জমি বিরোধে একের পর এক মামলা, ন্যায়বিচার দাবি
- আপডেট সময় : ১৫ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চৌমুখা এলাকায় দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একের পর এক মামলার মুখে পড়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছে একটি পরিবার। তাদের দাবি, প্রায় তিন দশক ধরে চলমান দেওয়ানি মামলায় অনুকূলে আদেশ পাওয়ার পর প্রতিপক্ষ নতুন করে ফৌজদারি মামলা করে চাপ সৃষ্টি করছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার না করলেও মামলার বাদী বলেছেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।
মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, চৌমুখা মৌজার পুকুর, ভিটা ও পালান-সংক্রান্ত প্রায় ৯৫ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সরকারি খাস হওয়া জমি নিলামের মাধ্যমে চৈতন্য কৃষ্ণ বিশ্বাসের নামে বন্দোবস্ত হয়। পরে তিনি কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি সেন্টু কাজীর কাছে বিক্রি করেন। এরপর সংলগ্ন জমির মালিক আমিন উদ্দিন মৃধা আদালতে আইন অনুযায়ী ক্রয়মূল্য জমা দিয়ে দাবি উত্থাপন করেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
পরে সৈয়দ আলী মুন্সি ও মান্নান সরদার জমির মালিকানা দাবি করে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। প্রায় ৩০ বছর পর চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল ওই মামলায় আমিন উদ্দিন মৃধা পক্ষের অনুকূলে আদেশ আসে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ওই আদেশের পর সৈয়দ আলী মুন্সি নতুন করে ঘটনার অভিযোগ এনে মৃত আমিন উদ্দিন মৃধার ছেলে কবির মৃধাসহ আটজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে স্থগিত হলেও পরে পুনরায় চালু হয় এবং বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
কবির মৃধা বলেন, “জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে। এতে আমরা আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলায় উপস্থাপিত নিলামসংক্রান্ত কাগজপত্রে অসঙ্গতি রয়েছে এবং বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী সৈয়দ আলী মুন্সি বলেন, “আমি আইন অনুযায়ী মামলা করেছি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, আদালতই সিদ্ধান্ত দেবেন।”
জমি-সংক্রান্ত এ বিরোধ ও ফৌজদারি মামলার বিচারিক কার্যক্রম বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।

















