প্রবাসী স্ত্রীর অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১৬ বার পড়া হয়েছে
বাগেরহাটে সংবাদ সম্মেলন করে চতুর্থ স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে বহুবিবাহ, প্রতারণা, বিপুল অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনেছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী রুবি আনজুম। মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী রুবি আনজুমের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে মালয়েশিয়ায় ‘রুবি হেয়ার অ্যান্ড বিউটি সেলুন’ নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রুবি আনজুম জানান, মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে তার পরিচয় হয়। জাহাঙ্গীর পূর্বের স্ত্রীর সাথে বৈধ তালাকের কাগজপত্র দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেন এবং তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় জাহাঙ্গীর বেকার থাকায় এবং করোনা মহামারির সময় রুবির দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে, স্বামীর ব্যবসার সুবিধার্থে তিনি প্রায় ৫০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে, জাহাঙ্গীর তাকে প্রতারণা করে বিয়ে করেছেন এবং তার পূর্বে আরও একাধিক স্ত্রী রয়েছে। রুবির প্রাপ্ত তথ্যমতে জাহাঙ্গীরের পূর্বের স্ত্রীরা হলেন— শিউলি বেগম, সুরাইয়া ওরফে হাজয়যুক্ত ওয়া বেগম এবং তানিয়া এবং রুবি নিজে তার চতুর্থ স্ত্রী।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর হোসেন বাগেরহাট সদর উপজেলার সোনাতলা এলাকার এক চার সন্তানের জননী জেসমিন আক্তারের সাথে দীর্ঘ চার বছর ধরে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত। এই বিষয়ে প্রতিবাদ করলে জাহাঙ্গীর তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। এছাড়া বিভিন্ন নারীদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, ব্ল্যাকমেইল করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগও তোলেন তিনি জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।
লিখিত বক্তব্যে রুবি আরও বলেন, জাহাঙ্গীর মালয়েশিয়া থেকে তার ১৯০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার এবং ৭ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এ ঘটনায় তিনি মালয়েশিয়া পুলিশের কাছে একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন। পরবর্তীতে তিনি বাগেরহাটে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে আসলে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় তাকে হয়রানি করা হয় এবং থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে জাহাঙ্গীর তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন এবং তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে রুবি আনজুম নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, আত্মসাৎকৃত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার এবং অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

















