ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কোটচাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু Logo খেলা দেখে দেরিতে ফেরার পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার Logo ৯৯৯-এ কলের পর হামহাম থেকে ১০ পর্যটক উদ্ধার Logo একই পরিবারের তিন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর সফল অস্ত্রোপচার Logo খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১৩৯ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা Logo বান্দরবানে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা শুরু Logo ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল টেকনাফ বিজিবি বিদ্যালয় Logo ইতালির কথা বলে ৩ দেশ ঘুরিয়ে লিবিয়ায়, ৫০ লাখ মুক্তিপণেও ‘খোঁজ’ নেই যুবকের Logo পানি বিক্রি করে বাবাকে হজে পাঠানোর স্বপ্ন দেখা সুজনের পাশে প্রধানমন্ত্রী Logo সাংবাদিক মাহাবুব আলম বাবুর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিপিজেএফের মানববন্ধন

ঠাকুরগাঁওয়ে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৩ জনের আমৃত্যু, ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৫৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় ৩ আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে এ রায় দেওয়া হলো।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. আনিস ওরফে রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলাল। আদালত তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে রায়ে উল্লেখ করা হয়, জেল কোড অনুযায়ী তারা সাজা মওকুফ বা রেয়াতের কোনো সুবিধা পাবেন না।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. আনিছুর, মো. খতিবুর ওরফে খতু এবং মো. লালু। তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মো. আনিস ওরফে রানা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ভুক্তভোগী কিশোরী তার বান্ধবীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় সড়কের পাশের একটি পেট্রলপাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয়। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তিনজন পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে এবং অপর তিনজন এই অপরাধে সহযোগিতা করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পরে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা হলো।

রায়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আসামিদের কাছ থেকে আদায়কৃত জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। বর্তমানে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে দণ্ডিতদের অর্জিত সম্পদ থেকেও তা আদায় করা যাবে। এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনে দণ্ডিতদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের এই নির্দেশকে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঠাকুরগাঁওয়ে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৩ জনের আমৃত্যু, ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় :

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় ৩ আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে এ রায় দেওয়া হলো।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. আনিস ওরফে রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলাল। আদালত তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে রায়ে উল্লেখ করা হয়, জেল কোড অনুযায়ী তারা সাজা মওকুফ বা রেয়াতের কোনো সুবিধা পাবেন না।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. আনিছুর, মো. খতিবুর ওরফে খতু এবং মো. লালু। তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মো. আনিস ওরফে রানা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ভুক্তভোগী কিশোরী তার বান্ধবীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় সড়কের পাশের একটি পেট্রলপাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয়। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তিনজন পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে এবং অপর তিনজন এই অপরাধে সহযোগিতা করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পরে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা হলো।

রায়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আসামিদের কাছ থেকে আদায়কৃত জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। বর্তমানে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে দণ্ডিতদের অর্জিত সম্পদ থেকেও তা আদায় করা যাবে। এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনে দণ্ডিতদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের এই নির্দেশকে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।