ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

গোলাপগঞ্জে প্রথমবার বাণিজ্যিক মাশরুম চাষে সফলতা

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষে সফলতা এসেছে। উপজেলার কদমরসুল এলাকার একটি কফি গার্ডেনে গড়ে উঠেছে আধুনিক মাশরুম খামার, যেখানে তিন প্রজাতির মাশরুম উৎপাদন করা হচ্ছে। অল্প পুঁজিতে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণসম্পন্ন খাদ্য। পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কারণে দেশে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে মাশরুম চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে মাশরুম চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ চাষের জন্য আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না; বসতবাড়ির অব্যবহৃত স্থান কিংবা ঘরের বারান্দাতেও সহজে মাশরুম উৎপাদন সম্ভব।
সরেজমিনে দেখা যায়, কদমরসুল কফি গার্ডেনের মাল্টিপ্রজেক্টের আওতায় ফলজ গাছের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ করা হচ্ছে। মাত্র ৩০০ টাকা পুঁজি দিয়েও একজন উদ্যোক্তা মাশরুম চাষ শুরু করতে পারেন। বর্তমানে খামারটিতে প্রায় ৪০০টি স্পন প্রস্তুত করে বছরে লক্ষাধিক টাকার ব্যবসা করা হচ্ছে।
কফি গার্ডেনের ইনচার্জ আবু সুফিয়ান জানান, একটি স্পন প্যাকেট থেকে ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে মাশরুম সংগ্রহ করা যায়। দুই কেজি ওজনের একটি স্পন প্যাকেট থেকে প্রায় দুই কেজি মাশরুম উৎপাদন হয়। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ কেজি তাজা মাশরুম বিক্রি করা সম্ভব। প্রতি কেজি কাঁচা মাশরুম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং শুকনো মাশরুম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
তিনি আরও জানান, উৎপাদিত মাশরুম সিলেটের বিভিন্ন সুপারশপ, নামিদামি রেস্টুরেন্ট এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও দেশের বিভিন্ন স্থানে মাশরুম পাঠানো হয়। বর্তমানে খামারটিতে প্রতিদিন চারজন শ্রমিক কাজ করছেন। ভবিষ্যতে উৎপাদন বৃদ্ধি করলে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বর্তমানে খামারে ৫শত এর বেশি স্পন প্যাকেট রয়েছে। এসব থেকে প্রায় ৫০০ কেজি মাশরুম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাসরেফুল আলম বলেন, “গোলাপগঞ্জে এই প্রথম বাণিজ্যিক ও ব্যক্তি উদ্যোগে মাশরুম চাষ শুরু হয়েছে। এসব খামার থেকে যে কেউ অল্প পুঁজিতে স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং বছরে লক্ষ লক্ষ টাকার মাশরুম বিক্রি করতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, “কফি বাগানে মাশরুম চাষে কৃষি বিভাগ সহযোগিতা করছে। নতুন কেউ মাশরুম চাষে আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে ঢাকায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।”
তিনি জানান, দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মাশরুম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গোলাপগঞ্জে প্রথমবার বাণিজ্যিক মাশরুম চাষে সফলতা

আপডেট সময় :

সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষে সফলতা এসেছে। উপজেলার কদমরসুল এলাকার একটি কফি গার্ডেনে গড়ে উঠেছে আধুনিক মাশরুম খামার, যেখানে তিন প্রজাতির মাশরুম উৎপাদন করা হচ্ছে। অল্প পুঁজিতে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণসম্পন্ন খাদ্য। পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কারণে দেশে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে মাশরুম চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে মাশরুম চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ চাষের জন্য আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না; বসতবাড়ির অব্যবহৃত স্থান কিংবা ঘরের বারান্দাতেও সহজে মাশরুম উৎপাদন সম্ভব।
সরেজমিনে দেখা যায়, কদমরসুল কফি গার্ডেনের মাল্টিপ্রজেক্টের আওতায় ফলজ গাছের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ করা হচ্ছে। মাত্র ৩০০ টাকা পুঁজি দিয়েও একজন উদ্যোক্তা মাশরুম চাষ শুরু করতে পারেন। বর্তমানে খামারটিতে প্রায় ৪০০টি স্পন প্রস্তুত করে বছরে লক্ষাধিক টাকার ব্যবসা করা হচ্ছে।
কফি গার্ডেনের ইনচার্জ আবু সুফিয়ান জানান, একটি স্পন প্যাকেট থেকে ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে মাশরুম সংগ্রহ করা যায়। দুই কেজি ওজনের একটি স্পন প্যাকেট থেকে প্রায় দুই কেজি মাশরুম উৎপাদন হয়। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ কেজি তাজা মাশরুম বিক্রি করা সম্ভব। প্রতি কেজি কাঁচা মাশরুম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং শুকনো মাশরুম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
তিনি আরও জানান, উৎপাদিত মাশরুম সিলেটের বিভিন্ন সুপারশপ, নামিদামি রেস্টুরেন্ট এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও দেশের বিভিন্ন স্থানে মাশরুম পাঠানো হয়। বর্তমানে খামারটিতে প্রতিদিন চারজন শ্রমিক কাজ করছেন। ভবিষ্যতে উৎপাদন বৃদ্ধি করলে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বর্তমানে খামারে ৫শত এর বেশি স্পন প্যাকেট রয়েছে। এসব থেকে প্রায় ৫০০ কেজি মাশরুম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাসরেফুল আলম বলেন, “গোলাপগঞ্জে এই প্রথম বাণিজ্যিক ও ব্যক্তি উদ্যোগে মাশরুম চাষ শুরু হয়েছে। এসব খামার থেকে যে কেউ অল্প পুঁজিতে স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং বছরে লক্ষ লক্ষ টাকার মাশরুম বিক্রি করতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, “কফি বাগানে মাশরুম চাষে কৃষি বিভাগ সহযোগিতা করছে। নতুন কেউ মাশরুম চাষে আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে ঢাকায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।”
তিনি জানান, দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মাশরুম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।