প্রচণ্ড গরমে কেশবপুরে তালশাঁসের চাহিদা তুঙ্গে, দ্বিগুণ দামে বিক্রি
- আপডেট সময় : ১৯ বার পড়া হয়েছে
চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে কেশবপুরে বেড়েছে কচি তালের শাঁস বা তালশাঁসের কদর। প্রচণ্ড গরমে শরীরকে শীতল রাখতে ও পানিশূন্যতা দূর করতে অনেকেই ভিড় করছেন তালশাঁসের দোকানে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও সড়কের মোড়ে মোড়ে এখন জমে উঠেছে তালশাঁসের বেচাকেনা।
মিষ্টি স্বাদ ও মোহনীয় গন্ধে ভরপুর তালশাঁস গ্রীষ্মের অন্যতম জনপ্রিয় মৌসুমি ফল। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এ ফলকে অনেকেই ডাব বা নারিকেলের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করেন। বিশেষ করে জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে তালশাঁস শরীরে দ্রুত প্রশান্তি এনে দেয় বলে এর চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ।
কেশবপুর উপজেলার সাবদিয়া মোড়, হাবাসপোল মোড়, শ্রীগঞ্জ ব্রিজ এলাকা, হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে তালশাঁস বিক্রি করতে দেখা গেছে। বর্তমানে একটি তালের শাঁস ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
সাবদিয়া মোড়ের তালশাঁস বিক্রেতা মাসুদ জানান, বছরের অন্য সময় তিনি কৃষিকাজ করেন। তবে গ্রীষ্ম মৌসুমে একজন সহকারী নিয়ে তালশাঁস বিক্রি করেন। প্রতিদিন কয়েকশ টাকা লাভ হয়, যা দিয়ে সংসারের বাড়তি খরচ মেটাতে সুবিধা হয়।
হাবাসপোল এলাকার মতিয়ার রহমান বলেন, বিভিন্ন গ্রামের তালগাছ মালিকদের কাছ থেকে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় গাছের তাল কিনে নেওয়া হয়। পরে বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের মই ব্যবহার করে তাল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করা হয়। এতে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লাভ থাকে।
কাটাখালী বাজারের বিক্রেতা রমজান আলী জানান, একটি তাল থেকে সাধারণত দুই থেকে তিনটি শাঁস পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতি শাঁস ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে গত বছর একই শাঁস ৫ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে তিনি জানান। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার তালশাঁস বিক্রি করে খরচ বাদে প্রায় ৫০০ টাকা আয় করেন তিনি।
ক্রেতা ফিরোজ ও রিপন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার তালশাঁসের দাম অনেক বেশি। আগে যে শাঁস ৪-৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটির জন্য ১০ থেকে ২০ টাকা গুনতে হচ্ছে। তবুও মৌসুমি ও সুস্বাদু হওয়ায় এর প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি।
ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী রাজা বলেন, এবারের গরম অনেক বেশি। আখের রসের পাশাপাশি তালশাঁসও আমাদের অন্যতম ভরসা। প্রায় প্রতিদিনই খাচ্ছি। তবে গত বছরের তুলনায় দাম দ্বিগুণ হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেহনেওয়াজ বলেন, কচি তালের শাঁসে জলীয় অংশ বেশি থাকায় এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টিগুণ। তাই প্রচণ্ড গরমে মানুষের কাছে তালশাঁসের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।
তীব্র তাপপ্রবাহের এই সময়ে কেশবপুরের হাট-বাজারে তালশাঁস শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়, বরং গরম থেকে স্বস্তি পাওয়ার অন্যতম জনপ্রিয় উপায় হয়ে উঠেছে।
কেশবপুরের সাবদিয়া মোড়ে তালশাঁস বিক্রিতে ব্যস্ত বিক্রেতা; প্রচণ্ড গরমে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে।

















