ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে বাড়ছে তিস্তার পানি, প্লাবিত চরাঞ্চল

শ্যামল ভৌমিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৬ বার পড়া হয়েছে

লোকালয়ে ঢুকছে তিস্তার পানি

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে আবারও দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার চর ও দ্বীপচরের নিচু এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৮২ মিটার। সকাল ৯টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৯৬ মিটারে। মাত্র তিন ঘণ্টায় নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

একই সময়ে দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর তালুকসিমুলবাড়ী পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। তবে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ১ সেন্টিমিটার কমেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারীতে ১৫০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরীতে ৫৪ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৫২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিস্তা তীরবর্তী ঘড়িয়ালডাঙ্গা চরের বাসিন্দা বদিয়ত মিয়া বলেন, “পানি বাড়তে থাকায় নিচু এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আরও এলাকা প্লাবিত হতে পারে।”

জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, বন্যা ও নদীভাঙনে চরাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তিনি নদীভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার উপজেলাগুলোর জন্য ২৮৫ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিস্তাসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করতে পারে। এ কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে বাড়ছে তিস্তার পানি, প্লাবিত চরাঞ্চল

আপডেট সময় :

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে আবারও দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার চর ও দ্বীপচরের নিচু এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৮২ মিটার। সকাল ৯টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৯৬ মিটারে। মাত্র তিন ঘণ্টায় নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

একই সময়ে দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর তালুকসিমুলবাড়ী পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। তবে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ১ সেন্টিমিটার কমেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারীতে ১৫০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরীতে ৫৪ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৫২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিস্তা তীরবর্তী ঘড়িয়ালডাঙ্গা চরের বাসিন্দা বদিয়ত মিয়া বলেন, “পানি বাড়তে থাকায় নিচু এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আরও এলাকা প্লাবিত হতে পারে।”

জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, বন্যা ও নদীভাঙনে চরাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তিনি নদীভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার উপজেলাগুলোর জন্য ২৮৫ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিস্তাসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করতে পারে। এ কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।