ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের Logo সভাপতি মোশাররফ, সম্পাদক মিজান Logo আওয়ামীলীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে যুবদলের অবস্থান Logo অনিয়ম, দুর্নীতি এবং শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষে অভিভাবকরা Logo দেওয়ানগঞ্জ মাদক সেবনের দায়ে একজনের কারাদন্ড Logo শেরপুরে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আওয়ামী লীগ কর্মী গ্রেপ্তার Logo চট্টগ্রামে ভেজাল লুব অয়েল ও কাঁচামাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড Logo সুবর্ণচরে ২৬৭ কৃষকের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ Logo বাইশারীর হাতির ডেরা এলাকা থেকে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার

জামালপুরের সরকারি ইসলামপুর নেকজাহান পাইলট মডেল হাই স্কুল

অনিয়ম, দুর্নীতি এবং শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষে অভিভাবকরা

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামালপুরের সরকারি ইসলামপুর নেকজাহান পাইলট মডেল হাই স্কুল-এ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে কোচিং-নির্ভর শিক্ষার প্রবণতা দেখা যায় বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে। এছাড়া কিছু শিক্ষকের সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা এবং কম্পিউটার ফি, জরিমানা, নিরাপত্তা ফি ও সেশন চার্জের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে গতকাল গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে।
বুধবার (২৪ জুন) সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানা যায়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মেজবাহাদুর ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি ও ভোকেশনাল শাখাসহ মোট ১,১৭৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিপরীতে মোট শ্রেণিকক্ষ ১৬টি হলেও শিক্ষক আছেন মাত্র ২১ জন এবং কর্মচারী রয়েছেন একজন।
তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া থাকতে পারে এবং তারা আন্দোলনও করতে পারে, তবে শিক্ষক সংকট আমাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা।
তিনি আরও বলেন, জামালপুর-৩ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের বাবা এবং আমার মা একই ঝোলা থেকে বের হয়েছেন। আমি চার-পাঁচ দিন স্কুলে না এলে আমাকে ট্যাকেল দেওয়ার লোক আছে।
এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টির সমস্যা গুলো
দ্রুত সমাধান করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য, দায়-দায়িত্ব এবং সমস্যার মূল কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ফলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জামালপুরের সরকারি ইসলামপুর নেকজাহান পাইলট মডেল হাই স্কুল

অনিয়ম, দুর্নীতি এবং শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষে অভিভাবকরা

আপডেট সময় :

জামালপুরের সরকারি ইসলামপুর নেকজাহান পাইলট মডেল হাই স্কুল-এ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে কোচিং-নির্ভর শিক্ষার প্রবণতা দেখা যায় বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে। এছাড়া কিছু শিক্ষকের সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা এবং কম্পিউটার ফি, জরিমানা, নিরাপত্তা ফি ও সেশন চার্জের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে গতকাল গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে।
বুধবার (২৪ জুন) সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানা যায়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মেজবাহাদুর ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি ও ভোকেশনাল শাখাসহ মোট ১,১৭৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিপরীতে মোট শ্রেণিকক্ষ ১৬টি হলেও শিক্ষক আছেন মাত্র ২১ জন এবং কর্মচারী রয়েছেন একজন।
তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া থাকতে পারে এবং তারা আন্দোলনও করতে পারে, তবে শিক্ষক সংকট আমাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা।
তিনি আরও বলেন, জামালপুর-৩ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের বাবা এবং আমার মা একই ঝোলা থেকে বের হয়েছেন। আমি চার-পাঁচ দিন স্কুলে না এলে আমাকে ট্যাকেল দেওয়ার লোক আছে।
এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টির সমস্যা গুলো
দ্রুত সমাধান করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য, দায়-দায়িত্ব এবং সমস্যার মূল কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ফলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।