দাগনভূঞা জিরোপয়েন্টে অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলে জনদুর্ভোগ চরমে
- আপডেট সময় : ১৯ বার পড়া হয়েছে
ফেনী জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা শহর দাগনভূঞার জিরোপয়েন্টে অবৈধ সিএনজি, অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশার পার্কিং এবং ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দাগনভূঞা পৌর শহরে প্রবেশের জিরোপয়েন্ট সড়ক দখল করে রাখছে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা। এছাড়া সড়কের ফুটপাথ দখল করে অবৈধভাবে টঙ দোকান বসানোর কারণে গুরুত্বপূর্ণ জিরোপয়েন্ট সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। আতাতুর্ক স্কুলের গেইট থেকে চৌমুহনী রোডের ডাক বাংলা পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে অবৈধ টঙ দোকান বসে চা ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে। সিএনজি, অটোরিকশা ও রিকশা সড়কের অধিকাংশ জায়গা দখল করে রাখায় যাত্রী ওঠা-নামার কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে স্বাভাবিক গাড়ি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একশ্রেণির রাজনৈতিক সুবিধাভোগী সড়ক ও ফুটপাথ দখলে সহযোগিতা করে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। ফুটপাতের প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, দাগনভূঞায় যে পরিমাণ সিএনজি চলে, তার অর্ধেকের বেশি সরকারি রেজিস্ট্রেশনবিহীন। তারা থানা থেকে মাসিক টোকেনের বিনিময়ে চলে এবং এজন্য সিএনজি মালিকদের টোকেন প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত প্রশাসনকে দিতে হয়। অবৈধ স্ট্যান্ড থেকেও ‘বিটের টাকা’ হিসেবে প্রশাসনের কাছে অর্থ যায় বলে তিনি দাবি করেন।
দাগনভূঞা বাজার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন লিটন জানান, জিরোপয়েন্টকে যানজটমুক্ত করতে হলে প্রধান সড়ক থেকে সিএনজি অটোরিকশা পার্কিং সরিয়ে নিতে হবে। এ বিষয়ে অনেকবার চেষ্টা করেও প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “নিয়মকানুন কেউ মানছে না। যতক্ষণ ট্রাফিকের দায়িত্বে লোক থাকেন, ততক্ষণ ঠিক থাকে, এরপর আবার আগের মতো হয়ে যায়।”
সাম্প্রতিক সময়ে দাগনভূঞা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পৌরসভার উপ-প্রকৌশলী জুনায়েদ কাওছার সৌরভের মৃত্যু স্থানীয় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, জিরোপয়েন্টে চার-পাঁচটি সড়কের সংযোগস্থল গোলচত্বর হওয়ায় এখানে মারাত্মক যানজট সৃষ্টি হয়। অটোরিকশা ও সিএনজির এলোমেলো পার্কিং এবং দ্রুত গতিতে চলাচলকারী যানবাহনের গতিসীমা না মানার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছে।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়জুল আজীম নোমান জানান, ট্রাফিক এবং পুলিশ বক্স স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা যায়।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দাগনভূঞা পৌরসভার প্রশাসক শাহীদুল ইসলাম জনদুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, “আমরা অভিযান করে আসার পর আবার ফুটপাত দখল হয়ে যায়। যানজট নিরসনে পৌরসভার লোক প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দাগনভূঞাতে সিএনজি ও অটোরিকশার পরিমাণ বেশি। আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। জনদুর্ভোগ লাঘবে উপজেলায় অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
দাগনভূঞার সর্বস্তরের জনগণ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে পৌর শহরের জিরোপয়েন্টকে স্বাভাবিক যান চলাচল ও পথচারীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন।


















