ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ডিমলায় পাওনা টাকা নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দঃ তিতপাড়া গ্রামে জমি বন্দকের পাওনা ২ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে থাকায় এলাকাটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং একই দিন দিবাগত রাত ৩টার দিকে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী দুই দফায় শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি দঃ তিতপাড়া গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় অন্তত চারটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, দক্ষিণ তিতপাড়া বড় জুম্মা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম (২৭) ও আসাদুল ইসলাম (৩৩)-এর নেতৃত্বে হামলাটি সংঘটিত হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন মৃত মমতাজ আলীর ছেলে হবিবর রহমান ও তইবার রহমান, মৃত আজিজার রহমানের ছেলে আলিনুর রহমান এবং মৃত নুর ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম।
মকফর আলী (৬০), মতিয়ার রহমান (৬৩), মেহের বানু (৩২) ও মমতা বেগম (৩০) বলেন , পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয়। প্রাণভয়ে তারা পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
প্রতিবেশী শেফালী বেগম (৪০) বলেন, হামলাকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন। তাদের হাতে লাঠি, ছোরা ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। কেউ বাধা দিতে গেলে, বিশেষ করে নারীদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী আলিনুর রহমানের তিন মেয়ে—দশম শ্রেণির ছাত্রী মেঘনা (১৭), সপ্তম শ্রেণির ইশা (১৪) এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ইফা মনি (১২) জানায়, ঘটনার সময় তাদের বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। গভীর রাতে সশস্ত্র লোকজন বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং চিৎকার করলে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেয়। পরে তারা প্রতিবেশীদের সঙ্গে পালিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়।
হামলায় মর্জিনা বেগম (৫০), সাহেরা বেগম (৪০), হবিবর রহমান (৩৫)সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত তিনজনকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা ডিমলা থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে এসআই পরিতোষ মোহন্তকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডিমলায় পাওনা টাকা নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

আপডেট সময় :

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দঃ তিতপাড়া গ্রামে জমি বন্দকের পাওনা ২ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে থাকায় এলাকাটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং একই দিন দিবাগত রাত ৩টার দিকে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী দুই দফায় শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি দঃ তিতপাড়া গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় অন্তত চারটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, দক্ষিণ তিতপাড়া বড় জুম্মা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম (২৭) ও আসাদুল ইসলাম (৩৩)-এর নেতৃত্বে হামলাটি সংঘটিত হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন মৃত মমতাজ আলীর ছেলে হবিবর রহমান ও তইবার রহমান, মৃত আজিজার রহমানের ছেলে আলিনুর রহমান এবং মৃত নুর ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম।
মকফর আলী (৬০), মতিয়ার রহমান (৬৩), মেহের বানু (৩২) ও মমতা বেগম (৩০) বলেন , পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয়। প্রাণভয়ে তারা পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
প্রতিবেশী শেফালী বেগম (৪০) বলেন, হামলাকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন। তাদের হাতে লাঠি, ছোরা ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। কেউ বাধা দিতে গেলে, বিশেষ করে নারীদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী আলিনুর রহমানের তিন মেয়ে—দশম শ্রেণির ছাত্রী মেঘনা (১৭), সপ্তম শ্রেণির ইশা (১৪) এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ইফা মনি (১২) জানায়, ঘটনার সময় তাদের বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। গভীর রাতে সশস্ত্র লোকজন বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং চিৎকার করলে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেয়। পরে তারা প্রতিবেশীদের সঙ্গে পালিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়।
হামলায় মর্জিনা বেগম (৫০), সাহেরা বেগম (৪০), হবিবর রহমান (৩৫)সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত তিনজনকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা ডিমলা থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে এসআই পরিতোষ মোহন্তকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।