মানিকগঞ্জে দলিল লেখকের বিরুদ্ধে দালালির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১২ বার পড়া হয়েছে
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি ও খারিজের কাজে সাধারণ মানুষ দলিল লেখক দালালদের হয়রানিতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ফি’র চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা দাবি, ফাইল আটকে রাখা এবং অযথা কাগজপত্রে ভুল ধরার অভিযোগে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। যার ফলে দলিল লেখক নামের কিছু দালালদের খপ্পরে পরে লাখ লাখ টাকা খােওয়াচ্ছেন গ্রামের সহজ সরল কৃষক ও সাধারণ মানুষ।
প্রতিদিন সকাল থেকে শতাধিক মানুষ জমির নামজারি, মিউটেশন, খতিয়ান সংশোধনের জন্য সিংগাইর উপজেলা ভূমি অফিসে ভিড় করেন। তাদের অভিযোগ সরাসরি আবেদন করলে ফাইল মাসের পর মাস পড়ে থাকে। অথচ কিছু দলিল লেখক দালালদের মাধ্যমে আবেদন করলে কয়েক দিনেই কাজ হয়ে যায়।
সিংগাইর সদর উপজেলা বলধারা ইউনিয়নের নবগ্রাম গ্রামের দারোগ আলীর পুত্র মো: আওলাদ হোসেন বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অহেতুক এই ভুল, সেই ভুল ধরিয়ে মাসের পর মাস চোরকির মত ঘোরাতে থাকে।কিন্তু সিংগাইর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক বলধারা ইউনিয়নের বাঙ্গালা গ্রামের লালচান ব্যাপারীর পুত্র দলিল লেখক দালাল মাহাম একই মৌজার একটি খারিজ করতে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে এক লক্ষ আশি হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
অপরদিকে জামির্তা ইউনিয়নের হাতনি গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী মালা বেগম বলেন, জামির্তা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব)আতিক আমার একটি পর্চা দিতে গিয়ে ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং আমাকে এমন ভাবে ঘোরাতে থাকে, আমি ঘুরতে ঘুরতে অসুস্থ হয়ে পড়ি। বাধ্য হয়ে সিংগাইর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক জামির্তা ইউনিয়নের দালাল তোফাজ্জলের খপ্পরে পড়লে মাত্র ৪ শতাংশের একটি খারিজ করতে ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ।
দুই দলিল লেখক টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
দলিল লেখকদের দালালি প্রতিরোধের জন্য বাংলাদেশে সুনির্দিষ্ট আইনি শাস্তির বিধান রয়েছে । যদি কোনো দলিল লেখক সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করে বা অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়, তবে ‘দলিল লেখক সনদ বিধিমালা’ অনুযায়ী তার লাইসেন্স বা সনদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হতে পারে ।এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত ব্যবস্থা বা শাস্তি হতে পারে- লাইসেন্স বাতিল, জেলা রেজিস্ট্রার তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকের সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত বা স্থায়ীভাবে বাতিল করতে পারেন । প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিলে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণার মামলা করা সম্ভব, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হতে পারে ।যদি বড় অংকের অবৈধ লেনদেন বা দুর্নীতির প্রমাণ থাকে, তবে দুদক সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে ।
সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড মো: হাবেল উদ্দিন বলেন,দালালদের বিরুদ্ধে আমাদের কিছুই করার থাকে না।
সাধারণ নাগরিকদের দাবি , ভূমি অফিসে দালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। দলিল লেখকদের অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধে মনিটরিং বাড়ানো ।
অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সহজ ও জনসচেতনতা বাড়ানো ।



















