ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক রুবেল হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন Logo কেশবপুরে তৃষার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পাশে রিইব Logo মুকসুদপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo মাদকের পক্ষে তদবিরকারীদেরও গ্রেপ্তারের হুশিয়ারি খায়রুল কবির খোকনের Logo বিএমডিসি নিবন্ধনের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের স্মারকলিপি Logo খালিয়াজুরীতে ধনু নদে আবারও অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ Logo ইসলামপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের ছাতা ও গাছের চারা বিতরণ Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২২ Logo ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা Logo ডিমলায় দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর মালিশ করানোর অভিযোগ

জালাল শাহ ফকির প্রথমবার ইসলামপুরে পাতাকা তুলছিলেন

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলার ইতিহাসে ডিসেম্বর মানেই বিজয়ের মাস, আত্মোৎসর্গের মাস, মহাকাব্যিক গৌরবের মাস। বাঙালির চিরন্তন স্বাধীনতার স্বপ্ন ১৯৭১ সালের এই ডিসেম্বরেই রূপ পায় বিজয়ের বাস্তবে। আর তারই এক অনন্য অংশ জামালপুরের ইসলামপুর। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, নির্বিচার হত্যা, লুটপাট, ধর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন ও অশ্রুর স্রোত পার হয়ে ৭ ডিসেম্বর ইসলামপুর পাক হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত হয়। স্বাধীনতার আলোয় প্রথম স্নান করা সেই দিনটি আজও ইসলামপুরবাসীর হৃদয়ে জ্বলজ্বলে অক্ষরে খোদাই হয়ে আছে।
প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত ইসলামপুর হানাদারমুক্ত হওয়ার পর থানা চত্বরে প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করেন জালাল কোম্পানির সাহসী কমান্ডার, উত্তর দরিয়াবাদের ফকিরপাড়া গ্রামের গর্বিত সন্তান মরহুম শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন (শাহ ফকির)।
এই পতাকা উত্তোলনের মুহূর্তটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না এটি ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালির নতুন যাত্রার সূচনা।
কমান্ডার জালালের সেই দৃপ্ত পদক্ষেপ ইসলামপুরের মুক্তির ইতিহাসকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে, আর তাঁর নেতৃত্ব, সাহস ও দেশপ্রেম আজও পরবর্তী প্রজন্মের প্রেরণা হয়ে আছে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইসলামপুরসহ সারাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকাররা চালিয়েছিল নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ।
কেউ হারিয়েছে মা-বাবা, কেউ দেখেছে বোন-মেয়েদের ওপর নির্মম নির্যাতন, কারও চোখের সামনেই আগুনে পুড়েছে ঘরবাড়ি ও প্রিয় পরিবার।
একদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে বীর মুক্তিযোদ্ধারা লড়েছেন বুকের রক্ত দিয়ে, অন্যদিকে হাজারো মা কাঁদতে কাঁদতে অপেক্ষা করেছেন তাঁদের সন্তানের ফিরে আসবে। অনেকে ফিরেছেন বিজয় নিয়ে, অনেকে চিরদিনের জন্য শুয়ে আছেন বধ্যভূমিতে।
বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নের পেছনে যে রক্তাক্ত ইতিহাস খোদিত রয়েছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কমই দেখা যায়।
স্বাধীনতার পর কেটে গেছে বহু বছর। বদলে গেছে সময়, প্রজন্ম, বদলেছে অনেক কিছু। তবু ৭ ডিসেম্বর এলে ইসলামপুরবাসীর হৃদয়ে নতুন করে জেগে ওঠে সেই স্মৃতি
বেদনায় ভেজা দিনগুলো, হারানোর কষ্ট, রক্তের দাম, আর অবশেষে অর্জিত মহামূল্যবান বিজয়।
এই দিন শুধু একটি থানা বা একটি উপজেলার মুক্তির দিন নয় এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন করে স্মরণ করার দিন। একটি পতাকা, একটি মানচিত্র ও একটি জাতির অস্তিত্বের জন্য আত্মোৎসর্গ করা লাখো মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন।
বিজয়ের এই মাসে প্রত্যাশা একটাই বাংলাদেশ আরও ভালো থাকুক,
মানুষ নিরাপদ থাকুক, আগামীর প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানুক, দেশকে ভালোবাসুক।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জালাল শাহ ফকির প্রথমবার ইসলামপুরে পাতাকা তুলছিলেন

