ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

নিয়ামতপুরে সরকারি নিয়ম ও সেচ নীতিমালা লঙ্ঘন করে এসটিডব্লিউ স্থাপন

মিলন হোসেন, নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
  • আপডেট সময় : ২৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ২ নং চন্দননগর ইউনিয়নের বামইন চিনোড়া গ্রামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নীতিমালা উপেক্ষা করে নির্ধারিত পরিমাপ না মেনে একটি অগভীর নলকূপ (এস টি ডব্লিউ) স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী কৃষক মৃত আবুল কাসেমের ছেলে অলিউল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, তিনি ২০১০ সালে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সকল নিয়মকানুন অনুসরণ করে এস টি ডব্লিউ স্থাপনের অনুমোদন পান এবং দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের সেচসেবা দিয়ে আসছেন। কিন্তু প্রায় ৯ বছর পর, ২০১৯ সালে একই গ্রামের টিমারু বর্মনের ছেলে সাধন বর্মন তার স্কিমের কমান্ডিং এরিয়ার মাত্র ৫০০ ফুট দূরে নতুন এসটিডব্লিউ স্থাপনের অনুমোদন পান। তার দাবি, এটি বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অলিউল্লার ভাষ্য, নতুন সংযোগ চালুর পর জোরপূর্বক তার স্কিমের আওতাভুক্ত জমিতে পানি সরবরাহ করা হয় এবং তার সঙ্গে থাকা কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্য উৎস থেকে তুলনামূলক বেশি মূল্যে পানি নিতে বাধ্য করা হয়। এতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার কারণে তিনি বিভিন্ন ধরনের হয়রানি, মামলা ও হামলার আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল ওয়াব বলেন, “আমরা চাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হোক। যদি নীতিমালা লঙ্ঘনের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে কৃষকরা উপকৃত হবেন।”
একই গ্রামের কৃষক মুকুল বলেন, এই সংযোগের কারণে স্থানীয় কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার বা ব্যাখ্যা জানতে অভিযুক্ত সাধন বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো বক্তব্য দেননি।
এ বিষয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তারিক আজিজ মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সেচ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নিয়ামতপুরে সরকারি নিয়ম ও সেচ নীতিমালা লঙ্ঘন করে এসটিডব্লিউ স্থাপন

আপডেট সময় :

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ২ নং চন্দননগর ইউনিয়নের বামইন চিনোড়া গ্রামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নীতিমালা উপেক্ষা করে নির্ধারিত পরিমাপ না মেনে একটি অগভীর নলকূপ (এস টি ডব্লিউ) স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী কৃষক মৃত আবুল কাসেমের ছেলে অলিউল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, তিনি ২০১০ সালে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সকল নিয়মকানুন অনুসরণ করে এস টি ডব্লিউ স্থাপনের অনুমোদন পান এবং দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের সেচসেবা দিয়ে আসছেন। কিন্তু প্রায় ৯ বছর পর, ২০১৯ সালে একই গ্রামের টিমারু বর্মনের ছেলে সাধন বর্মন তার স্কিমের কমান্ডিং এরিয়ার মাত্র ৫০০ ফুট দূরে নতুন এসটিডব্লিউ স্থাপনের অনুমোদন পান। তার দাবি, এটি বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অলিউল্লার ভাষ্য, নতুন সংযোগ চালুর পর জোরপূর্বক তার স্কিমের আওতাভুক্ত জমিতে পানি সরবরাহ করা হয় এবং তার সঙ্গে থাকা কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্য উৎস থেকে তুলনামূলক বেশি মূল্যে পানি নিতে বাধ্য করা হয়। এতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার কারণে তিনি বিভিন্ন ধরনের হয়রানি, মামলা ও হামলার আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল ওয়াব বলেন, “আমরা চাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হোক। যদি নীতিমালা লঙ্ঘনের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে কৃষকরা উপকৃত হবেন।”
একই গ্রামের কৃষক মুকুল বলেন, এই সংযোগের কারণে স্থানীয় কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার বা ব্যাখ্যা জানতে অভিযুক্ত সাধন বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো বক্তব্য দেননি।
এ বিষয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তারিক আজিজ মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সেচ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।