ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

​পঞ্চগড় এক বছরে সীমান্তে ৯৪ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য আটক

​পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৭৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও মানব পাচার রোধে গত এক বছরে রেকর্ড সাফল্য দেখিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন রংপুরের আওতাধীন বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের ধারাবাহিক অভিযানে প্রায় ৯৪ কোটি ৫২ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং আটক করা হয়েছে ৫৪৭ জন অপরাধীকে।
গতকাল বুধবার (২০ মে) পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রংপুর রিজিয়নের আওতাধীন ৪টি সেক্টরের ১৫টি ব্যাটালিয়ন এবং একটি বর্ডার গার্ড হাসপাতাল ১ হাজার ৬৬৮ দশমিক ৮৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। গত ১ মে ২০২৫ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানগুলোতে এই বিশাল সাফল্য আসে। বিগত এক বছরে সীমান্তে বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের একটি বড় তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেনসিডিল ও মদ: ২৫ হাজার ৬২ বোতল ফেনসিডিল এবং ১৭ হাজার ১১১ বোতল বিদেশি মদ। ইয়াবা ও গাঁজা: ৩০ হাজার ১৯০ পিস ইয়াবা এবং ৬৩ কেজি গাঁজা।
​নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও সিরাপ: ১ লাখ ২ হাজার ১৭৯ বোতল ভারতীয় সিরাপ, ২ লাখ ৫০ হাজার ৯২৩ পিস মেটাডক্সিন ট্যাবলেট এবং ১ লাখ ৮০ thousand ৩৫৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ইনজেকশন: ৪১ হাজার ৭২৬ পিস মারাত্মক নেশাজাতীয় ইনজেকশন। এছাড়াও সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবির বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে:
​১৪টি দেশি-বিদেশি পিস্তল, ৭টি ওয়ান শুটার গান এবং ২৫টি ম্যাগাজিন। ৭৫ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ৫ হাজার ৩৫০ রাউন্ড সিসা গুলি।
​এছাড়া বিদেশি মুদ্রার মধ্যে ২৪ হাজার ৬০২ মার্কিন ডলার, ৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৫৫ ভারতীয় রুপি এবং ৩ হাজার ইন্দোনেশিয়ান মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।
​গবাদিপশু, মানব পাচার ও অন্যান্য চোরাচালান ​অভিযানে ২ হাজার ২৫৩টি গরু, ৫৩৩টি মহিষ এবং ৩৪টি ছাগল জব্দ করা হয়। পাশাপাশি শাড়ি, লেহেঙ্গা, প্রসাধনী, ওষুধ, কম্বল, চিনি ও মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য আটক করা হয়। চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও নৌকাও জব্দ করা হয়েছে।
​এদিকে মানব পাচার প্রতিরোধে সীমান্ত থেকে ৬ পুরুষ, ৫ নারী ও ২ শিশুসহ মোট ১৩ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকায় এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
​প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বিজিবি সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্বেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তীব্র শীতে সাধারণ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, আর্থিক সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধেও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে রংপুর রিজিয়নের ব্যাটালিয়নগুলো।
​লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস (অধিনায়ক, পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন) বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সব ধরনের অপরাধ দমন করতে বিজিবি সর্বদা তৎপর। গত এক বছরে আমাদের ধারাবাহিক অভিযান ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তৎপরতার কারণেই এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য ও অস্ত্র জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমাদের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

​পঞ্চগড় এক বছরে সীমান্তে ৯৪ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য আটক

আপডেট সময় :

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও মানব পাচার রোধে গত এক বছরে রেকর্ড সাফল্য দেখিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন রংপুরের আওতাধীন বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের ধারাবাহিক অভিযানে প্রায় ৯৪ কোটি ৫২ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং আটক করা হয়েছে ৫৪৭ জন অপরাধীকে।
গতকাল বুধবার (২০ মে) পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রংপুর রিজিয়নের আওতাধীন ৪টি সেক্টরের ১৫টি ব্যাটালিয়ন এবং একটি বর্ডার গার্ড হাসপাতাল ১ হাজার ৬৬৮ দশমিক ৮৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। গত ১ মে ২০২৫ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানগুলোতে এই বিশাল সাফল্য আসে। বিগত এক বছরে সীমান্তে বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের একটি বড় তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেনসিডিল ও মদ: ২৫ হাজার ৬২ বোতল ফেনসিডিল এবং ১৭ হাজার ১১১ বোতল বিদেশি মদ। ইয়াবা ও গাঁজা: ৩০ হাজার ১৯০ পিস ইয়াবা এবং ৬৩ কেজি গাঁজা।
​নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও সিরাপ: ১ লাখ ২ হাজার ১৭৯ বোতল ভারতীয় সিরাপ, ২ লাখ ৫০ হাজার ৯২৩ পিস মেটাডক্সিন ট্যাবলেট এবং ১ লাখ ৮০ thousand ৩৫৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ইনজেকশন: ৪১ হাজার ৭২৬ পিস মারাত্মক নেশাজাতীয় ইনজেকশন। এছাড়াও সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবির বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে:
​১৪টি দেশি-বিদেশি পিস্তল, ৭টি ওয়ান শুটার গান এবং ২৫টি ম্যাগাজিন। ৭৫ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ৫ হাজার ৩৫০ রাউন্ড সিসা গুলি।
​এছাড়া বিদেশি মুদ্রার মধ্যে ২৪ হাজার ৬০২ মার্কিন ডলার, ৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৫৫ ভারতীয় রুপি এবং ৩ হাজার ইন্দোনেশিয়ান মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।
​গবাদিপশু, মানব পাচার ও অন্যান্য চোরাচালান ​অভিযানে ২ হাজার ২৫৩টি গরু, ৫৩৩টি মহিষ এবং ৩৪টি ছাগল জব্দ করা হয়। পাশাপাশি শাড়ি, লেহেঙ্গা, প্রসাধনী, ওষুধ, কম্বল, চিনি ও মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য আটক করা হয়। চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও নৌকাও জব্দ করা হয়েছে।
​এদিকে মানব পাচার প্রতিরোধে সীমান্ত থেকে ৬ পুরুষ, ৫ নারী ও ২ শিশুসহ মোট ১৩ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকায় এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
​প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বিজিবি সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্বেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তীব্র শীতে সাধারণ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, আর্থিক সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধেও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে রংপুর রিজিয়নের ব্যাটালিয়নগুলো।
​লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস (অধিনায়ক, পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন) বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সব ধরনের অপরাধ দমন করতে বিজিবি সর্বদা তৎপর। গত এক বছরে আমাদের ধারাবাহিক অভিযান ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তৎপরতার কারণেই এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য ও অস্ত্র জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমাদের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।”