যৌতুক নির্যাতনের অভিযোগে সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ৪৫ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁর মান্দায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর এবং পরে তালাক দেওয়ার অভিযোগ তুলে এক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী। রোববার দুপুরে উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী মোছা. দিলরুবা আক্তার (২২)।
অভিযুক্ত মো. মাহবুল হাসান সুমন মান্দা উপজেলার মধ্য মৈনম গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে খাগড়াছড়ি সেনানিবাসের ১৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সৈনিক হিসেবে কর্মরত।
লিখিত বক্তব্যে দিলরুবা আক্তার বলেন, ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ এক লাখ টাকা, একটি স্বর্ণের আংটি ও আসবাবপত্র দেওয়া হলেও পরে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।
তার দাবি, সেনা কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে চলতি বছরের ১৩ মার্চ দুই লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে তাদের বিয়ে নিবন্ধিত হয়। কিন্তু গত বছরের ১৪ আগস্ট রাতে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় তিনি স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে অভিযুক্ত আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান বলে দাবি করেন তিনি।
দিলরুবা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, আদালতের মধ্যস্থতায় পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে গেলেও আবার নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসতে হয়। এরই মধ্যে তার স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং গত ২ জুন কাজী অফিসের মাধ্যমে তালাকের নোটিশ পাঠান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে খাগড়াছড়ি সেনানিবাসের অধিনায়কের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর বাবা দেলোয়ার হোসেন, মা নার্গিস বেগম, দাদা আজিজার রহমানসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সেনা সদস্য মো. মাহবুল হাসান সুমনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


















