পবার আলীগঞ্জে ইট ছাড়াই রাস্তার ঢালাই, নিম্নমানের কাজের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ৭ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীর পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়নের আলীগঞ্জ এলাকায় টিআর প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন একটি সিসি রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পের নির্ধারিত স্টিমেট (প্রাক্কলন) উপেক্ষা করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পটির নাম আলীগঞ্জ পূর্ব মোল্লাপাড়া (স্বপনের বাড়ি হতে আজিজুলের বাড়ির অভিমুখে)। কাজটি পেয়েছেন হড়গ্রাম ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুঞ্জুর রহমান। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে কাজটি পরিচালনা করছেন ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রুপালী খাতুনের স্বামী রফিকুল ইসলাম।
পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটিতে ৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বাজারমূল্যে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী রাস্তাটি ৪০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৯ ফুট প্রস্থ এবং ৩ ইঞ্চি পুরু সিসি ঢালাই হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ঢালাইয়ের নিচে আড়াই ইঞ্চি ইটের সলিং দেওয়ারও উল্লেখ রয়েছে।
কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার নিচে কোথাও ইটের সলিং দেওয়া হয়নি। ইটের সলিং ছাড়াই মাটির উপর পাতলা বালুর স্তর দিয়ে তার ওপরে পলিথিন বিছিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্ধারিত ৩ ইঞ্চির পরিবর্তে প্রায় ২ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হচ্ছে এবং ভালো মানের খোয়ার পরিবর্তে নিম্নমানের ৩ নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এভাবে কাজ করলে কয়েক মাস না যেতেই রাস্তাটি ভেঙে যাবে। সরকারের টাকা খরচ হলেও জনগণ টেকসই রাস্তা পাবে না।
অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে মহিলা সদস্য রুপালী খাতুন স্থানীয় কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তিনি দাবি করেন, কাজটি ছোট প্রকল্প। তারপরও বরাদ্দের চেয়ে বেশি রাস্তা করা হচ্ছে।
রাস্তার নিচে ইটের সলিং না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম দিকে কিছু দেওয়া হয়েছিল, পরে বাজেটের কারণে আর দেওয়া সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান মুঞ্জুর রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। এসময় চেয়ারম্যান সাংবাদিককে বাসায় এসে দেখা করার অনুরোধ জানান। এছাড়া সাংবাদিকের কাছে বিকাশ নম্বর জানতে চান বলেও অভিযোগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।
এ বিষয়ে পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পগুলো সাধারণত টিআর থেকে দেওয়া হয়। কাজের মান খারাপ হলে অবশ্যই আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


















