ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

রামুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

এস. এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার
  • আপডেট সময় : ৪৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদীর তীব্র ভাঙনে কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল, ফতেখাঁরকুল, কাউয়ারখোপ, গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, ফসল ও সহায়-সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পক্ষ থেকে আসন্ন রামু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ডা. মাহমুদুল হক জনি দুর্গত পাঁচ ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এক হাজারের বেশি বানভাসি মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার, ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ করেন।
সরেজমিন পরিদর্শনের সময় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক চিত্র দেখা যায় গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে। নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বোমাংখিল এলাকার মৃত মোজাহের আহম্মেদের ছেলে আবু জাফরের বসতভিটা সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একইভাবে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছরি দক্ষিণকুল এলাকার সিরাজুল হকের ঘরবাড়িও নদীর করাল গ্রাসে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
ডা. মাহমুদুল হক জনি ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারের বাড়ির স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাদের দুর্দশার কথা শোনেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পক্ষ থেকে দুই পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।
গর্জনিয়ার পূর্ব বোমাংখিল এলাকার আবু জাফর বলেন, “নদী আমার সবকিছু নিয়ে গেছে। থাকার ঘরটুকুও নেই। এখন পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে। এই আর্থিক সহায়তা আমাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।”
কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ির সিরাজুল হক বলেন, “এক রাতের মধ্যে নদী আমাদের বসতভিটা গিলে ফেলেছে। এখন আমরা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
এছাড়া বন্যাকবলিত এলাকার আরও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও নগদ সহায়তা তাদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করলেও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, নদীভাঙন প্রতিরোধ, ঘর নির্মাণ এবং কৃষি পুনর্বাসনের জন্য সরকারি উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
ত্রাণ বিতরণকালে ডা. মাহমুদুল হক জনি বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নির্দেশনায় আমরা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। মানুষের এই দুর্যোগে মানবিক দায়িত্ব থেকেই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়দের মতে, বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতাও জরুরি। তারা দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রামুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

আপডেট সময় :

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদীর তীব্র ভাঙনে কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল, ফতেখাঁরকুল, কাউয়ারখোপ, গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, ফসল ও সহায়-সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পক্ষ থেকে আসন্ন রামু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ডা. মাহমুদুল হক জনি দুর্গত পাঁচ ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এক হাজারের বেশি বানভাসি মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার, ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ করেন।
সরেজমিন পরিদর্শনের সময় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক চিত্র দেখা যায় গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে। নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বোমাংখিল এলাকার মৃত মোজাহের আহম্মেদের ছেলে আবু জাফরের বসতভিটা সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একইভাবে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছরি দক্ষিণকুল এলাকার সিরাজুল হকের ঘরবাড়িও নদীর করাল গ্রাসে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
ডা. মাহমুদুল হক জনি ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারের বাড়ির স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাদের দুর্দশার কথা শোনেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পক্ষ থেকে দুই পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।
গর্জনিয়ার পূর্ব বোমাংখিল এলাকার আবু জাফর বলেন, “নদী আমার সবকিছু নিয়ে গেছে। থাকার ঘরটুকুও নেই। এখন পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে। এই আর্থিক সহায়তা আমাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।”
কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ির সিরাজুল হক বলেন, “এক রাতের মধ্যে নদী আমাদের বসতভিটা গিলে ফেলেছে। এখন আমরা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
এছাড়া বন্যাকবলিত এলাকার আরও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও নগদ সহায়তা তাদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করলেও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, নদীভাঙন প্রতিরোধ, ঘর নির্মাণ এবং কৃষি পুনর্বাসনের জন্য সরকারি উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
ত্রাণ বিতরণকালে ডা. মাহমুদুল হক জনি বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নির্দেশনায় আমরা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। মানুষের এই দুর্যোগে মানবিক দায়িত্ব থেকেই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়দের মতে, বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতাও জরুরি। তারা দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।