তারাকান্দায় জমিজমার বিরোধে আকরামুল হককে কুপিয়ে হত্যা
- আপডেট সময় : ১৮ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বিসকা ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে আকরামুল হক (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আকরামুল হক নগুয়া গ্রামের মৃত উসমান গনির ছেলে।
গতকাল রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার খিচা বাজার থেকে মনাটি বাজারগামী সড়কের আব্দুল জব্বারের বাড়ির পাশের এলাকায় এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্বজনদের অভিযোগ, উপজেলার মাধবপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ (৬০)-এর জানাজায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন আকরামুল হকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠি, হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নিহতের ভাতিজা গোলাম মোস্তফা বলেন, জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
খবর পেয়ে তারাকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি হাতুড়ি, একটি ছুরি এবং দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেল দুটির একটি নিহত আকরামুল হক এবং অপরটি অভিযুক্ত আল-আমিন ব্যবহার করছিলেন।
স্বজনরা নগুয়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে আল-আমিন (৩৮)-কে এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ফুলপুর সার্কেল) রাকিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে তারাকান্দা থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাশিদ বলেন, আকরামুল হক গ্রুপ ও আল-আমিন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষই থানায় একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।



















