ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

মোহনপুরে গ্রেফতারের পর জামাই আদরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি

রাজশাহী ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ৩০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আদালতের পরোয়ানাভুক্ত এবং ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রায়হানুল হক ওরফে ছোট বাবু (৪০)কে গত ৬ জুন সন্ধ্যায় কেশরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে মোহনপুর থানা পুলিশ। এরপর বাবুকে বিশেষ আতিথেয়তা বা জামাই আদরে রাখা হয় থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) এর রুমে। যা রীতিমত আসামির জন্য চরম আরাম-আয়েশের। এমন প্রমানক প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে। এমন আতিথিয়েতার পর পরদিন সিএনজিযোগে আসামী বাবুকে আদালতে পাঠানো হয়। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। আটককৃত আসামী রায়হান বাবু কেশরহাট হরীদাগাছী গ্রামের ইসমাইলের ছেলে। এমন কার্যক্রমের বিপরীতে থানায় সেবা নিতে আসা মানুষদের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে। থানা পুলিশের এমন আচরনে সেবা গ্রহীতারা মোহনপুর থানার সেবা নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
এছাড়াও মোহনপুর থানার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রম, নাগরিক সেবা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। সম্প্রতি থানার দায়িত্ব পালনে অবহেলা, উদাসীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার মত গুরুত্বর অভিযোগ সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী বা অর্থশালী আসামিদের ক্ষেত্রে এমন সুবিধা দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই অর্থের বিনিময়ে কিছু আসামিকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তুলেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, সম্প্রতি মোহনপুর উপজেলা চত্বর থেকে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের। থানায় দায়ের করা একটি লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত ১০ জুন সকালে উপজেলা পুরাতন হলরুমের পাশে রাখা একটি ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। অভিযোগকারী জানান, কাজ শেষে বের হয়ে তার রেখে যাওয়া মোটরসাইকেলটি আর খুঁজে পাননি। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের কররেও এখন পর্যন্ত সন্ধান দিতে পারেনি।
স্থানীয়রা বলছে, গত কয়েক মাসে উপজেলা চত্বর থেকেই অন্তত চারটি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। অথচ বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও চোর শনাক্ত বা চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি পুলিশ।
উপজেলার আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সাথে কথা হলে তারা জানান, প্রায় এক মাস পূর্বে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মোহনপুর উপজেলার একাধিক মাদক স্পট ও মাদক সিন্ডিকেটের তথ্য প্রকাশিত হয়। পুলিশকে এত সহযোগীতা করার পরেও এখনও কোনো বড় ধরনের অভিযান বা সিন্ডিকেট ভাঙার খবর পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা মাদক স্পট থেকে নিয়মিত মাশোহারা নিচ্ছে বলে অসংখ্য সুত্রের দাবি। শুধু তাই নয়, এই থানায় বিগত ২০ মাসে ৮ টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়াও উত্তরাঞ্চলে পুকুর খনন ও মাটি পরিবহনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কঠোর অবস্থানের কথা থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুকুর খননের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে দেওয়ার পরও পুলিশ বিষয়টিকে নিজেদের দায়িত্বের বাইরে বলে এড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের ধারনা অর্থের বিনিময়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কথা তুলে ধরছেন।
উপজেলার একটি সচেতন মহল মনে করছেন আসামীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া, চুরি হওয়ার পরও উদ্ধারে অবহেলা, মাদক প্রতিরোধে কর্যত ভূমিকা রাখাসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে বর্তমান ওসি আসার পর থেকে।
এব্যাপারে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। তাই তার বক্তব্য বা ব্যাখ্যা জানা সম্ভব হয়নি।
পরে কথা হয় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ও মিডিয়া মুখ্যপাত্র সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে। তিনি জানান, বিষয়গুলো তার জানা নেই, প্রতিবেদককে ডকুমেন্টস গুলো দিতে বলেন এবং জেনে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন। তবে আমাসী ধরে এসআই রুমে রাখার কোন সুযোগ নাই বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মোহনপুরে গ্রেফতারের পর জামাই আদরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি

