকে জানানো হলে তিনি মুঠোফোনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও এখনও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি।” তিনি এই অন্যায় দখলের বিরুদ্ধে এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে আসামিদের কাছে জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ রবিউল ইসলাম জানান “আদালতের ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি থাকা অবস্থায় যদি কেউ বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ বা কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে সেটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















