ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

তারাকান্দা সরকারি কলেজের শিক্ষক সাইদুল হক ৮ বছর ধরে অনুপস্থিত

তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের তারাকান্দা সরকারি কলেজের সাইদুল হক নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর কলেজে অনুপস্থিত থাকার পরও চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পুনরায় যোগদানের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাইদুল হক দীর্ঘদিন ধরে কলেজে অনুপস্থিত। কলেজের বর্তমান অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না বলেও দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, গত প্রায় আট বছরে তাকে কলেজে দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলার আসামি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পরে দীর্ঘ সময় কানাডায় অবস্থান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ২০১৮ সালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হলেও মামলাজনিত জটিলতার ও অনুপস্থিত থাকার কারণে তার নাম সরকারি সুপারিশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মোস্তাক মোহাম্মদ জাকারিয়া সাইদুল হককে চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যোগদানের জন্য সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে বর্তমান অধ্যক্ষ আফাজ উদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণের পরও তার যোগদানসংক্রান্ত একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কলেজের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল হাই বলেন, “সাইদুল হক দীর্ঘদিন কলেজে ছিলেন না। এতদিন অনুপস্থিত থাকার পরও তার চাকরির ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় থাকে, তা আমার বোধগম্য নয়।”
শিক্ষার্থী মামুন ফকির বলেন, “সাইদুল হক নামের কোনো শিক্ষককে আমরা কখনো কলেজে দেখিনি। তাকে চেনার প্রশ্নই আসে না।”
চাকরির ধারাবাহিকতা বিষয়ে জানতে চাইলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মোস্তাক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পরও যদি কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে চাকরির ধারাবাহিকতা বহাল থাকতে পারে।”
এ বিষয়ে বর্তমান অধ্যক্ষ আফাজ উদ্দিন বলেন, “আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি চিঠি ইস্যু করেছি। তবে সেটি তার যোগদানের সুপারিশ ছিল কি না, এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও সাইদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা একজন শিক্ষক কীভাবে চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পুনরায় যোগদানের সুযোগ পাচ্ছেন, তা নিয়ে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তারাকান্দা সরকারি কলেজের শিক্ষক সাইদুল হক ৮ বছর ধরে অনুপস্থিত

আপডেট সময় :

ময়মনসিংহের তারাকান্দা সরকারি কলেজের সাইদুল হক নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর কলেজে অনুপস্থিত থাকার পরও চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পুনরায় যোগদানের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাইদুল হক দীর্ঘদিন ধরে কলেজে অনুপস্থিত। কলেজের বর্তমান অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না বলেও দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, গত প্রায় আট বছরে তাকে কলেজে দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলার আসামি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পরে দীর্ঘ সময় কানাডায় অবস্থান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ২০১৮ সালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হলেও মামলাজনিত জটিলতার ও অনুপস্থিত থাকার কারণে তার নাম সরকারি সুপারিশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মোস্তাক মোহাম্মদ জাকারিয়া সাইদুল হককে চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যোগদানের জন্য সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে বর্তমান অধ্যক্ষ আফাজ উদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণের পরও তার যোগদানসংক্রান্ত একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কলেজের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল হাই বলেন, “সাইদুল হক দীর্ঘদিন কলেজে ছিলেন না। এতদিন অনুপস্থিত থাকার পরও তার চাকরির ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় থাকে, তা আমার বোধগম্য নয়।”
শিক্ষার্থী মামুন ফকির বলেন, “সাইদুল হক নামের কোনো শিক্ষককে আমরা কখনো কলেজে দেখিনি। তাকে চেনার প্রশ্নই আসে না।”
চাকরির ধারাবাহিকতা বিষয়ে জানতে চাইলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মোস্তাক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পরও যদি কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে চাকরির ধারাবাহিকতা বহাল থাকতে পারে।”
এ বিষয়ে বর্তমান অধ্যক্ষ আফাজ উদ্দিন বলেন, “আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি চিঠি ইস্যু করেছি। তবে সেটি তার যোগদানের সুপারিশ ছিল কি না, এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও সাইদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা একজন শিক্ষক কীভাবে চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পুনরায় যোগদানের সুযোগ পাচ্ছেন, তা নিয়ে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।