আপডেট সময় :

বাংলার ইতিহাসে ডিসেম্বর মানেই বিজয়ের মাস, আত্মোৎসর্গের মাস, মহাকাব্যিক গৌরবের মাস। বাঙালির চিরন্তন স্বাধীনতার স্বপ্ন ১৯৭১ সালের এই ডিসেম্বরেই রূপ পায় বিজয়ের বাস্তবে। আর তারই এক অনন্য অংশ জামালপুরের ইসলামপুর। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, নির্বিচার হত্যা, লুটপাট, ধর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন ও অশ্রুর স্রোত পার হয়ে ৭ ডিসেম্বর ইসলামপুর পাক হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত হয়। স্বাধীনতার আলোয় প্রথম স্নান করা সেই দিনটি আজও ইসলামপুরবাসীর হৃদয়ে জ্বলজ্বলে অক্ষরে খোদাই হয়ে আছে।
প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত ইসলামপুর হানাদারমুক্ত হওয়ার পর থানা চত্বরে প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করেন জালাল কোম্পানির সাহসী কমান্ডার, উত্তর দরিয়াবাদের ফকিরপাড়া গ্রামের গর্বিত সন্তান মরহুম শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন (শাহ ফকির)।
এই পতাকা উত্তোলনের মুহূর্তটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না এটি ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালির নতুন যাত্রার সূচনা।
কমান্ডার জালালের সেই দৃপ্ত পদক্ষেপ ইসলামপুরের মুক্তির ইতিহাসকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে, আর তাঁর নেতৃত্ব, সাহস ও দেশপ্রেম আজও পরবর্তী প্রজন্মের প্রেরণা হয়ে আছে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইসলামপুরসহ সারাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকাররা চালিয়েছিল নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ।
কেউ হারিয়েছে মা-বাবা, কেউ দেখেছে বোন-মেয়েদের ওপর নির্মম নির্যাতন, কারও চোখের সামনেই আগুনে পুড়েছে ঘরবাড়ি ও প্রিয় পরিবার।
একদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে বীর মুক্তিযোদ্ধারা লড়েছেন বুকের রক্ত দিয়ে, অন্যদিকে হাজারো মা কাঁদতে কাঁদতে অপেক্ষা করেছেন তাঁদের সন্তানের ফিরে আসবে। অনেকে ফিরেছেন বিজয় নিয়ে, অনেকে চিরদিনের জন্য শুয়ে আছেন বধ্যভূমিতে।
বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নের পেছনে যে রক্তাক্ত ইতিহাস খোদিত রয়েছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কমই দেখা যায়।
স্বাধীনতার পর কেটে গেছে বহু বছর। বদলে গেছে সময়, প্রজন্ম, বদলেছে অনেক কিছু। তবু ৭ ডিসেম্বর এলে ইসলামপুরবাসীর হৃদয়ে নতুন করে জেগে ওঠে সেই স্মৃতি
বেদনায় ভেজা দিনগুলো, হারানোর কষ্ট, রক্তের দাম, আর অবশেষে অর্জিত মহামূল্যবান বিজয়।
এই দিন শুধু একটি থানা বা একটি উপজেলার মুক্তির দিন নয় এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন করে স্মরণ করার দিন। একটি পতাকা, একটি মানচিত্র ও একটি জাতির অস্তিত্বের জন্য আত্মোৎসর্গ করা লাখো মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন।
বিজয়ের এই মাসে প্রত্যাশা একটাই বাংলাদেশ আরও ভালো থাকুক,
মানুষ নিরাপদ থাকুক, আগামীর প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানুক, দেশকে ভালোবাসুক।