আপডেট সময় :

আদালতের পরোয়ানাভুক্ত এবং ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রায়হানুল হক ওরফে ছোট বাবু (৪০)কে গত ৬ জুন সন্ধ্যায় কেশরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে মোহনপুর থানা পুলিশ। এরপর বাবুকে বিশেষ আতিথেয়তা বা জামাই আদরে রাখা হয় থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) এর রুমে। যা রীতিমত আসামির জন্য চরম আরাম-আয়েশের। এমন প্রমানক প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে। এমন আতিথিয়েতার পর পরদিন সিএনজিযোগে আসামী বাবুকে আদালতে পাঠানো হয়। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। আটককৃত আসামী রায়হান বাবু কেশরহাট হরীদাগাছী গ্রামের ইসমাইলের ছেলে। এমন কার্যক্রমের বিপরীতে থানায় সেবা নিতে আসা মানুষদের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে। থানা পুলিশের এমন আচরনে সেবা গ্রহীতারা মোহনপুর থানার সেবা নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
এছাড়াও মোহনপুর থানার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রম, নাগরিক সেবা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। সম্প্রতি থানার দায়িত্ব পালনে অবহেলা, উদাসীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার মত গুরুত্বর অভিযোগ সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী বা অর্থশালী আসামিদের ক্ষেত্রে এমন সুবিধা দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই অর্থের বিনিময়ে কিছু আসামিকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তুলেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, সম্প্রতি মোহনপুর উপজেলা চত্বর থেকে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের। থানায় দায়ের করা একটি লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত ১০ জুন সকালে উপজেলা পুরাতন হলরুমের পাশে রাখা একটি ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। অভিযোগকারী জানান, কাজ শেষে বের হয়ে তার রেখে যাওয়া মোটরসাইকেলটি আর খুঁজে পাননি। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের কররেও এখন পর্যন্ত সন্ধান দিতে পারেনি।
স্থানীয়রা বলছে, গত কয়েক মাসে উপজেলা চত্বর থেকেই অন্তত চারটি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। অথচ বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও চোর শনাক্ত বা চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি পুলিশ।
উপজেলার আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সাথে কথা হলে তারা জানান, প্রায় এক মাস পূর্বে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মোহনপুর উপজেলার একাধিক মাদক স্পট ও মাদক সিন্ডিকেটের তথ্য প্রকাশিত হয়। পুলিশকে এত সহযোগীতা করার পরেও এখনও কোনো বড় ধরনের অভিযান বা সিন্ডিকেট ভাঙার খবর পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা মাদক স্পট থেকে নিয়মিত মাশোহারা নিচ্ছে বলে অসংখ্য সুত্রের দাবি। শুধু তাই নয়, এই থানায় বিগত ২০ মাসে ৮ টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়াও উত্তরাঞ্চলে পুকুর খনন ও মাটি পরিবহনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কঠোর অবস্থানের কথা থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুকুর খননের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে দেওয়ার পরও পুলিশ বিষয়টিকে নিজেদের দায়িত্বের বাইরে বলে এড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের ধারনা অর্থের বিনিময়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কথা তুলে ধরছেন।
উপজেলার একটি সচেতন মহল মনে করছেন আসামীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া, চুরি হওয়ার পরও উদ্ধারে অবহেলা, মাদক প্রতিরোধে কর্যত ভূমিকা রাখাসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে বর্তমান ওসি আসার পর থেকে।
এব্যাপারে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। তাই তার বক্তব্য বা ব্যাখ্যা জানা সম্ভব হয়নি।
পরে কথা হয় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ও মিডিয়া মুখ্যপাত্র সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে। তিনি জানান, বিষয়গুলো তার জানা নেই, প্রতিবেদককে ডকুমেন্টস গুলো দিতে বলেন এবং জেনে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন। তবে আমাসী ধরে এসআই রুমে রাখার কোন সুযোগ নাই বলে তিনি নিশ্চিত করেন।