সুন্দরগঞ্জে সেতু আছে, সংযোগ সড়ক নেই; ভোগান্তিতে ২০ হাজার মানুষ
- আপডেট সময় : ২৩ বার পড়া হয়েছে
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি গ্রামে খালের ওপর প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা। বাধ্য হয়ে বাঁশ ও কাঠের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে পারাপার করছেন তারা। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই প্রান্তে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। সেতুর দুই পাশে গভীর গর্ত ও অসমতল অংশ থাকায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন। সময়ের সঙ্গে সেটিও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এতে পায়ে হেঁটে চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অনেককে বাইসাইকেল কাঁধে নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুল-কলেজে যেতে দেখা গেছে। প্রতিদিন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথ ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী সেতুর উভয় পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন করেছে। প্রায় তিন মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়কে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করতে হবে। একই সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করেই কীভাবে বিল পরিশোধ করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাড়াইকান্দি খালের ওপর ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী সেতুর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণেরও কথা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “কোটি টাকার সেতু হয়েছে, কিন্তু ওঠার রাস্তা নেই। বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হচ্ছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়।”
কলেজ শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, “বর্ষা এলেই ভয় আরও বেড়ে যায়। সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হলে এই সেতুর কোনো সুফল আমরা পাব না।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ছাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, খালে পানি থাকায় সেতুর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ততটুকুর বিপরীতেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।”

















