ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা নিয়ে চেয়ারম্যান পদে আসছেন মোঃ কাবিল উদ্দিন Logo বান্দরবানে শুরু হলো জাতীয় ফল মেলা Logo বেনাপোল বন্দর দিয়ে মাছ আমদানি বন্ধের পথে Logo সুবর্ণচরে ৬১৫ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ Logo দিনাজপুরে পুষ্টি কার্যক্রম সমন্বয়ে মিউনিসিপ্যালিটি লেভেল মাল্টি-সেক্টরাল নিউট্রিশন কো-অর্ডিনেশন কমিটি (এমএলএমএনসিসি)’র কমিটির ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo লোহাগাড়ায় ধান সংগ্রহে অনিয়ম, ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত প্রকৃত কৃষকরা Logo টেকনাফ ৩০৩ পিস ইয়াবাসহ মাদক পাচারকারী আটক Logo টেকনাফে ২১ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ Logo রামুতে ৭২ শিক্ষকের পদ শূন্য, চাপে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা Logo মুন্সীগ‌ঞ্জে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, মোটরসাইকেলে আগুন

মঠবাড়িয়ায় এলজিইডি’র নির্মাণ কাজে দুর্নীতির অভিযোগ

মঠবাড়িয়া পিরোজপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৭৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন নির্মাণ কাজ তদারকির দায়িত্ব পালন করেন প্রজেক্টের ইঞ্জিনিয়ার। উপজেলা এলজিইডি অফিসের একজন উপ সহকারী প্রকৌশলীর (এসও) মাধ্যমে নির্মাণ কাজ দেখাশোনা করার নিয়ম থাকলেও তা মানছে না উপজেলা প্রকৌশল অফিস।
জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশল অফিসে এমডিএসপি প্রকল্পের আওতায় উপ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে মোঃ আশরাফুল ইসলাম নামে একজন কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তার প্রজেক্টের মেয়াদ শেষ হলেও বিধিবহির্ভূতভাবে এখনও এলজিইডির জিওবি’র কাজ এসও হিসেবে দেখাশোনা করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের উত্তর হলতা ও পূর্ব ভেচকি গ্রামের মধ্যবর্তী খালের ওপর ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ২৪ মিটার গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে।ব্রীজটি নির্মাণ করতে চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছিল ২ কোটি টাকা। এলজিইডির এ নির্মাণ কাজটি তদারকি করেন প্রজেক্টের এসও আশরাফুল ইসলাম। অনিয়ম আর অসঙ্গতি নিয়েই কাজটি শুরু হয়। প্রাক্কলন (স্টিমেট) অনুযায়ী ১০০ ফুট পাইল বসানোর কথা থাকলেও বসানো হয়েছে মাত্র ৩০ ফুট। ১৮টি পাইলের সবগুলো ৩০ ফুট বসানো সম্ভব হয়নি। এরমধ্যে ১০টি পাইল ২৫ ফুট বসিয়ে ৫ ফুট করে কেটে ফেলা হয়েছে। আর এতগুলো পাইল কাটতে ৩ জন শ্রমিকের সময় লাগছে মাত্র দেড় দিন।পাইলে পাথর এবং সিমেন্টের অনুপাত ছিল ১২ঃ১।যেখানে উপযুক্ত পরিমান ৪ঃ১। পাইলের বেইজ সাড়ে ৩ ফুটের জায়গায় করা হয়েছে মাত্র ২ ফুট। সাইডে মানসম্মতভাবে ব্লক ব্যবহার না করে সিমেন্ট ও বালি দিয়ে পাটা তৈরি করে সিমেন্ট দিয়ে লিপ দেওয়া হয়েছে।
ব্রীজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল (প্রাঃ) লিঃ।স্বত্বাধিকারী মোঃ মিরাজুল ইসলাম। তিনি ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তার পক্ষে কাজটি দেখাশোনা করেন মঠবাড়িয়ার পঙ্কজ সাওজাল ও শহিদুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী রনজিত দে এর নিকট একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এলজিইডির বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) শেখ মোহাঃ নূরুল ইসলাম জানান, প্রজেক্টের এসও দিয়ে জিওবি’র কাজ তদারকির বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মঠবাড়িয়ায় এলজিইডি’র নির্মাণ কাজে দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় :
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন নির্মাণ কাজ তদারকির দায়িত্ব পালন করেন প্রজেক্টের ইঞ্জিনিয়ার। উপজেলা এলজিইডি অফিসের একজন উপ সহকারী প্রকৌশলীর (এসও) মাধ্যমে নির্মাণ কাজ দেখাশোনা করার নিয়ম থাকলেও তা মানছে না উপজেলা প্রকৌশল অফিস।
জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশল অফিসে এমডিএসপি প্রকল্পের আওতায় উপ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে মোঃ আশরাফুল ইসলাম নামে একজন কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তার প্রজেক্টের মেয়াদ শেষ হলেও বিধিবহির্ভূতভাবে এখনও এলজিইডির জিওবি’র কাজ এসও হিসেবে দেখাশোনা করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের উত্তর হলতা ও পূর্ব ভেচকি গ্রামের মধ্যবর্তী খালের ওপর ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ২৪ মিটার গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে।ব্রীজটি নির্মাণ করতে চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছিল ২ কোটি টাকা। এলজিইডির এ নির্মাণ কাজটি তদারকি করেন প্রজেক্টের এসও আশরাফুল ইসলাম। অনিয়ম আর অসঙ্গতি নিয়েই কাজটি শুরু হয়। প্রাক্কলন (স্টিমেট) অনুযায়ী ১০০ ফুট পাইল বসানোর কথা থাকলেও বসানো হয়েছে মাত্র ৩০ ফুট। ১৮টি পাইলের সবগুলো ৩০ ফুট বসানো সম্ভব হয়নি। এরমধ্যে ১০টি পাইল ২৫ ফুট বসিয়ে ৫ ফুট করে কেটে ফেলা হয়েছে। আর এতগুলো পাইল কাটতে ৩ জন শ্রমিকের সময় লাগছে মাত্র দেড় দিন।পাইলে পাথর এবং সিমেন্টের অনুপাত ছিল ১২ঃ১।যেখানে উপযুক্ত পরিমান ৪ঃ১। পাইলের বেইজ সাড়ে ৩ ফুটের জায়গায় করা হয়েছে মাত্র ২ ফুট। সাইডে মানসম্মতভাবে ব্লক ব্যবহার না করে সিমেন্ট ও বালি দিয়ে পাটা তৈরি করে সিমেন্ট দিয়ে লিপ দেওয়া হয়েছে।
ব্রীজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল (প্রাঃ) লিঃ।স্বত্বাধিকারী মোঃ মিরাজুল ইসলাম। তিনি ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তার পক্ষে কাজটি দেখাশোনা করেন মঠবাড়িয়ার পঙ্কজ সাওজাল ও শহিদুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী রনজিত দে এর নিকট একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এলজিইডির বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) শেখ মোহাঃ নূরুল ইসলাম জানান, প্রজেক্টের এসও দিয়ে জিওবি’র কাজ তদারকির বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।