ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo টেকনাফে ৪০০ জেলে পরিবারের মাঝে বিজিবির খাদ্যসামগ্রী বিতরণ Logo কামারখালীতে রউফ নগর থানার দাবিতে মানববন্ধন Logo কুড়িগ্রামে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন জেলা প্রশাসকের Logo আটপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ভাঙচুরের চেষ্টা Logo নবীনগরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ Logo নেছারাবাদে মিয়ারহাট বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড Logo পবার আলীগঞ্জে ইট ছাড়াই রাস্তার ঢালাই, নিম্নমানের কাজের অভিযোগ Logo জয়পুরহাটে ভুট্টার বাম্পার ফলন Logo চুংনানহাইয়ে সি চিন পিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সীমিত পরিসরে বৈঠক Logo আনুষ্ঠানিক ঘোষণা! চায়না মিডিয়া গ্রুপ ও ফিফা নতুন মেয়াদের সম্প্রচার স্বত্ব চুক্তি সম্পন্ন করেছে

তীব্র গরমে অতিষ্ঠ উনছিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২ এ তীব্র গরমে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজারো রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু। কয়েকদিন ধরে বাড়তে থাকা তাপমাত্রায় ত্রিপল দিয়ে তৈরি ছোট ছোট ঘরগুলো যেন আগুনের চুল্লিতে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায় ঘরের ভেতরে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্যাম্পবাসীরা।
ক্যাম্পের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্রিপলের ঘরগুলো অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠে। দুপুরের সময় ঘরের ভেতরের পরিবেশ এতটাই অসহনীয় হয়ে যায় যে, শিশু ও বৃদ্ধরা হাঁসফাঁস করতে থাকেন। অনেকেই মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম ও গরমজনিত বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা।
রোহিঙ্গারা জানান, ক্যাম্পে নেই স্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, নেই কোনো ফ্যানের সুবিধা। আগে বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে কিছু সৌরবিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই সংযোগের মাধ্যমে অন্তত রাতে একটি লাইট জ্বালানো ও ছোট ফ্যান চালানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই সৌরবিদ্যুতের সংযোগগুলোর অধিকাংশই অচল হয়ে গেছে অথবা আর কার্যকর নেই। ফলে দিনভর তীব্র গরমের পর রাতেও অন্ধকার ও গুমোট পরিবেশে কাটাতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে ক্যাম্পজুড়ে পর্যাপ্ত গাছপালা না থাকায় কোথাও স্বস্তির ছায়া নেই। খোলা বাতাসে কিছুটা সময় কাটিয়ে গরম থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগও নেই তাদের। চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া থাকায় ইচ্ছা করলেও দূরে কোথাও গিয়ে একটু বাতাস নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে করে পুরো ক্যাম্প যেন গরমে আবদ্ধ একটি বন্দিশালায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন কয়েকজন রোহিঙ্গা বাসিন্দা।
নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেক মায়েরা শিশুদের নিয়ে দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের বাইরে বসে থাকলেও বাইরে থেকেও তেমন স্বস্তি মিলছে না। কারণ খোলা জায়গাগুলোতেও নেই পর্যাপ্ত ছায়া কিংবা বিশ্রামের ব্যবস্থা।
ক্যাম্পের বাসিন্দারা বলেন, প্রতি বছর গরম এলেই তাদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তবে এবারের তাপমাত্রা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। তারা দ্রুত সৌরবিদ্যুতের সংযোগ পুনরায় চালু, পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং গরম মোকাবেলায় জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন এনজিওর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তীব্র গরমে অতিষ্ঠ উনছিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা

আপডেট সময় :

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২ এ তীব্র গরমে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজারো রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু। কয়েকদিন ধরে বাড়তে থাকা তাপমাত্রায় ত্রিপল দিয়ে তৈরি ছোট ছোট ঘরগুলো যেন আগুনের চুল্লিতে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায় ঘরের ভেতরে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্যাম্পবাসীরা।
ক্যাম্পের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্রিপলের ঘরগুলো অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠে। দুপুরের সময় ঘরের ভেতরের পরিবেশ এতটাই অসহনীয় হয়ে যায় যে, শিশু ও বৃদ্ধরা হাঁসফাঁস করতে থাকেন। অনেকেই মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম ও গরমজনিত বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা।
রোহিঙ্গারা জানান, ক্যাম্পে নেই স্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, নেই কোনো ফ্যানের সুবিধা। আগে বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে কিছু সৌরবিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই সংযোগের মাধ্যমে অন্তত রাতে একটি লাইট জ্বালানো ও ছোট ফ্যান চালানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই সৌরবিদ্যুতের সংযোগগুলোর অধিকাংশই অচল হয়ে গেছে অথবা আর কার্যকর নেই। ফলে দিনভর তীব্র গরমের পর রাতেও অন্ধকার ও গুমোট পরিবেশে কাটাতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে ক্যাম্পজুড়ে পর্যাপ্ত গাছপালা না থাকায় কোথাও স্বস্তির ছায়া নেই। খোলা বাতাসে কিছুটা সময় কাটিয়ে গরম থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগও নেই তাদের। চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া থাকায় ইচ্ছা করলেও দূরে কোথাও গিয়ে একটু বাতাস নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে করে পুরো ক্যাম্প যেন গরমে আবদ্ধ একটি বন্দিশালায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন কয়েকজন রোহিঙ্গা বাসিন্দা।
নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেক মায়েরা শিশুদের নিয়ে দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের বাইরে বসে থাকলেও বাইরে থেকেও তেমন স্বস্তি মিলছে না। কারণ খোলা জায়গাগুলোতেও নেই পর্যাপ্ত ছায়া কিংবা বিশ্রামের ব্যবস্থা।
ক্যাম্পের বাসিন্দারা বলেন, প্রতি বছর গরম এলেই তাদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তবে এবারের তাপমাত্রা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। তারা দ্রুত সৌরবিদ্যুতের সংযোগ পুনরায় চালু, পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং গরম মোকাবেলায় জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন এনজিওর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা।